kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চুলার রকমফের

রান্নার সবচেয়ে দরকারি অনুষঙ্গ চুলা। এখন রান্নার চুলায়ও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বিভিন্ন নকশার চুলা পাওয়া যায় বাজারে। খোঁজ নিয়েছেন ফাতেমা ইয়াসমীন

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চুলার রকমফের

আগুন আবিষ্কারের পর থেকে কাঁচা খাবার আগুনে ঝলসে খেতে শুরু করে মানুষ। তখন মাটিতে খনন করা কূপের ভেতর রান্না করত প্রাচীন কালের মানুষ। এর পরের প্রজন্ম সনাতন এই পদ্ধতিগুলোকে উন্নত করার চেষ্টা করে। কালক্রমে তৈরি হয় নানা ধরনের চুলা।

বিজ্ঞাপন

আমাদের দেশে বাজার ঘুরলে ইদানীং অনেক রকম চুলা দেখতে পাওয়া যায়।

দেশে এখন রান্নাবান্নায় গ্যাসের চুলাই বেশি ব্যবহার করা হয়। ব্যবহারের দিক থেকে এগুলো নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক। এই চুলাগুলোর মধ্যেও আবার বিভিন্ন ধরন আছে। লোহা, স্টিল, মার্বেল ও কাচ-এমন নানা ধরনের উপাদানে তৈরি চুলা পাওয়া যায় বাজারে। কাচের তৈরি টপের চুলাগুলোর নকশায় আছে রকমফের।

আমদানি করা গ্যাসের চুলাগুলোর বেশিরভাগই স্টেইনলেস স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি। চীন ও জাপানে তৈরি গ্যাসের চুলার চাহিদাই বেশি। এসব চুলার মধ্যেও রয়েছে নানা ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড। যেমন—অ্যারিস্টোন (ইতালি), কিনবো (তুরস্ক), আকাই এলজি, কোয়ান্টাম, মিয়াকো, আরএফএল, নিক্কো, কমেট, জেসিএলসহ (চীন)। দেশে তৈরি অ্যালুমিনিয়াম ও টিনের গ্যালভানাইজড গ্যাসের চুলার ব্যবহারই সাধারণত বেশি দেখা যায়। দেশীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে আরএফএল, ন্যাশনাল, র্যাংগস ও গাজীর চাহিদা বেশি।

গ্যাসের সাধারণ মানের চুলাগুলোয় দেশলাই কাঠি ব্যবহার করে আগুন জ্বালাতে হয়। এগুলো দুই হাজার ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এখন অটো চুলাগুলোও বেশ জনপ্রিয়। কারণ এতে আগুন জ্বালাতে ম্যাচের কাঠি খরচ করতে হয় না। স্টার্টার সুইচ ঘোরালেই চুলায় আগুন জ্বলে। অটো চুলা হিসেবে পরিচিতি এসব চুলার দাম পড়বে দুই হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। গ্যাস বডির ব্র্যান্ডের চুলার দাম ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। এ ধরনের চুলায় দুই থেকে পাঁচটি বার্নার থাকে। বার্নারের সংখ্যার সঙ্গে দামও ওঠানামা করে।

বাজারে বিভিন্ন মূল্যের গ্যাসের চুলা রয়েছে। ন্যাশনাল ব্র্যান্ডের চুলার দাম ৭০০ থেকে এক হাজার ৪০০, র্যাংগস ৮০০ থেকে এক হাজার এবং গাজী ৭০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। মডেলভেদে চার হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা মূল্যের চুলাও রয়েছে। জাপানের তৈরি নোকা কুকারের দাম এক হাজার ৯০০ থেকে চার হাজার, এনইওএস দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার, টারবো তিন হাজার থেকে ছয় হাজার, আরএফএল দুই হাজার ৪০০ থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে।

ইন্ডাকশন চুলা বা ম্যাজিক চুলার জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়ে চলছে। এই চুলার ওপরে টেম্পার্ড গ্লাস লাগানো থাকে। তাই আগুনের কোনো ভয় নেই। আবার রান্নার পাত্র পুড়ে যাওয়ার ভয়ও নেই। এতে তাপমাত্রা বাড়ানো-কমানো যায়, তাই বিদ্যুত্ বিল অনেক কম আসে। যাদের বাসায় গ্যাস সংযোগ নেই তাদের জন্য এ ধরনের চুলা বেশ কাজে দেয়। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইন্ডাকশন চুলা পাওয়া যায়। দাম তিন হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। সিঙ্গেল, ডাবল ও কোয়াড এই তিন ধরনের চুলা পাওয়া যায়। সিঙ্গার, ট্রান্সকম, ভিশন, মিয়াকো, ওয়ালটনের ইন্ডাকশনগুলো বেশি জনপ্রিয়। শোরুমগুলো ছাড়াও ক্রোকারিজ মার্কেট বা নিউ মার্কেটে এ ধরনের চুলা পাওয়া যাবে।

দেশের সব জেলা শহর কিংবা উপজেলা হার্ডওয়্যারের দোকানে চুলা এবং চুলা মেরামতের সব কিছু পেয়ে যাবেন। তবে যদি দেখেশুনে কিনতে চান যেতে পারেন গুলিস্তান, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, নিউ সুপারমার্কেট, চন্দ্রিমা সুপারমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি মার্কেট লেভেল ওয়ান, গুলশান ডিসিসি সুপারমার্কেট ১ ও ২, মিরপুর ১০ ও উত্তরা।



সাতদিনের সেরা