kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

টেলিভিশন

[সপ্তম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে টেলিভিশনের কথা উল্লেখ আছে]

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টেলিভিশন

টেলিভিশন হচ্ছে এমন একটি যন্ত্র, যা থেকে একই সঙ্গে ছবি দেখা ও শব্দ শোনা যায়। গ্রিক শব্দ টেলি এবং লাতিন শব্দ ভিশন থেকে টেলিভিশন শব্দের উৎপত্তি। টেলি অর্থ দূরত্ব এবং ভিশন অর্থ দেখা। অর্থাৎ শাব্দিক অর্থে টেলিভিশন অর্থ হচ্ছে দূরের কিছু দেখা। তাই টেলিভিশনকে বাংলায় দূরদর্শন যন্ত্রও বলা হয়।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে প্রথম টেলিভিশন আবিষ্কার করেন। এরপর ১৯৩৬ সালে রুশ বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী আইজাক শোয়েনবার্গের কৃতিত্বে প্রথম টেলিভিশন চ্যানেল বিবিসি সম্প্রচার শুরু করে।

টেলিভিশন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ১৯৪০ সালে চালু হলেও ১৯৪৫ সালে যন্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই উন্নত দেশগুলোতে টেলিভিশনের নিয়মিত সম্প্রচার শুরু হয়। তবে উপমহাদেশে টেলিভিশন এসেছে প্রায় দুই দশক পরে। বাংলাদেশে ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর বেসরকারি উদ্যোগে টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু হয়। সে সময় এটি পাকিস্তান টেলিভিশন নামে পরিচিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ টেলিভিশন রাখা হয়।

মূলত তিনটি প্রযুক্তির সমন্বয়ে সৃষ্ট হয় টেলিভিশনের আউটপুট। টিভি ক্যামেরা শব্দ ও ছবিকে তড়িেচৗম্বকীয় সংকেতে রূপান্তর করে, টিভি ট্রান্সমিটার এই সংকেতকে বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে প্রেরণ করে এবং টিভি সেট এই সংকেত গ্রহণ করে তাকে আগের ছবি ও শব্দে রূপান্তরিত করে। টিভি সেট ছবি ও শব্দের সিগন্যাল অ্যান্টেনা, কেবল ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পেয়ে থাকে।

ডিসপ্লে বা প্রদর্শনীর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে টেলিভিশনকে সিআরটি, প্লাজমা, এলসিডি, এলইডিসহ বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা যায়। সম্প্রচার থেকে প্রদর্শন পর্যন্ত টেলিভিশনের সম্পূর্ণ পদ্ধতিকে আবার অ্যানালগ টেলিভিশন, ডিজিটাল টেলিভিশন এবং এইচডিটিভি—এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। টেলিভিশন বিগত শতাব্দীর বিস্ময়কর আবিষ্কার, যা কি না বিশ্বসমাজকে অভূতপূর্বভাবে বদলে দিয়েছে। প্রযুক্তির ক্রমবিকাশের সঙ্গে টেলিভিশন এখন মুহূর্তের মধ্যে সারা বিশ্বকে গৃহে উপস্থিত করছে। বর্তমানে পৃথিবীর চারপাশে শত শত উপগ্রহের পরিভ্রমণের ফলে আমরা পাচ্ছি অসংখ্য স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল।

টেলিভিশন বর্তমানে আমাদের বিনোদনের সঙ্গী। তবে অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

     

► ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা