kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

বায়ু টারবাইন

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বায়ু টারবাইন

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের এয়োদশ অধ্যায়ে বায়ু টারবাইনের কথা উল্লেখ আছে]

বায়ু টারবাইন হলো এমন এক যন্ত্র, যাতে বায়ুর প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুত্শক্তি উৎপাদন করা যায়।

এই টারবাইন একটি সহজ নীতির ওপর কাজ করে। বায়ু যখন টারবাইনের পাখার মধ্য দিয়ে যায়, তখন বায়ুুর গতিশক্তি এই পাখাগুলোকে ঘুরতে সাহায্য করে। পাখাগুলোর সঙ্গে রোটর লাগানো থাকে। রোটর বায়ুর প্রবাহে পাখা ঘোরার ফলে সক্রিয় হয় এবং বাতাসের গতিশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপ দেয়। পাখার ঘোরার ফলে পাখার সঙ্গে সংযুক্ত মোটর ঘুরতে শুরু করে। মোটরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে গিয়ার বক্স। গিয়ার বক্সের কাজ হলো, অল্প গতিতে ঘুরতে থাকা শ্যাফটের গতিকে বেশি গতিতে রূপান্তরিত করা। এখানে শ্যাফট বলতে বোঝানো হয়েছে মোটরের দণ্ডকে, যার সঙ্গে গিয়ার বক্স লাগানো আছে।

গিয়ার বক্সের ঠিক পেছনেই থাকে জেনারেটর। জেনারেটর কাজ হচ্ছে গিয়ার বক্সের গতিশক্তিকে ধারণ করে বিদ্যুত্শক্তিতে রূপান্তর করা। এভাবেই বায়ু টারবাইন বায়ুর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

চার্লস ফ্রান্সিস ব্রুস ১৮৮৭-৮৮ সালে প্রথম বায়ুু টারবাইন নির্মাণ করেন, যা একটি ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুতের উৎপাদনের জন্য জেনারেটরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ১৮৯১ সালে ডেনিশ পদার্থবিজ্ঞানী এবং উদ্ভাবক পল লা চউর প্রথম বায়ু ঘূর্ণনযন্ত্র পরীক্ষা করেন। ১৯০০ সালের কাছাকাছি তিনি বায়ুচালিত বিদ্যুৎ প্লান্টের বিকাশ শুরু করেন।

বায়ু টারবাইন একটি টাওয়ারের ওপর থেকে  বেশির ভাগ শক্তি ধারণ করে। সাধারণত ৩০ মিটার বা এর অধিক উচ্চতাসম্পন্ন টাওয়ার বায়ু থেকে দ্রুত ঘূর্ণনের সুবিধা নিতে পারে। বায়ু টারবাইন থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ একটি বাড়িতে, বহুতল ভবনে বা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য সংযুক্ত থাকতে পারে।

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ২০০৫ সালে মুহুরী বাঁধ এলাকায় একটি ০.৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ুশক্তি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়, যা জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় চালু হয় এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি বায়ুচালিত টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা