kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছেই

দ্রুত শাস্তির বিধান দরকার

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একের পর এক ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা থেকে মনে হয়, দেশের কিছু মানুষের নীতি-নৈতিকতা বোধ বলে কিছু নেই। সহমর্মিতার যে সামাজিক বন্ধন ছিল তা আজ আর নেই। অনৈতিক ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে  আমাদের সমাজের পরিচয়টাই যেন পাল্টে যেতে শুরু করেছে। পারস্পরিক বন্ধন ও সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সহনশীল সমাজ থেকে নৈতিকতা যেন নির্বাসিতপ্রায়। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে। প্রতিদিন খবরের কাগজে উঠে আসছে ধর্ষণের ঘটনা। গৃহবধূ থেকে শুরু করে ছোট শিশুও রেহাই পাচ্ছে না। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করা হচ্ছে। এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধেও উঠেছে ধর্ষণের অভিযোগ। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দৃষ্টি দেওয়া যাক। খুলনার দাকোপে এক আসামির স্ত্রী এবং ঢাকার সাভারে এক শ্রমিককে দলবদ্ধ হয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে এসব ঘটনা ঘটে। সাভারের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যশোরে আলোচিত গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই। পিবিআই ডাক্তারি পরীক্ষায় পাওয়া ধর্ষণের আলামতের সঙ্গে অভিযুক্তদের ডিএনএ টেস্ট করানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এই যশোরেই ঘটেছে আরেকটি ঘটনা। জেলার মণিরামপুরে গৃহকর্তা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ১০ বছরের শিশুটি গত শনিবার এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া বরগুনার বামনায় তিন স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দুই স্কুলছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সোনাখালী গ্রামে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক স্কুলটির দপ্তরির বিরুদ্ধে।

এ কথা এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমরা এক চরম অবক্ষয়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। সমাজের এই অধঃপতন ও অবক্ষয় তো আর এক দিনে ঘটেনি। দিনে দিনে মূল্যবোধগুলো ক্ষয়ে গেছে। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই অবক্ষয় যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা হতাশাজনক। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সামাজিক অনুশাসন ও মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প যেমন নেই, তেমনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাও জরুরি হয়ে পড়েছে। সব ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে সামাজিক অনুশাসন। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সামাজিক দুর্বৃত্তদের দমন করা কঠিন হবে না।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা