kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বসুন্ধরা খাতা | জানা - অজানা

টেলিফোন

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টেলিফোন

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল

[পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের শব্দদূষণ প্রবন্ধে টেলিফোনের কথা উল্লেখ আছে]

টেলিফোন মানুষের মুখের কথা তাত্ক্ষণিক প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র। টেলিফোন একটি ইংরেজি শব্দ। টেলি অর্থ দূর এবং ফোন অর্থ ধ্বনি। অর্থাৎ শাব্দিক অর্থে টেলিফোন হচ্ছে দূরের কোনো মানুষের ধ্বনি তথা কথা শোনার যন্ত্র। বাংলায় এ যন্ত্রটিকে দূরভাষ বা দূরালাপনী নামেও ডাকা হয়। এর মাধ্যমে একে অপর থেকে বহু দূরে অবস্থিত একাধিক ব্যক্তি মৌখিকভাবে যোগাযোগ করতে পারে। বর্তমানে এটি বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত যোগাযোগ যন্ত্র। সারা বিশ্বে শত শত কোটি টেলিফোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। টেলিফোনের মাধ্যমে হাজার হাজার মাইল দূরের মানুষের সঙ্গেও কথা বলা যায়। 

আমরা যখন কথা বলি, তখন টেলিফোনের মাউথপিসের মাইক্রোফোনটি সেই কণ্ঠস্বরের শব্দতরঙ্গকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে। এ সংকেত টেলিফোনের তার দিয়ে অপর প্রান্তের টেলিফোনের ইয়ারপিসে যায়। এটি তড়িৎ সংকেতকে আবার শব্দে রূপান্তর করে। ফলে অপর প্রান্তের গ্রাহক প্রেরকের কথা শুনতে পায় এবং জবাব দেয়। তার জবাব একইভাবে প্রথমজনের ইয়ারপিসে আসে এবং গ্রাহকের কথা শুনতে পারে।

১৮৭৬ সালে মার্কিন উদ্ভাবক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল প্রথম টেলিফোন যন্ত্র আবিষ্কারের জন্য স্বীকৃতি পান। তিনি বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে মুখের কথা পাঠানোর যন্ত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সনদ লাভ করেন। এর ২০ বছরের মধ্যে টমাস ওয়াটসন, এমিল বার্লিনার, টমাস আলভা এডিসন ও অন্যদের গবেষণার ফলে টেলিফোন যন্ত্রের নকশা এমন একটি স্থিতিশীল রূপ নেয়, যা পরবর্তী প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মৌলিকভাবে অপরিবর্তিত থাকে।

১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কার হয়। ট্রানজিস্টরের আবির্ভাবের পর টেলিফোনের ধাতব তার ও ভারী ওজনের যন্ত্রপাতির পরিবর্তে হালকা ওজনের ও ঘনবিন্যস্ত বর্তনীসমৃদ্ধ টেলিফোন তৈরি শুরু হয়। টেলিফোনকে আরো আধুনিকায়ন করা হয় এবং ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এতে বেশ কিছু নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়। যেমন—স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃ সংযোগ স্থাপন করা, টেলিফোনে ডাকদাতার নম্বর শনাক্তকরণ, টেলিফোনে ডাকদাতাকে অপেক্ষা করানো, টেলিফোনের ডাক নতুন কাউকে হস্তান্তর করা, তারহীন সম্প্রচার, দৃশ্যমান উপাত্ত পর্দা ইত্যাদি। এসব বৈশিষ্ট্য টেলিফোনের মূল নকশার কোনো পরিবর্তন আনেনি, বরং সম্পূরক ভূমিকা পালন করেছে। শুরুর দিকে টেলিফোনের তারব্যবস্থা ব্যবহার করেই ইন্টারনেটে সংযুক্ত করতে হতো।   

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা