kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’

৭ই মার্চ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’

৭ই মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ হিসেবে উদ্যাপন করার যে প্রস্তাব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, তা গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটিকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে উদ্যাপনের সিদ্ধান্তটিও সংগত কারণেই ঐতিহাসিক।

বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন এই ৭ই মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত কৌশলপূর্ণ ভাষায় কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চের ৭ তারিখ বঙ্গবন্ধুর সেই মহাকাব্যিক দৃপ্ত উচ্চারণ আগে থেকে লেখা ছিল না। বরং তা ছিল মুক্তিকামী বাঙালির প্রতি বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনামূলক এক তাত্ক্ষণিক ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে ২০১৭ সালে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ স্থান দিয়েছে ইউনেসকো। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণটি দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিলগ্নে বাংলাদেশের মানুষের জন্য। কিন্তু আজ এই ভাষণটি পরিণত হয়েছে সারা বিশ্বের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির ডাক হিসেবে। ইতিহাসবিদ জ্যাকব এফ ফিল্ডের লেখা ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস : দ্য স্পিচেস দ্যাট’-এ স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। উপনিবেশ-পরবর্তী রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ার ব্যর্থতা কিভাবে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করে, তার আদর্শ বর্ণনা রয়েছে ওই ভাষণে। বিশ্বজুড়ে যে দেশগুলো অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে এবং নিজ ভূখণ্ডের সব নৃগোষ্ঠী, ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের জন্য বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজও প্রাসঙ্গিক। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে (পরবর্তীকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১০ লাখের বেশি মুক্তিকামী মানুষের সমাবেশে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি সেদিন পাকিস্তানি শাসকদের সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, লক্ষ্য অর্জনের পথে করণীয়গুলো তুলে ধরেছিলেন। বলেছিলেন, ‘...প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে; এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু—আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।’ সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা—রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব; এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’

মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ৭ই মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে উদ্যাপনের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। ঐতিহাসিক এই ভাষণের মর্মার্থ এখন ছড়িয়ে দিতে হবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। তাদের জানাতে হবে, কোন দিনে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের বাঁকবদল হয়েছিল। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা