ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) ২ নম্বর হল ‘পুষ্পগুচ্ছ’র পাশেই রান্নার নির্ধারিত স্থানে বেশ ব্যস্ত বাবুর্চিরা। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারসহ নানা স্বাদ ও বিভিন্ন পদের ইফতারি তৈরিতে এতটাই ব্যস্ত যে এক বাবুর্চির সঙ্গে কথা বলতে রীতিমতো ১৫ মিনিটের অপেক্ষা! অন্যরা ব্যস্ত থাকায় কথা হলো মাস্টারশেফ সুবরাত আলীর সহকারী বাবুর্চি মো. মমিন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রমজানের মাত্র শুরু, তাই গতবারের মতো লোকসমাগম এখনো শুরু হয় নাই। তার পরও যে সময় পাইতেছি না। রোজার প্রথম দিকে কম হবে ভেবে কম কম ইফতারি তৈরি করেছি, কিন্তু আজ (বুধবার) লোক আরো বেশি এসেছে। যত দিন যাবে লোকসমাগম বাড়তেই থাকবে।’ মমিন মিয়ার কথা শুনতে শুনতে পাশে তাকাতেই দেখা গেল বিফ শিক কাবাব, চিকেন রেশমি কাবাব, শাহি হালিম, রেশমি জিলাপি, বাস বৌসা, লুচি পরোটা, শাহি ফিরনি, কালিয়া জিলাপিসহ বিভিন্ন ধরনের ইফতারির পসরা সাজিয়ে পুষ্পগুচ্ছের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইফতারি তৈরিতে বাবুর্চিদের এই ব্যস্ততার আসল কারণ ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে জানা গেল। প্রতিবছরের মতো এবারও প্রথম রমজান থেকেই পুরান ঢাকার ইফতারি বাজার বসেছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি)। মিলছে বাহারি স্বাদের ঐতিহ্যবাহী ইফতারি। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারি ছাড়াও ঢাকার প্রচলিত ও ঐতিহ্যবাহী ইফতারি মিলিয়ে সে এক মহাযজ্ঞ। প্রতিদিন বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই মহাযজ্ঞ চলবে ২৭ রমজান পর্যন্ত। ঐতিহ্যবাহী খাবারের বিশাল সংগ্রহশালার সঙ্গে খাবারের মান ও স্বাদ এই আয়োজনকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। ইফতারির দাম নাগালের মধ্যে থাকায় এটি উচ্চ ও মধ্যবিত্ত উভয়ের জন্যই হয়েছে অন্যতম পছন্দনীয় স্থান। এ ছাড়া পরিবার, বন্ধুদের নিয়ে বিশেষ ইফতার পার্টির ব্যবস্থা, নামাজ ও ওজুর ব্যবস্থা এই আয়োজনকে করেছে পরিপূর্ণ। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে আইসিসিবিতে ইফতারি কিনতে এসেছেন ফারজানা আসাদ। বললেন, ‘আগে ইফতারি কিনতে পুরান ঢাকায় যেতে অনেক সময় অপচয় হতো। এখন হাতের কাছেই এত সুন্দর আয়োজন, একসঙ্গে এতগুলো আইটেম। গত বছর রমজানেও এখান থেকে ইফতারি কিনেছি, ভালো লেগেছিল। তাই এ বছরও ওদের (স্বামী-সন্তানদের) নিয়ে এলাম। বিরিয়ানি, মোমো, কাবাব ও জিলাপি কিনেছি।’ উত্তরা থেকে আসা জলিল আহমেদ বলেন, ‘আগে বন্ধুবান্ধব নিয়ে ইফতার করতে পুরান ঢাকায় যেতাম। কয়েক বছর থেকে এখানেই আসি। এ ক্ষেত্রে সময়ও অনেক বেঁচে যায় আর এখানে একসঙ্গে ইফতার করারও সুন্দর ব্যবস্থা আছে।’ কথা হয় রাজধানীর নিকুঞ্জ থেকে আসা আবদার রহমানের সঙ্গে। আবদার রহমান বলেন, ‘বেশ কিছু আইটেমের ইফতারি কিনেছি, আরো কিছু কিনব। এখান থেকে আমি আগেও অনেকবার কিনেছি। খাবারগুলো সবই হাইজিনিক ও সুস্বাদু।’ গতকাল বুধবার ইকবাল হোসেন ক্যাটারিং সার্ভিসে ঘুরে দেখা যায়, বিফ শিক কাবাব বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, কলাপাতা কোপ্তা কাবাব ২০০ টাকা, চিকেন রেশমি কাবাব ২৫০ টাকা, চিকেন জালি কাবাব ৫০ টাকা, নার্গিস কাবাব ৭০ টাকা, তান্দুরি চিকেন (পিস) ১৫০ টাকা, চিকেন শাশলিক (পিস) ১২৫ টাকা, শাহি মাটন কাচ্চি বিরিয়ানি (বক্স) ৪০০ টাকা, শাহি হালিম (বিফ) ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা, শাহি হালিম মাটন (বক্স) ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা, শাহি জর্দা (বক্স) ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, চিকেন পাকোড়া ২০ টাকা, রেশমি জিলাপি কেজি ৫০০ টাকা, বোম্বে জিলাপি কেজি ৪০০ টাকা। এ ছাড়া নকশি পিঠা, নারকেল পিঠা, গোলাপ পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, মুগডাল পিঠা, বেলি পিঠার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনে ইফতারের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছে দেশের সব নামিদামি ক্যাটারিং সার্ভিসগুলো। এর মধ্যে বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, ইব্রাহিম ক্যাটারিং সার্ভিস, ফুগল, মাস্টারশেফ সুবরাত আলী, সানফ্লাওয়ার রেস্টুরেন্ট, দিলাব, স্কাই থাই ফুড ফ্যাক্টরি, ইকবাল হোসেন ক্যাটারিং সার্ভিস, রংধনু রসুই, মিডনাইট সান, খানস কিচেন, কাশ্মীরি আচার অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস, প্রিমিয়ার ক্যাটারিং, মি. বেকার উল্লেখযোগ্য।