kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ক্যাঙ্গারু

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ক্যাঙ্গারু

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে সুন্দরবনের প্রাণী প্রবন্ধে ক্যাঙ্গারুর কথা উল্লেখ আছে]

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পশু ক্যাঙ্গারু। স্তন্যপায়ী এই প্রাণী দেশটির আশপাশের কয়েকটি অঞ্চল ছাড়া অন্যত্র দেখা যায় না বললেই চলে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মায়োসিন যুগে ক্যাঙ্গারু অস্ট্রেলিয়ায় বসতি গাড়ে।

ঁজানা যায়, ১৭৭০ সালে লেফটেন্যান্ট জেমস কুক ও স্যার জোসেফ ব্যাংকস অস্ট্রেলিয়ার কুকটাউন এলাকায় তাঁদের জাহাজ নোঙর করেন। একদিন তাঁরা একটি অদ্ভুত প্রাণী দেখতে পান। স্থানীয়দের কাছে নাম জানতে চাইলে তাঁরা জবাব দেন—ক্যাঙ্গারু। মজার ব্যাপার হলো, কুক ও ব্যাংকসের প্রশ্ন না বুঝেই উত্তর দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষায় ক্যাঙ্গারু অর্থ ‘আমি তোমার কথা বুঝতে পারিনি।’ সেই থেকে প্রাণীটি ক্যাঙ্গারু নামে পরিচিত।

পৃথিবীতে প্রায় ৫০ প্রজাতির ক্যাঙ্গারু আছে। এর মধ্যে লাল ও ধূসর ক্যাঙ্গারু আকারে বড় হয়। লম্বায় প্রায় দুই মিটার আর ওজনে ৮৫ কেজি। সবচেয়ে ছোট ক্যাঙ্গারুর নাম ইঁদুর ক্যাঙ্গারু। এরা এক ফুটের কাছাকাছি হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সুদূর অতীতে ক্যাঙ্গারু আকারে অনেক বড় ছিল। ওজন ছিল প্রায় ২০০ কেজি। ক্যাঙ্গারু মারসুপিয়াল গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। শুকনো এলাকা এদের বেশি পছন্দ।

তৃণভোজী এই প্রাণীটি ঘাস, লতাপাতা খেয়েই বেঁচে থাকে। সামনের পা দুটি ছোট, পেছনের দুই পা বড়। লম্বা লেজে ভর করে চলে। সাধারণত লাফিয়ে লাফিয়েই চলে। একটি পূর্ণবয়স্ক ক্যাঙ্গারু ৩০ ফুট পর্যন্ত লাফাতে পারে। এদের লাফানোর গতি চিতাবাঘের চেয়েও বেশি। এভাবে এরা এক দিনে ৪৮ কিলোমিটার পর্যন্ত লাফিয়ে চলতে পারে। লাফানোর সময় এদের লেজ শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে।

পৃথিবীর অন্য প্রাণী থেকে ক্যাঙ্গারুর আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো এদের থলে। মেয়ে ক্যাঙ্গারুর পেটের কাছে বড় আকারের একটি থলে থাকে। এই থলেতে তারা বাচ্চা বহন করে। বাচ্চা ক্যাঙ্গারু থলেতে থাকতে পারে প্রায় চার মাস বয়স পর্যন্ত।

অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাঙ্গারুর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি হিসাব মতে, ২০১৬ সালে ক্যাঙ্গারুর সংখ্যা ছিল সাড়ে চার কোটি, যা দেশটির মানুষের সংখ্যার দ্বিগুণ।

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা