kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

বসুন্ধরা খাতা | জানা-অজানা

কাঁচি

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কাঁচি

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের নবম অধ্যায়ে কাঁচির কথা উল্লেখ আছে]

কাঁচি বা কেঁচি হালকা বস্তু কাটার হস্তচালিত যন্ত্র। কাঁচি বানানো হয় দুটি ধারালো লৌহ নির্মিত ফলা দ্বারা। ফলার ধারালো দিক দুটি পরস্পরের দিকে মুখ করে থাকে। ফলা দুটি একটি স্ক্রুর সাহায্যে এমনভাবে সংযুক্ত থাকে, যাতে স্ক্রুর এক পাশে ফলা দুটিকে প্রয়োজনে পাশাপাশি ও দূরে রাখা যায়। সংযুক্ত স্ক্রুর অপর পাশে, প্রতিটি ফলার বিপরীত দিকে থাকে একটি করে হাতল। হাতলে আঙুল ঢোকানোর জন্য রিংয়ের মতো গোল ডিজাইন করা থাকে। হাত দুটিকে বল প্রয়োগ করে কাছাকাছি নিয়ে এলে বিপরীত পাশের ধারালো ফলা কাছাকাছি চলে আসে। ফলে মাঝে কোনো পাতলা বস্তু রাখলে তা কেটে যায়। সাধারণত কাগজ, দড়ি, কাপড় ইত্যাদি কাটতে কাঁচি ব্যবহৃত হয়। আবার কাজের ভিন্নতার কারণে, ভিন্ন ভিন্ন বস্তু কাটার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের কাঁচি ব্যবহার করা হয়। যেমন—চুলকাটা জন্য এক ধরনের পাতলা কাঁচি, বাগানের গাছের পাতা বা ডাল ছাঁটার জন্য বড় ভারী কাঁচি, আবার রান্নার বিভিন্ন সবজি কাটার জন্য নির্মিত হয় বিশেষ ধরনের কাঁচি।

কাঁচির ইতিহাস অনেক পুরনো। সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালে প্রাচীন মিসরে কাঁচি আবিষ্কৃত হয়। সবচেয়ে পুরনো কাঁচি পাওয়া যায় মেসোপটেমিয়ায়। কাঁচিটি তৈরি হয়েছিল তিন হাজার থেকে চার হাজার বছর আগে। সেই কাঁচিকে বলা হতো স্প্রিং সিজার বা বসন্ত কাঁচি। এই কাঁচিগুলোতে ছিল দুটি ব্রোঞ্জের ব্লেড, যা বাঁকানো ব্রোঞ্জের পাতলা, নমনীয় দণ্ডের সাহায্যে সংযুক্ত থাকে। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপে এ ধরনের কাঁচির ব্যবহার অব্যাহত ছিল।

১০০ শতাব্দীর দিকে বর্তমানে ব্যবহৃত আধুনিক ধারার অর্থাৎ স্ক্রু ব্যবহার করে দুই ফলার সংযোগে কাঁচি নির্মাণ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিল রোমানরা।

বর্তমানে কাঁচি একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু। চিকিৎসাক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সময়ও এই কাঁচির ব্যবহার দেখা যায়।   

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা