ঘন ঘন প্রস্রাব খুবই কষ্টদায়ক। বিশেষ করে শীতের রাতে গরম কম্বল ছেড়ে বারবার ওয়াশরুমে যেতে কার ভালো লাগে বলুন। এটি শীতের একটি বিশেষ শারীরিক সমস্যা। কিন্তু কেন এমনটা হয়? সাধারণ কারণ ♦ শীতের সময় ঘাম কম হয়, তাই ত্বকের মধ্যমে শরীর থেকে পানি বের হয় না। আমরা যেটুকু পানি পান করি না কেন তার বেশির ভাগই প্রস্রাব হিসেবে বের হয়। ♦ চা, কফি পান করা। ♦ অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় পান করলে। ♦ মূত্রবর্ধক ওষুধ খেলে। রোগ ঘন ঘন প্রস্রাব অনেক রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। যেমন— ♦ ডায়াবেটিস মেলাইটাস ♦ ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস ♦ মূত্রনালি ও মূত্রথলির ইনফেকশন ♦ রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে বৃদ্ধি (হাইপারক্যালসিমিয়া) ♦ সাইকজেনিক পলিডিপসিয়া (মনোরোগজনিত পানি পিপাসা) কোন কোন রোগের জন্য হচ্ছে এই সমস্যা? নিচের রোগ নির্দেশক লক্ষণগুলো থাকলে— ♦ পানি পিপাসা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, মিষ্টি খাবারের প্রতি আগ্রহ, দুর্বলতা (ডায়াবেটিস মেলাইটাস) ♦ পানি পিপাসা, দুর্বলতা, পানিশূন্যতা, মস্তিষ্কের রোগ, কিডনির রোগ (ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস) ♦ প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, তল পেটে ব্যথা, জ্বর (মূত্রনালি ও মূত্রথলির ইনফেকশন) ♦ শরীর ব্যথা, পানি পিপাসা, দুর্বলতা, ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে (হাইপারক্যালসিমিয়া) ♦ মানসিক রোগের ইতিহাস থাকলে, বিশেষ করে মহিলা রোগী (সাইকজেনিক পলিডিপসিয়া) আমাদের করণীয় শীতে ঘন ঘন প্রস্রাব একটি সাধারণ উপসর্গ। আমাদের প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে, এখানে রোগ নির্দেশক যে লক্ষণগুলো বর্ণিত হয়েছে সেগুলো আছে কি না। এখানে উল্লিখিত লক্ষণগুলো না থাকলে দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। নিচের নিয়মগুলো মেনে চললে প্রতিকার পাওয়া যাবে। ♦ পরিমাণমতো পানি পান করা ♦ প্রস্রাব আটকে না রাখা ♦ চা, কফি পান সীমিত করা ♦ অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় বর্জন করা ♦ মূত্রবর্ধক ওষুধ খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। ♦ ঘন ঘন প্রস্রাবের সঙ্গে রোগ নির্দেশক লক্ষণগুলো থাকলে অতিসত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।