kalerkantho

রবিবার । ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ ফাল্গুন ১৪২৬। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪১

এইচএসসি প্রস্তুতি : বাংলা প্রথম পত্র

মো. শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, খিলগাঁও, ঢাকা

৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এইচএসসি প্রস্তুতি : বাংলা প্রথম পত্র

নবাব সিরাজউদ্দৌলা

উপন্যাস : লালসালু

১। বিরামপুর গ্রামে প্রায় সবাই কৃষিজীবী। জমির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাদের প্রাণ ফসল তাদের মুখে হাসি আনে। ফসলহানি তাদের জীবনের দুর্ভোগ ডেকে আনে। শত কষ্টে তারা জীবনকে উপভোগ করে। অগ্রহায়ণের নবান্ন উৎসবের সঙ্গে নাচ-গানের অনুষ্ঠান তো আছেই। জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত এসব মানুষ আসলে আনন্দ, ঠাট্টা-তামাশার মাঝে বেঁচে থাকে। বিভিন্ন সামাজিক উৎসব তাদের আনন্দের খোরাক জোগায়। এলাকার চেয়ারম্যান আজাদ এসব একেবারে পছন্দ করেন না। তাঁর ধারণা, সাধারণ মানুষের নির্মল আনন্দ সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অশ্লীলতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ক) মজিদের সঙ্গে কার শক্তির প্রভেদ রয়েছে?

খ) ‘মজিদের শক্তি আসে ওপর থেকে, আসে ওই সালু কাপড়ে আবৃত মাজার থেকে’—ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকের আজাদ ‘লালসালু’ উপন্যাসের কার কথা মনে করে দেয়? আলোচনা করো।

ঘ) ‘মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জীবন প্রবাহে বাধা সামাজিক সুস্থতা ব্যাহত করে’—উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর

ক) মজিদের সঙ্গে খালেক ব্যাপারীর শক্তির প্রভেদ আছে।

খ) মজিদের ক্ষমতার উৎস যে সৃষ্টিকর্তা এবং মাজার, আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে সে কথাই বোঝানো হয়েছে।

মজিদ মাজার ব্যবসার মধ্য দিয়ে যেমন অতি অল্প সময়ে প্রচুর অর্থ-সম্পদ লাভ করেছিল, তেমনি অনেক প্রভাব-প্রতিপত্তি ও শক্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। আর মজিদের এই শক্তির উৎস ছিল সৃষ্টিকর্তা এবং মাজার ব্যবসা। কারণ ওই অঞ্চলের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ ব্যক্তি মজিদের চেয়ে সৃষ্টিকর্তা এবং মাজারকেই বেশি ভয় পেত। তাদের ধারণা, শীর্ণকায় এ মানুষটির পেছনে মাজার এবং সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন। আর তাদের এই ভয়কে পুঁজি করেই মজিদ রাতারাতি অনেক শক্তি অর্জন করেছিল। তাই বলা হয়েছে, মজিদের শক্তি আসে ওপর থেকে, আসে ওই সালু কাপড়ে আবৃত মাজার থেকে।

 

২। আতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। নিজ গ্রামের বাড়িতে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি। গ্রামের সবাই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় বই, অর্থ ও ঘর দিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করতে থাকেন; কিন্তু মসজিদের ইমাম এতে বাধা দেন এবং বলতে থাকেন লাইব্রেরির চেয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আতিক ইমাম সাহেব এবং গ্রামবাসীকে বোঝাতে সক্ষম হন যে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে মানুষের ধর্ম-কর্ম বুঝতে সুবিধা হবে। এতে সবাই সম্মত হয়।

ক) ‘ঠগ-পীরের পানি পড়ায় কি কাম হয়?’ উক্তিটি কার?

খ) ‘তা এই বদ-মতলব কেন হইল?’—ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকের আতিক ‘লালসালু’ উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রকে কোন দিক থেকে প্রতিনিধিত্ব করে, ব্যাখ্যা করো।

ঘ) ‘উদ্দীপকের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল হলেও আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল হয়নি’—বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর

ক)  ঠগ-পীরের পানি পড়ায় কি কাম হয়, উক্তিটি খালেক ব্যাপারীর।

খ) তা এই বদ-মতলব কেন হইল, উক্তিটি মজিদ আক্কাসের উদ্দেশে করেছিল। এখানে বদ-মতলব বলতে ব্যাঙ্গার্থে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বোঝানো হয়েছে।

বিদেশ ফেরত উদ্যমী যুবক আক্কাস গ্রামের মানুষের দুর্দশার কথা চিন্তা করে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এটি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ ছিল; কিন্তু মজিদ ভেবেছিল গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রামের লোকজন শিক্ষাদীক্ষায় সচেতন হবে এবং তারা আর মাজারমুখী হবে না। ফলে তার মাজার ব্যবসায় সংকট নেমে আসবে। তাই সে গ্রামে জনসভা ডেকে আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বদ-মতলব বলে আখ্যায়িত করে। একই সঙ্গে মজিদ আক্কাস ও তার বাপকে অপমান-অপদস্থ করে এবং আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।

 

নাটক : সিরাজউদ্দৌলা

 

৩। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের মহীশূর রাজ্যের শাসনকর্তা ছিলেন টিপু সুলতান। তিনি তাঁর শৌর্য-বীর্যের কারণে শের-ই মহীশূর নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মতে, বিড়াল ও শিয়ালের মতো বেশিদিন বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দুই দিন বেঁচে থাকলেও ভালো। এই মহান শাসক নিজের দেশের স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নিহত হন ১৭৯৯ সালে। কিন্তু তাঁর এ পরাজয়ের মূল কারণ ছিল তাঁরই সেনাপতি মীর সাদিক। মীর সাদিক লোভে পড়ে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন।

ক) নবাব সিরাজউদ্দৌলা কাকে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন?

খ) সিরাজউদ্দৌলা কেন একটি দিনের জন্যও সুখে নবাবি করতে পারেননি? ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকের টিপু সুলতানের সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ) কাছের লোকের বিশ্বাসঘাতকতা উদ্দীপকের টিপু সুলতান ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মূল কারণ ছিল, বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক) নবাব সিরাজউদ্দৌলা মানিকচাঁদকে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন।

খ) প্রধান সেনাপতি মীরজাফরসহ কাছের মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা একটি দিনের জন্যও শান্তিতে নবাবি করতে পারেননি।

নবাব আলিবর্দী খান তাঁর মৃত্যুর আগে যোগ্য উত্তরসূরি সিরাজকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার সিংহাসনে বসিয়ে যান। সিরাজের নবাব হওয়া যেমন প্রধান সেনাপতি মীরজাফর মেনে নিতে পারেননি, তেমনি তাঁর আপন খালা ঘসেটি বেগমও তা মেনে নিতে পারেননি। মীরজাফর নিজেই বাংলার নবাব হতে চেয়েছিলেন। আর ঘসেটি বেগম তাঁর পালিত পুত্র শওকত জঙ্গকে নবাব করে নবাবমাতা হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন; কিন্তু সিরাজ সিংহাসনে বসায় তাঁদের এই খায়েশ পূর্ণ হয়নি। তাই শুরু থেকে তাঁরা ইংরেজদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। আর এ কারণেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা একটি দিনের জন্যও শান্তিতে নবাবি করতে পারেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা