kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

এবার জাফরাবাদে সিএএবিরোধী ধরনা, সংঘর্ষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার জাফরাবাদে সিএএবিরোধী ধরনা, সংঘর্ষ

ভারতের রাজধানী দিল্লির জাফরাবাদে গতকাল সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। ছবি : এএফপি

দিল্লির শাহিনবাগের আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মাথাব্যথা ছিলই। শনিবার রাত থেকে তার সঙ্গে যোগ হলো উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ এলাকা। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) প্রতিবাদে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলেন নারীরা। প্রতিবাদীদের বুঝিয়ে রাস্তা খোলার চেষ্টা হলেও কোনো ফল হয়নি। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশন। আধাসেনা মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

গতকাল বিকেলে সিএএবিরোধী ও সমর্থনকারীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা পায় জাফরাবাদ এলাকা। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করে পুলিশ।

সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি মামলায় রায় দিয়েছেন, সরকারি চাকরি ও পদোন্নতিতে তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের সংরক্ষণ দিতে বাধ্য নয় সরকার। সেই রায়ের প্রতিবাদে গতকাল রবিবার দেশজুড়ে প্রতিবাদ-আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ভীম আর্মি প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। সেই আন্দোলনকেও সমর্থন করেছেন এই নারীরা। ফলে আন্দোলন আরো জোরদার হওয়ার আশঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শনিবার সিএএর প্রতিবাদে এবং এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার রাত থেকে জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের সামনে ধরনায় বসে পড়েন ২০০-এরও বেশি নারী প্রতিবাদকারী। তাঁদের  বেশির ভাগের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। সঙ্গে চলেছে ‘আজাদি’র স্লোগান। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেন পদস্থ পুলিশ কর্তারা। প্রতিবাদী নারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু অবস্থানে অনড় নারীরা। তাঁদের দাবি, ‘সিএএ-এনআরসি থেকে মুক্তি চাই।’

গতকাল সকালে ফের দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পদস্থ পুলিশ কর্তা বেদ প্রকাশ সূর্য বলেন, ‘আমরা প্রতিবাদীদের সঙ্গে কথা বলছি, যাতে তাঁরা আন্দোলন তুলে নিয়ে এলাকা ছেড়ে দেন। এভাবে মূল রাস্তা আটকে প্রতিবাদ করা যায় না। আধাসেনাকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে।’

সিএএ-এনআরসির প্রতিবাদে প্রায় ৭০ দিন ধরে শাহিনবাগে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। এই আন্দোলন নিয়ে একটি মামলায় কয়েক দিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রতিবাদ করা মৌলিক অধিকার, কিন্তু রাস্তা আটকে প্রতিবাদ করা যায় না। বিচারপতিরা বলেছিলেন, ‘সবাই যদি এভাবে রাস্তায় বসে পড়েন তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে।’ শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অন্য কোনো জায়গায় আন্দোলন সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুই আইনজীবীকে মধ্যস্থতাকারীকেও নিয়োগ করে দেন শীর্ষ আদালত। তাঁরা শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার রাতে অবশ্য একটি রাস্তা ব্যবহারের জন্য খুলে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে প্রায় একইভাবে রাস্তা আটকে জাফরাবাদেও আন্দোলন শুরু হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে পুলিশ-প্রশাসনে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা