kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

সৃজনশীল প্রশ্ন

নবম-দশম শ্রেণি । বাংলা প্রথম পত্র

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নবম-দশম শ্রেণি । বাংলা প্রথম পত্র

পদ্য

আশা : সিকান্দার আবু জাফর

লোক : আমি একজন সুখী মানুষ। সারা দিন বনে বনে কাঠ কাটি। সেই কাঠ বাজারে বেচি। যা পাই, তাই দিয়ে চাল কিনি, ডাল কিনি। মনের সুখে খেয়েদেয়ে গান গাইতে গাইতে শুয়ে পড়ি। এক ঘুমেই রাত কাবার।

হাসু : বনের মধ্যে একলা ঘরে তোমার ভয় করে না? যদি চোর আসে?

লোক : চোর আমার কী চুরি করবে?

হাসু : তোমার সোনাদানা, জামা, জুতা?

      (লোকটি প্রাণখোলা হাসি হাসছে)

রহমত : হা হা করে পাগলের মতো হাসছ কেন ভাই।

লোক : তোমাদের কথা শুনে হাসছি। চোরকে তখন বলব, নিয়ে যাও, আমার যা কিছু আছে নিয়ে যাও।

হাসু : তুমি তাহলে সত্যিই সুখী মানুষ!

লোক : আমি সুখের রাজা। আমি মস্ত বড় বাদশা।

রহমত : ও বাদশা ভাই, তোমার গায়ের জামা কোথায়? জামাটা নিয়ে এসো।

লোক : আমার তো কোনো জামা নাই ভাই। আমার ঘরে কিছু নাই। সে জন্যই তো আমি সুখী মানুষ।

 

ক) সিকান্দার আবু জাফরের গণসংগীত ও কবিতা কোন প্রেরণায় সমৃদ্ধ?

উত্তর : সিকান্দার আবু জাফরের গণসংগীত ও কবিতা মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রেরণায় সমৃদ্ধ।

খ) কবি কেন আত্মকেন্দ্রিকতাকে অতিক্রম করতে চান? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : প্রকৃত মনুষ্যত্বের অধিকারীদের সান্নিধ্য পেতে কবি আত্মকেন্দ্রিকতাকে অতিক্রম করতে চান।

‘আশা’ কবিতার কবি সিকান্দার আবু জাফর লক্ষ করেছেন যে জাগতিক এই পৃথিবী ক্রমেই জটিল হয়ে আসছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের বাড়ছে ব্যবধান। বিত্তবৈভব অর্জন আর সুখের দুর্ভাবনায় তাদের আয়ু কমে যাচ্ছে। তাই কবি আত্মকেন্দ্রিকতাকে অতিক্রম করে যেতে চাইছেন সেই সব মানুষের কাছে, যারা প্রকৃত অর্থেই মানুষ।

 

গ) উদ্দীপকের লোকের মানসিকতা ‘আশা’ কবিতার কবির সঙ্গে কিভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকের লোকের মানসিকতা ‘আশা’ কবিতার কবির সঙ্গে অল্পতেই সুখী হওয়ার ক্ষমতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘আশা’ কবিতার কবি বলেছেন যে কে কিভাবে সুখী হবে তা নির্ধারিত নয়। মানুষ গতানুগতিকভাবে অর্থ-সম্পদের মধ্যে সুখ খোঁজে। প্রকৃতপক্ষে এতে সুখ তো আসেই না, বরং জীবন আরো যন্ত্রণাময় হয়। বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনা ওই সব মানুষকে সুখ না দিয়ে জীবনের আয়ু আরো কমিয়ে দেয়। কিন্তু প্রকৃত সুখী মানুষের অর্থ-সম্পদ না থাকায় ঘুমের সমস্যা হয় না। তারা জীর্ণ কুটিরে নিশ্চিন্তে পরম শান্তিতে ঘুমাতে পারে। কবিও তেমনি সে রকম এক জীবনযাপনের মাঝে যেতে চান, যেখানে ভাঙা বেড়ার ঘরেও মানুষ নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকতে পারে। অর্থ-সম্পদের পাহাড় না জমিয়ে, মনের মধ্যে সে জন্য কোনো দীনতা, গ্লানি, সংশয় না রেখে, প্রতিবেশীকে সাহায্য করে, মানুষকে ভালোবেসে তিনি সুখী হতে চান।  

উদ্দীপকের লোকটিও সারা দিন কাঠ কেটে তা বাজারে বেঁচে যা পায়, তা দিয়ে দিনাতিপাত করে এবং সে জন্য তার মনে বিন্দুমাত্র গ্লানি তো নেই-ই বরং কিছু না থাকার জন্য সে নিজেকে সুখী মনে করে। তার অল্পে সুখী হওয়ার এই ক্ষমতার দিকটি ‘আশা’ কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) উদ্দীপকের লোকটির দর্শনই যেন ‘আশা’ কবিতার ভাববস্তু—মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

উত্তর

সুখ ও শান্তি লাভের জন্য অর্থবিত্ত মানুষের মানসিক শান্তি হরণ করে জীবনকে করে তোলে যন্ত্রণাময়—উদ্দীপকের লোকটির এই জীবনদর্শনই ‘আশা’ কবিতার ভাববস্তু।

‘আশা’ কবিতার কবি গতানুগতিভাবে মানুষ যেভাবে সুখী হয়, সেভাবে সুখী হওয়ার কথা বলেননি। জাগতিক এই পৃথিবী ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠায় মানুষের সঙ্গে মানুষের বাড়ছে ব্যবধান। মানুষ ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় মানসিক শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। বিত্তবৈভব অর্জন আর সুখের দুর্ভাবনায় মানুষের আয়ু কমে যাচ্ছে। কিন্তু কবি এসব অতিক্রম করে যেতে চাইছেন সেই সব মানুষের কাছে, যাঁরা প্রকৃত অর্থের মানুষ; মনুষ্যত্বের আলো যাঁরা জ্বালিয়ে রেখেছেন। দরিদ্র হলেও এই মানুষ বিত্তের পেছনে ছোটে না। সোনা-রুপার পাহাড় গড়ে তোলে না। জীর্ণ ঘরে বসবাস করেও তারা সুখী। তুচ্ছ, ছোট ছোট আনন্দে অবগাহনেই তাদের দিন কাটে। সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর হয়তো তাদের একটি দিনের আহার্যও জোটে না, তবু কোনো দুরাশা বা গ্লানি তাদের গ্রাস করে না। কোনো দীনতা বা সংশয়ে তাদের জীবন ক্লিষ্ট নয়। দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও তারা মানুষকে ভালোবাসতে, প্রতিবেশীকে সাহায্য করতে পারে। কবি তাই মনুষ্যত্বের অধিকারী এসব মানুষের সান্নিধ্য পেতে চাইছেন, হারিয়ে যেত চাইছেন তাদের মাঝে।

উদ্দীপকের কাঠুরে কাঠ কেটে বিক্রীত অর্থে চাল-ডাল কিনে, খেয়েদেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে। তার সামান্য সম্পদ, এমনকি গায়ের জামা না থাকলেও তার মানসিক প্রশান্তির অভাব নেই।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, সুখী হওয়ার জন্য অর্থবিত্ত নয়, বরং মানসিক শান্তির প্রয়োজন, যা উদ্দীপকের লোকটির রয়েছে। লোকটির এই জীবনদর্শনই ‘আশা’ কবিতার ভাববস্তু।

মন্তব্য