kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কিশোর গ্যাং কালচার

সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে উদ্যোগ নিন

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এ সময়ের অন্যতম আলোচনার বিষয় ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে উঠতি বয়সী কিছু কিশোর। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া-মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয় তারা। উদ্ভট নাম দিয়ে খোলা হয়েছে নানা গ্রুপ। প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রয়েছে অর্ধশত ‘কিশোর গ্যাং’-এর নাম। এসব দলের সদস্যদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।

কিশোর গ্যাং গোষ্ঠীগুলো তৈরি হলো কেন? কেনই বা তারা এত ভয়ংকর হয়ে উঠেছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে নানা অসংগতি রয়েছে। নিজেদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কিশোররা। তাদের আচরণে পরিবর্তন হচ্ছে। কিশোর বয়সে হিরোইজম ভাব থাকে। আবার কিশোরদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘গ্যাং কালচার’ গড়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে ভিনদেশি সংস্কৃতি ইচ্ছামতো তাদের আয়ত্তে চলে যাওয়ায় কিশোরদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের মধ্যেই ‘অ্যাডভেঞ্চার ফিলিং’ বা ‘হিরোইজম’ ভাব বেশি দেখা যায়। কিশোর বয়সে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তাকে অপরাধী হয়ে উঠতে সহায়তা করে। কিশোর বয়সে ইতিবাচক চর্চার দিকে না গিয়ে, নেতিবাচক চর্চার দিকে চলে যায়। আবার যখন তারা দেখে যে অপরাধ যারা করছে, তারা সমাজে বেশি লাভবান হচ্ছে, সেটা কিশোররা অনুসরণ করে। তাদের ওপর পারিবারিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ থাকে না। গরিব ও ধনী—দুই শ্রেণির পরিবারের কিশোরদের মধ্যেই এই গ্যাং কালচারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এই প্রবণতা বন্ধে এখন করণীয় কী? এর দায় আমাদের সবার। এটা সামাজিক অবক্ষয়ের ফল। এই কিশোরদের সঠিক পথের অনুসারী করে তুলতে হবে। প্রথমত সমাজ পরিবর্তনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আসতে হবে। সমাজে অপরাধী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে পরিবারে কিশোরদের একাকী বা বিচ্ছিন্ন না রেখে যথেষ্ট সময় দিতে হবে। শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদেরও উদ্যোগী হতে হবে। এলাকার অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে হবে। গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে যুক্ত করা গেলে বিপথগামী কিশোরদের সুপথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা