kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

বিশৃঙ্খল সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছেই

শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যবস্থা নিন

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ফের সড়কে বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা বাড়ছেই’ শিরোনামে গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরটি মোটেও সুখকর নয়। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনক। খবরে বলা হয়েছে, এক মাসের ব্যবধানে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৭৯ শতাংশ। অথচ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অনেক ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে ডিভাইডার তৈরি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে শ্লথগতির যানবাহন। কিন্তু দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। করোনাভাইরাস সংক্রমণেও থেমে নেই সড়ক দুর্ঘটনা। গত দুই মাসে করোনায় যত মানুষ মারা গেছে তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে ৯৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৮৯ জন নিহত হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন বলছে, গত ঈদুল ফিতরে যাতায়াতকালে ১৯ থেকে ৩১ মে ১৩ দিনে দেশে ১৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬৮ জন নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে পিষ্ট হয়ে দুই ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। রংপুর সদর উপজেলায় বাস উল্টে চালকের সহকারী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে দুই যাত্রী। বগুড়া সদর উপজেলায় পিকআপ চাপায় দুজন নিহত হয়েছে। 

কেন এমন হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময় বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও হালকা যানবাহনে যাত্রী পরিবহনে গতিসীমা না মানা, ফিটনেসহীন গাড়ি, বেহাল সড়ক, তদারকির অভাব, অভিযান কম থাকায় সড়কে প্রাণহানির এ ভয়ংকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বসে থাকা বেশির ভাগ বাস চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। কোনোটির ব্রেক নেই, কোনোটির জানালা ভাঙা। বিশেষজ্ঞরা সব সময় বলে এসেছেন, গতিসীমা না মানা, ফিটনেসহীন গাড়ি দুর্ঘটনার বড় কারণ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বাস ও মিনিবাস নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করেন না মালিকরা। কোনোটির ব্রেক ঠিক নেই, ইঞ্জিন ও ব্যাটারির কার্যকারিতা নেই বললেই চলে; কোনোটির বা চাকা নষ্ট। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে, দুর্ঘটনা বেড়েছে গতিসীমা না মেনে চালকরা গাড়ি চালানোয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালনায় গতিসীমা বেশি লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট বলছে, বাসের অভাবে পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহনের ফলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়েছে। নিষিদ্ধ থাকার পরও রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল যাত্রী পরিবহন করছে। যাত্রী কম থাকায় বেশি লাভের জন্য বেশি ট্রিপ দিতে গিয়ে ঢাকার সড়কেও বাস বেপরোয়া চলাচল করছে।

দেশের সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো বিকল্প নেই। শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য