kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘অফিস সিনড্রোম’ যখন ব্যথার কারণ

ডা. মোহাম্মদ আলী   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘অফিস সিনড্রোম’ যখন ব্যথার কারণ

অফিস সিনড্রোম কী?

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে যাঁরা শহরে বাস করেন, তাঁরা সপ্তাহে পাঁচ-ছয় দিন, এমনকি সাত দিন পর্যন্ত অফিস করেন। অনেকেই আছেন, যাঁরা দিনের ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাটিয়ে দেন অফিসে।

বাংলাদেশের ব্যাংকারদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণা জানাচ্ছে, যাঁরা বেশি সময় অফিসে বসে কাজ করেন, তাঁদের ঘাড়, কোমর, হাঁটু বা কাঁধ ব্যথা হওয়ার প্রবণতা যাঁরা কম সময় বসে থাকেন, তাঁদের চেয়ে অনেক বেশি। এককথায় যাকে বলা যায় ‘অফিস সিনড্রোম’।

বিজ্ঞাপন

 

মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই আহার সংগ্রহে মানুষ শারীরিক শ্রম দিত। একটি শিকার করতে আমাদের পূর্বপুরুষরা বিপুল শারীরিক শক্তি ব্যয় করতেন।

কিন্তু আমাদের আধুনিক জীবন অনেকটাই মেধানির্ভর। চেয়ার-টেবিল বা কম্পিউটার-মোবাইলের সামনে বসেই বেশির ভাগ সময় কাটে আমাদের। ফলে হাড় ও মাংসপেশিতে আসে জড়তা। বাইরে সূর্যের আলোতে কম আসায় আমাদের শরীরে দেখা দেয় ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি।

সব মিলিয়ে স্থবির থাকতে থাকতে আমাদের শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মাংসপেশি ও হাড়ের জড়তা প্রকাশ পায় ব্যথার মাধ্যমে।

হাড়ের ক্ষয়, মাংসপেশির দুর্বলতাজনিত ব্যথা জেঁকে বসে আমাদের শরীরে।

একসময় ভাবা হতো যাঁরা ভারী কাজ করেন, অস্বস্তিকর ভঙ্গিমায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকেন, কেবল তাঁদেরই ঘাড়-কোমর ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু আধুনিককালের গবেষণা বলছে ভিন্নকথা; প্রকৃতপক্ষে যাঁরা দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিমায় কাজ করেন, তাঁদেরই ব্যথাজনিত শারীরিক সমস্যা বেশি হয়।

অনেকেই ভাবেন খুব আধুনিক চেয়ারে বসে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা টানা কাজ করলেও ঘাড় বা কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়, আসলে আপনি একই ভঙ্গিমায় কতক্ষণ কাজ করলেন, সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ভঙ্গিমা যেকোনো রকম হতে পারে, ব্যথামুক্ত থাকার শর্ত হলো সেই ভঙ্গিমায় বেশিক্ষণ থাকা যাবে না।

 

পরিত্রাণের উপায় কী?

প্রথম শর্ত হলো একভাবে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা যাবে না। প্রতি এক ঘণ্টায় এক মিনিটের জন্য হলেও পজিশন পরিবর্তন করতে হবে। সুযোগ থাকলে হালকা স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। খুব সাধারণ অথচ বিশেষ কিছু ব্যায়াম আছে, যা অফিসের চেয়ারে বসেই করা যায়, সেগুলো জানতে হবে। যাঁরা এর মধ্যে ব্যথায় আক্রান্ত, তাঁরা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

দ্বিতীয়ত, আপনার মোবিলিটি বা নড়াচড়া বাড়াতে হবে। একটি স্লোগান মনে রাখা দরকার, ‘সুস্থ থাকতে হাঁটতে হবে। ’ অনেকেই অজুহাত দেন যে তাঁদের হাঁটার সময় নেই, কিন্তু আপনি চাইলেই হাঁটতে পারেন। যেমন—ধরুন, অফিস থেকে বাসায় ফিরতে যেটুকু রাস্তা রিকশায় আসেন, সেটুকু আজ থেকে হেঁটে আসুন অথবা ব্যক্তিগত গাড়িটি গ্যারেজে রেখে হেঁটে অফিস করুন, দেখবেন অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে, সঙ্গে ভালো থাকছে শরীর ও মন।

তাই দেরি না করে সুস্থ থাকতে বেরিয়ে পড়ুন অ্যাডভেঞ্চারে। হাতে সময় কম থাকলে আশপাশের ট্যুরিস্ট স্পট ভিজিট করুন। সাঁতার কাটুন, দৌড়ান বা হিল ট্র্যাকিং করুন। শারীরিক শ্রমের সঙ্গে সঙ্গে পাবেন সূর্যের ভিটামিন ‘ডি’। মনে রাখুন, আমাদের পূর্বপুরুষদের সব কিছুই ছিল শারীরিক শ্রমনির্ভর। আপনিও এই জেনেটিকসের বাইরের কেউ নন!

 

লেখক  : বিভাগীয় প্রধান, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাব বিভাগ, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল,

উত্তরা, ঢাকা, বাংলাদেশ



সাতদিনের সেরা