kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

জঘন্যতম অপরাধী

কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক

২৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জঘন্যতম অপরাধী

মানুষ কতটা অমানবিক হলে নিজের সামান্য লাভের জন্য আরেকজন মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে! তারা জানে, করোনার পরীক্ষা সঠিক না হলে একজন পজিটিভ রোগীর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হতে পারে, আক্রান্ত ব্যক্তি আরো অনেককে সংক্রমিত করতে পারে, সরবরাহ করা ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী নকল বা নিম্নমানের হলে ব্যবহারকারী চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাণহানি ঘটতে পারে। জেনেশুনেই শুধু সামান্য আর্থিক লাভের জন্য তারা নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে এবং মাস্ক, পিপিইসহ নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করেছে। আর তা করেছেন এমন সব ব্যক্তি, যাঁদের সচরাচর সমাজে গণ্যমান্য মনে করা হয়। তাঁদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ধনাঢ্য ব্যক্তি বা একাধিক শাখাসম্পন্ন ক্লিনিকের মালিক, এমনকি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পর্যন্ত। তাহলে এ দেশের মানুষ কাদের ওপর আস্থা রাখবে? আইনজীবী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাঁরা যেসব অপরাধ করেছেন, তা মানুষ হত্যা করারই শামিল এবং তাঁদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।

প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, শুধু করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতিই নয়, আরো অনেক রকম জালিয়াতি বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে রিজেন্ট হাসপাতালের মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরেই চলেছে এসব অপকর্ম। এমনকি হাসপাতালটির হালনাগাদ লাইসেন্সও ছিল না। তা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালটিকে কভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, হাসপাতালটিতে কোটি টাকার সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে হাসপাতালটি থেকে ছয় হাজারের বেশি ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী এবং একই প্রতিষ্ঠানের আহ্বায়ক ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৫ হাজারের বেশি ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ডা. সাবরিনা একই সময়ে একটি সরকারি হাসপাতালেরও চিকিৎসক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও সহকারী রেজিস্ট্রার। ১৯ জুলাই রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। সেখানে অনুমোদন ছাড়াই করোনার অ্যান্টিবডি পরীক্ষা, ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, অনুমোদন ছাড়া র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার এবং অতিরিক্ত টাকা আদায়ের আলামত পাওয়া যায়। এসব অভিযোগে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ রকম জঘন্য উদাহরণ আরো অনেক রয়েছে। তাঁদের এসব অপকর্মে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অপকর্মের সঙ্গে আরো কারা জড়িত—তদন্তের মাধ্যমে সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য