kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

জানা-অজানা

বাজরা

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে ‘বাজরা’র কথা উল্লেখ আছে]

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাজরা

বাজরা (Pearl Millet) ঘাসজাতীয় একটি দানাদার শস্য। এটি গ্লুটেনমুক্ত, ফাইবার শস্যসমৃদ্ধ, পুষ্টিকর এবং সহজে হজমযোগ্য সুপারফুড হিসেবেও বিবেচিত। এটি আকার ও আকৃতির দিক থেকে বার্লির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে এতে ফাইবার আছে বার্লির চেয়েও বেশি। প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে ভারত ও আফ্রিকায় এটির ব্যাপক চাষ হয়ে আসছে। বাংলাদেশে নতুন হলেও পুষ্টিগুণের কারণে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

বাজরা আটার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাজরার রুটি আটার রুটির চেয়ে বেশি পুষ্টিকর ও উপকারী। বাজরায় আয়রন ও এনার্জির পরিমাণ আটার তুলনায় বেশি। পাশাপাশি ক্ষতিকর কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম। এ ছাড়া এতে আছে প্রোটিন ও অ্যামিনো এসিড, যা আমাদের দেহগঠন ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বাজরায় প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম থাকে। তাই নিয়মিত বাজরা খেলে ডায়াবেটিসের আশঙ্কা কম হয়। এ ছাড়া এটি হার্টকে সুস্থ রাখে, গলব্লাডারে স্টোন হওয়া আটকায়, পাচনতন্ত্র ভালো রাখে, ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে, অ্যানিমিয়া ও টক্সিন দূর করে। এতে আছে ফলের সমপরিমাণ পুষ্টিগুণ। ফল বা সবজির মধ্যে যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান থাকে, তার সমপরিমাণে থাকে বাজরায়ও। তাই ফল খেলে যে উপকার হয়, তা আমরা সমানভাবে পেতে পারি বাজরা থেকেও।

বাজরা বাচ্চাদের জন্য উপকারী। ছয় মাস বয়সের পর থেকে নিয়মিত বাজরা খেলে বাচ্চার হাড় শক্ত হয়, দৈহিক গঠন বৃদ্ধি পায়, ওজন ঠিক থাকে এবং পরিপাকতন্ত্র সবল থাকে।

আমাদের দেশে বাজরা প্রধানত জুন-জুলাই মাসে চাষ করা হয়। বৃষ্টি না হলে বাজরা চাষে সেচের প্রয়োজন হয়। তবে জলাবদ্ধ জমিতে এরা বাঁচতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্ক গাছ কেটে রোদে শুকিয়ে বাজরা সংগ্রহ করা হয়।               

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা