kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ দুর্ঘটনা

দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ দুর্ঘটনা

বুড়িগঙ্গা এখন আর প্রমত্তা নয়। অনেক শান্ত ও ধীরস্থির বুড়িগঙ্গার বুকেই লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটল গত সোমবার সকালে। ঢাকার শ্যামবাজারের কাছে এক লঞ্চের ধাক্কায় আরেকটি ছোট লঞ্চ ডুবে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমএল মর্নিং বার্ড নামের ওই লঞ্চটি সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে যাত্রী নিয়ে সদরঘাটের দিকে আসছিল। শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গায় ময়ূর-২ নামের আরেকটি বড় লঞ্চের ধাক্কায় সেটি ডুবে যায়। প্রথম দিনই উদ্ধার করা হয় ৩২ জনের মৃতদেহ। দ্বিতীয় দিনের তল্লাশিতে আরো একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। লঞ্চডুবির প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে একজনকে জীবিত উদ্ধারের কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস। তবে ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌদুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক, মাস্টারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’ ঘটানোর অভিযোগ এনে মামলা করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর একটি ভিডিও দেখার কথা জানিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ঘটনার যে ধরন, তাতে তাঁর মনে হয়েছে ধাক্কা দেওয়ার বিষয়টি ‘পরিকল্পিত’। শান্ত নদীতে সকালবেলা একটি লঞ্চকে আরেকটি লঞ্চ ধাক্কা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসবে—কার দোষে এ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় যে ৩৩ জন যাত্রীর জীবন গেছে, তাদের পরিবারের জন্য এটা অপূরণীয় ক্ষতি। লঞ্চের বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তা-ও সহজে দূর হবে না।

প্রতিটি লঞ্চডুবির পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে থাকে। এতে কিছু সুপারিশও থাকে। আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটির সুপারিশ কি কার্যকর হয়েছে? দেশের নৌপথে কয়টি ফিটনেসবিহীন নৌযান বা লঞ্চ-স্টিমার চলছে তার হিসাব কি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আছে? ফিটনেসবিহীন লঞ্চ বা নৌযানের বিরুদ্ধে কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? নৌপথে নিয়ম মেনে সব নৌযান চলাচল করছে, এটা নিশ্চিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সব নৌযানের ফিটনেস। সোমবারের দুর্ঘটনার পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডাব্লিউটিএর পক্ষ থেকে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

আমাদের দেশে নৌদুর্ঘটনা কোনোভাবেই প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সচেতন হলে অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা আশা করব, এ দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা