kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

‘ন্যায্য’ বিশ্বব্যবস্থা চান চিনপিং

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ন্যায্য’ বিশ্বব্যবস্থা চান চিনপিং

বিশ্ববাসীর মাথার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের ছড়ি ঘোরানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদ পরিহার করে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপ্রধান।

গতকাল মঙ্গলবার বোয়াও ফোরাম অন এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট চিনপিং এ আহ্বান জানান। মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কের উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এ আহ্বান জানালেন তিনি। বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নামোল্লেখ না করে কিছুসংখ্যক দেশের ‘প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি’ ও ‘বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার’ চেষ্টার সমালোচনা করেন এবং বলেন, এ ধরনের চেষ্টা অন্যদের ক্ষতি করবে এবং কারো লাভ হবে না।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কয়েকটি দেশের আধিপত্যের বদলে বিশ্বব্যবস্থায় নিজেদেরসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের অধিকতর প্রতিফলন দেখতে চান বলে জানিয়ে আসছেন। সেই মনোভাবের পুনঃপ্রকাশ করে তিনি গতকাল বলেন, ‘বিশ্ব ন্যায়বিচার চায়, আধিপত্য নয়। একটি বড় দেশকে তখনই বড় দেশ হিসেবে দেখতে হবে, যখন সে আরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবে।’

সাম্প্রতিক সময়ে চীনা কর্মকর্তারা বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের ক্ষমতা প্রদর্শনের চর্চাকে ‘আধিপত্যবাদী আচরণ’ অভিহিত করে জনসমক্ষেই এর সমালোচনা করে আসছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হোয়াইট হাউসে বিদেশি সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি বৈঠকের ক্ষেত্রে জো বাইডেন চীনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, যদিও এরই মধ্যে তাঁর প্রথম মুখোমুখি বৈঠকটা হয়েছে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। গত শুক্রবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বাইডেনের বৈঠকে সর্বাধিক প্রাধান্য পেয়েছে চীন।

বাইডেন ও সুগা পরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৈঠকে তাঁরা হংকং ও চীনের শিনচিয়াংয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতির মতো গুরুতর উদ্বেগের বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। বেইজিং শিনচিয়াংয়ের মুসলিম উইঘুরদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ওয়াশিংটন অভিযোগ করলেও চীন তা অস্বীকার করে আসছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের এ দ্বন্দ্বের মধ্যে চীনকে বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নিদর্শন হিসেবে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র ফাইভ জি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জেনোমিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ চেইনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন বাইডেন। তাঁর পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলেও ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে হওয়া তুমুল ‘শুল্কযুদ্ধের’ কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চীনের বাণিজ্যচর্চা। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, বেইজিংয়ের অন্যায় সহায়তা বিদেশে চীনা কম্পানিগুলোকে অন্যায্য সুবিধা দিচ্ছে এবং প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্ব স্থানান্তরে বাধ্য করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন চীনবিরোধী অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বোয়াও ফোরামের সম্মেলনে চীনের বক্তারা বিশ্বজুড়ে অবাধ বাণিজ্যে বেইজিংয়ের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।



সাতদিনের সেরা