kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

আন্দোলন আপাতত স্থগিত

সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করুন

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা গত ২৩ নভেম্বর থেকে সভা, বিক্ষোভ মিছিলসহ ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছেন। গত ১০ ডিসেম্বর দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের মধ্যে ১২টির শ্রমিকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার অনশনে অংশ নেওয়া প্লাটিনাম জুট মিলের একজন শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় বিজেএমসি গতকাল শনিবার এক জরুরি সভা ডাকে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের জন্য পাট মন্ত্রণালয়ে আন্ত মন্ত্রণালয় এই বৈঠক ডাকা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার মধ্যরাতের পর অনশন কর্মসূচি তিন দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে এই সভায় দাবি বাস্তবায়িত না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে আবারও অনশন পালন করা হবে বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ পাট খাতকে লাভজনক করার অঙ্গীকার করে। তারা ক্ষমতায় আসার পর বিজেএমসিকে লাভজনক করতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। ২০০৯ সালে পাটকল বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। এর পরই বেসরকারি হাতে ছেড়ে দেওয়া বিভিন্ন পাটকল সরকারের হাতে নিয়ে নতুন করে চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া পাটকল ফিরিয়ে নিয়ে চালু করে সরকার; কিন্তু লাভের মুখ দেখা সম্ভব হয়নি। বেড়েছে লোকসান। পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের আওতাধীন ২৬টি পাটকলের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ২৫টি। এর মধ্যে ২৪ প্রতিষ্ঠান লোকসানে। যদিও বেসরকারি খাতের পাটকলগুলো ভালো করছে, তাদের রপ্তানি আয়ও বেড়েছে।

বেসরকারি পাটকলগুলো যখন লাভজনকভাবে ব্যবসা করছে তখন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে লোকসান হচ্ছে কেন? প্রথমত, বিজেএমসি পাট কেনে অসময়ে। অর্থাৎ শুরুতেই কোটি কোটি টাকা গচ্চা যায়। অন্যদিকে রয়েছে বিপণন বিভাগের অদক্ষতা। আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী নতুন পণ্য তৈরির কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ বাংলাদেশের পাটশিল্পের জন্য আন্তর্জাতিকভাবেও কিছু সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় অনেক দেশই সিনথেটিক পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের চাহিদায় আবার পাটপণ্য প্রাধান্য পাচ্ছে। বৈশ্বিক চাহিদার এই পরিবর্তনের সুযোগ যত কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাবে অর্থনীতিও তত শক্তিশালী হবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমরা আশা করব, পাটশিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা