kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

ফোকাস

তোমাদের আইডিয়া

পরিবেশ শব্দটার সংজ্ঞা তো খুব সহজ। কিন্তু একে বুঝতে পারাটা কঠিন। পরিবেশ ঠিকঠাক রাখতে পারলেই টিকে থাকবে নির্মল পৃথিবী। টিকে থাকবে প্রাণী ও সভ্যতা। তাই তোমাদের কজনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল পরিবেশ ঠিকঠাক রাখার কিছু নতুন আইডিয়া। চলো শুনি কে কী জানালে—

৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



তোমাদের আইডিয়া

পরিবেশ এমন একটা জিনিস, যার গুরুত্ব আমরা জেনেও অনেকে তা অবহেলা করি। পরিবেশ সংরক্ষণের কাজটা অন্যের ওপরই চাপিয়ে দিই আমরা প্রায়শই। কেন এমন করি? কারণ আমরা সেভাবে উদ্দীপনাই পাই না বা জাগাই না মনের ভেতরে। আবার অনেকে সমালোচকদের বেশ মানে। আমরা মানবজাতিই পরিবেশের সংরক্ষণ নিয়ে বলছি, আমরাই তা নষ্ট করছি আবার আমরাই তাদের উসকে দিচ্ছি, যারা একটু এই ব্যাপারটা নিয়ে এগোচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মানুষকে জাগাতে হবে। আমরা কিশোর-কিশোরীরা সচেতন হলেই কিন্তু একটা সময় বড়রাও আমাদের দেখে অনুপ্রাণিত হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে আমি আর আমার বান্ধুবীরা এরই মধ্যে একটা সিদ্ধান্তে এসেছি। সিদ্ধান্তটা এ রকম—আমাদের এলাকায় যত গাছ আছে, সবগুলোর নাম জেনে তার উপকারিতাটা জেনে গাছের গায়ে পোস্টার টাঙাব। কারণ দেখা যায়, আজকালকার ছেলে-মেয়েরা গাছগুলোর সঙ্গেই ভালো করে পরিচিত হয়।—উম্মে ফারদিন প্রনিন, সানারপাড় শেখ মোরতজা আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা

 

আমাদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন তো রাখতেই হবে। তবে রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করলেই হবে না। ময়লাটা যাচ্ছে কোথায়, সেটা কোথায় প্রসেসিং হচ্ছে, আদৌ হচ্ছে কি না—সেসবও দেখতে হবে। আবর্জনা রিসাইকেল করাটাই হলো আসল কথা। ওটা করতে না পারলে তো যেমন ময়লা তেমনই রয়ে গেল। আমাদের রিসাইকেল প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে। আমরা কদিন আগে দেখলাম, ফেলনা প্লাস্টিক দিয়ে জিনস তৈরি করছে ডেনিম। আরো অনেক বড় প্রতিষ্ঠানও সমুদ্রের আবর্জনা দিয়ে এটা-ওটা বানাচ্ছে। এটার পরিমাণ কম। আর আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এমনটা তো এখনো কল্পনাই করা যায় না। আমাদের উচিত বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রতি নজরদারি বাড়ানো।—আমানুর রহমান, সরকারি কদম রসুল কলেজ, নারায়ণগঞ্জ

 

পরিবেশের জন্য গাছ লাগানো দরকার। কিন্তু কী গাছ লাগাব, কোন গাছ কখন লাগাতে হবে, কোন গাছের জন্য কেমন পরিচর্যা চাই, কোন গাছ টবে লাগানো যায়, কোনটা মাটিতে লাগাতে হবে, কোনটার জন্য কোন ধরনের মাটি বা কোন গাছে কোন জৈব সার দিতে হবে—এসব আমরা কয়জন জানি? আমার মনে হয়, আমরা যে ক্লাস বা বিষয়েই পড়াশোনা করি না কেন, কৃষি বিষয়টা আমাদের প্রত্যেকের পাঠ্য হওয়া উচিত। আর যদি পাঠ্য বইয়ের তালিকায় না-ও থাকে, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ইন্টারনেটে হাজার হাজার ওয়েবসাইট ও ইউটিউব টিউটরিয়াল আছে। সেসব দেখেও তুমি শিখে নিতে পারো, কিভাবে পলিথিনের মধ্যে আলু চাষ করতে হয় কিংবা কিভাবে ড্রামের মধ্যে আমগাছ লাগাতে হয়।—তাসনিম ফেরদৌস, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, ঢাকা

 

পরিবেশ ঠিকঠাক রাখার জন্য আসলে সবার আগে কী দরকার? আমার মনে হয়, সবার আগে মানুষকে ঠিক করা দরকার। একজন মানুষ যখন তার হাতের প্লাস্টিকের কাপটাকে রাস্তায় ছুড়ে না মেরে ডাস্টবিনে রাখে, তখন কিন্তু বোঝা যায় যে লোকটা ভালো মানুষ। তো এই ভালো মানুষ কিভাবে তৈরি করা যায়? এর জন্য দরকার সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা। আমাদের পরিবেশ নিয়ে ভাবতে হবে, ভাবাতে হবে। তাই আমি মনে করি, পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে আরো বেশি নাটক, সিনেমা, ডকুমেন্টারি বা মজার কিছু তৈরি করতে হবে, যেগুলো লোকে দেখবে। বেশি বেশি বই পড়তে হবে। প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়াতে হবে। ভেতরে প্রকৃতিপ্রেম তৈরি না হলে পরিবেশ কখনোই সুন্দর রাখা যাবে না।—বুশরা অনন্যা, ঢাকা কমার্স কলেজ, ঢাকা

 

পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য আমাদের প্রত্যেকের আগে পরিবেশকে ভালোবাসতে হবে। আমাদের সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে, যেন কোনো কিছুই দূষিত না হয়। পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণ বর্জ্য। প্লাস্টিক, পলিথিন, ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি ছুড়ে না ফেলে ডাস্টবিনে রাখি সবাই। পাশাপাশি আমাদের পরিচিতরা পরিবেশ নিয়ে ভাবছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।—অজান্তা রায়, মীরকাদিম হাজি আমজাদ আলী ডিগ্রি কলেজ, মুন্সীগঞ্জ

 

পরিবেশ! রাস্তার যেখানে-সেখানে থুতু ফেলা পরিবেশ? নাকি নদী-নালা, খাল-বিল নোংরা করা পরিবেশ? যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা কি পরিবেশ? নাকি সেগুলো পরিষ্কার না করা পরিবেশ? আসলে পরিবেশ কী? পরিবেশের হয়তো সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। আর যদি থাকেও, আমার অন্তত সেটা জানা নেই। আমার কাছে পরিবেশ মানে আগে নিজে সচেতন হওয়া। পরিবেশ নিয়ে নিজের কাজটা নিজে ঠিকমতো করা। বাংলায় প্রবাদ আছে না—যদি নিজে ঠিক থাকো তো জগত্ ঠিক। উদাহরণস্বরূপ ধরলাম, রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে একটা পানীয় দ্রব্য খেলাম। খাওয়া শেষ করে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বা ডাস্টবিনে খালি জিনিসটি ফেললাম। আশপাশের অন্যান্য মানুষও তা দেখল (না-ও থাকতে পারে কেউ)। ওই মানুষগুলো যদি আগে এসব কিছু না-ও করে, অন্তত বিষয়টা নিয়ে উপলব্ধি করতে পারবে। আর উপলব্ধি করতে পারলে ভবিষ্যতে এসব কাজ করার আগে অন্তত একবার ভাববে। আর ভাবার মধ্যেই আসল কাজটা করবে। আমার কাছে পরিবেশ নিয়ে এর থেকে বড় শিক্ষা আর কিছু হতে পারে না। নিজের মধ্য দিয়ে একটা ভালো কাজ হলো, সঙ্গে অন্যের মধ্যেও সেই ভালোটা পৌঁছে দেওয়া হলো। সব কিছু শেষে লাভটা হলো আমাদের পরিবেশের। আর পরিবেশ ভালো থাকলে ভালো থাকব আমরা।—ফাহিম মুনতাসির, দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা, ঢাকা

 

পরিবেশ সুন্দর করা মানে পরিবেশের উপাদানগুলো নিয়ে কাজ করে সাজিয়ে সুচারু রূপ দেওয়া। এটি নিয়ে কাজ করা না হলেও প্ল্যানিং ছিল। যার কিছুটা সরকার করছে। যেমন গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক করা। অর্থাত্ ঢাকাকে ভিত্তি করে কাজটা করলে এমন দাঁড়ায় যে প্রতিটি বাড়ির রাজস্ব ২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে, যদি গাছ না লাগানো হয়। যার ফলে একটা বিরাট পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন হবে, পরিবেশটাও হবে সুন্দর। আবার সোলার বা সৌরশক্তিকে নিজেদের বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু ব্যবহার কম করা হয় এ রকম জায়গার বৈদ্যুতিক কাঠামোয় যুক্ত করা যায়। যার ফলে তা প্রায় অনেকটা বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে পরিবেশদূষণ ঠেকাতেও সহায়তা করবে। যেমন—রান্নাঘর, শৌচাগার। সেই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বড়সড় করে পরিবেশ দিবস পালন করাটাও বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে।—উম্মে তাসমিয়া সানজু, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

 

পরিবেশ নিয়ে আমরা আসলে প্রত্যেকেই ভাবি। কিন্তু দেখা যায়, আমরা কিছু করতে পারি না। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মানুষটাও কিন্তু চায় তার আশপাশটা পরিচ্ছন্ন থাকুক। তার পরও কাজ হচ্ছে না কেন? কাজ হচ্ছে না, কারণ আমাদের লজ্জা-শরম একটু বেশি। আমরা রাস্তা থেকে একটা পলিথিন, প্লাস্টিক বা ফেলে দেওয়া বোতল কুড়িয়ে নিতে খুব লজ্জা পাই। এ লজ্জা কেন পাই, তা আমি জানি না। কিন্তু খুব দ্রুত আমাদের এ লজ্জা কাটাতে হবে। কিছু কিছু মন্দ লোক থাকবেই, যারা কিনা আপনার এসব কাজ দেখে মিটিমিটি হাসবে। তাদের হাসতে দিন। তারা হাসুক। কিন্তু দেখবেন, আপনি শুরু করলে ঠিকই আপনার সঙ্গে আরো পাঁচজন এসে যোগ দেবে। পাঁচজন যোগ না দিক, অন্তত একজন দিলেও দেখবেন আপনার আর খারাপ লাগছে না। তাই পরিবেশ রক্ষায় কাজ শুরু করে দিন আজ থেকেই।—সাগরিকা ইসলাম মিনহা, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, ঢাকা

 

ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার তো প্রত্যেককে করতেই হবে। তবে আরো কথা আছে। আমাদের বাজার করতে গেলে দেখা যায়, আধা কেজি বেগুন কিনলে একটা পলিথিন ধরিয়ে দেয়, ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনলেও পলিথিন ধরিয়ে দেয়। এভাবে পলিথিন চলতেই থাকে। এই পলিথিনের দুষ্টচক্রটা বন্ধ করতে হবে আগে। বাজার থেকে যথাসম্ভব পলিথিন কম আনতে হবে। বাসায় একটা ভালো বাজারের ব্যাগ থাকলেই কিন্তু হয়ে যায়। ওই ব্যাগ নিয়ে আমরা বারবার বাজার করতে পারি। পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ কিন্তু এখন চলছে খুব। আমরা সেটির ব্যবহার বাড়াতে পারি।—জাসিকা জেসি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা