kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

তেঁতুল

৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তেঁতুল

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের সুভা গল্পে তেঁতুলের কথা উল্লেখ আছে]

তেঁতুল Fabaceae পরিবারের Tamarindus গণের অন্তর্ভুক্ত টকজাতীয় একটি বৃহৎ ও সুদৃশ্য চিরসবুজ ফলের বৃক্ষ।

এর বৈজ্ঞানিক নাম : Tamarindus indica.

এই গাছ প্রায় ২৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। তেঁতুলগাছের আদি নিবাস আফ্রিকা। তবে বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচুর পরিমাণে তেঁতুলগাছ জন্মে। তেঁতুল আমাদের দেশের বসন্তকালের টকজাতীয় ফল হলেও সারা বছর পাওয়া যায়। অনেকেরই ধারণা, তেঁতুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ভেষজ গুণ।

পাকা তেঁতুল টক-মিষ্টি হয়ে থাকে। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার এসিড, চিনি, ভিটামিন ‘বি’ এবং ক্যালসিয়াম।

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপ্রেসার তাত্ক্ষণিকভাবে উপশম হয় কাঁচা অথবা পাকা তেঁতুল খেলে। তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকায় খাবার হজমে সহায়তা করে। পেটের বায়ু, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী।

তেঁতুল দিয়ে কবিরাজি, আয়ুর্বেদীয়, হোমিও ও অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করা হয়। পাকা তেঁতুলে মোট খনিজ পদার্থ সব ফলের চেয়ে অনেক বেশি। তেঁতুলে খাদ্যশক্তির পরিমাণ নারকেল ও খেজুর ছাড়া সব ফলের চেয়ে অনেক বেশি। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি আছে। তেঁতুলে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান স্বাভাবিক পরিমাণে আছে।

তেঁতুল রক্তের কোলেস্টেরল কমায়। মেদভুঁড়ি কমায়। পাকা তেঁতুল কফ ও বায়ুনাশক এবং খিদে বাড়ায়। তেঁতুলগাছের ছাল, ফুল, পাতা, বিচি ও ফল সবই ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তেঁতুলবীজের শাঁস পুরনো পেটের অসুখে উপকারী। তেঁতুল পাতার রস কৃমিনাশক ও চোখ ওঠা সারায়। মুখে ঘা হলে পাকা তেঁতুলজলে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায়। কাঁচা তেঁতুল গরম করে আঘাত পাওয়া স্থানে প্রলেপ দিলে ব্যথা সারে। তেঁতুলগাছের শুকনো বাকলের প্রলেপ ক্ষতস্থানে লাগালে ক্ষত সারে। পুরনো তেঁতুল খেলে আমাশয়, কোষ্ঠবদ্ধতা ও পেট গরমে উপকার পাওয়া যায়। পুরনো তেঁতুল খেলে কাশি সারে। তেঁতুলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা