kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ম্রো

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের একাদশ অধ্যায়ে ম্রোদের কথা উল্লেখ আছে]

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ম্রো

ম্রো একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী। এরা পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বপ্রাচীন এবং বান্দরবান জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতি। শুধু বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার সর্বত্রই নয়, বরং পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও ম্রো জাতিগোষ্ঠী বাস করে। ম্রোদের মুরং নামেও ডাকা হয়। মুরং শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ম্রো থেকে। ম্রো শব্দের অর্থ মানুষ এবং মুরং অর্থ মানবসমাজ।

ম্রোদের আদিনিবাস মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য। আনুমানিক ১৪৩০ সালে ম্রোরা বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদম, থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে।

ম্রোরা নিজেদের ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন। কয়েকটি পরিবার মিলে ম্রোদের এক একটি গোত্র গঠিত হয়। বর্তমান সময় পর্যন্ত ম্রোদের ঙারুয়া, নাইচাহ, তাম-তু-চাহ, ইয়ম্রে, কানবক, প্রেনজু, দেং এবং খউ প্রভৃতি গোত্রের নাম জানা যায়। একই দল বা গোত্রভুক্ত ছেলেমেয়েদের বিয়ে নিষিদ্ধ। ম্রোদের বংশ পরিচয় পিতৃতান্ত্রিক।

ম্রোরা মূলতঃ প্রকৃতি পূজারি। তাদের তিনজন দেবতা আছে—তুরাই, সাংতুং ও ওরেং। তুরাই বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা, সাংতুং পাহাড়ের দেবতা এবং ওরেং নদীর দেবী। কোনো কিছু শুরুর আগে ম্রোরা তুরাইয়ের নামে শপথ নেয়। সাংতুংকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং জুমচাষে ভালো ফসল পাওয়ার আশায় তারা এই পাহাড় দেবতার কাছে প্রার্থনা করে থাকে। গ্রামবাসীর মঙ্গল কামনায় এবং মহামারি ও অশুভ শক্তিকে বিতাড়নের জন্য তারা দলগতভাবে ওরেংয়ের পূজা করে। তারা পরজন্মে বিশ্বাসী নয়। দৈনন্দিন জীবনযাপনে ম্রোদের মধ্যে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব লক্ষণীয়। এদের একাংশ খ্রিস্টান ধর্মমতে বিশ্বাসী। ম্যানলে নামে এক ম্রো প্রবর্তিত নতুন ধর্ম ‘ক্রামা’ চালুর পর বেশ কিছুসংখ্যক লোক এই ধর্মে দীক্ষিত হয়।

নারী-পুরুষ উভয়ের কান ফুটো করার রীতি আছে ম্রো সমাজে। এই রীতিকে ম্রোদের ভাষায় বলে ‘রইক্ষারাম’। ম্রোদের ধর্মীয় বিধি-নিষেধ সংবলিত কোনো ধর্মগ্রন্থ নেই। তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের নাম ‘চিয়া-ছট-প্লাই’ অর্থাৎ গো-হত্যা উৎসব। কলাপাতায় লিপিবদ্ধ করা সৃষ্টিকর্তার পাঠানো ম্রোদের ধর্মীয় বিধান ক্ষুর্ধাত এক ষাঁড় খেয়ে ফেলার শাস্তিস্বরূপ গো-হত্যা করে এই ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়।

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ম্রোদের মোট জনসংখ্যা ২২ হাজার ১৭৮ জন।                           

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা