kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

ফল ও সবজির পুনর্ব্যবহার

ফলমূল ও সবজি সাধারণত কয়েক দিন পর মলিন হয়ে যায়। সতেজ ভাব কমে আসে। একসময় খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তেমন হলে আমরা সাধারণত ফেলে দিই। আবার ফল ও সবজির অনেক কিছুই ফেলে দিই। কিন্তু এগুলোও নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। ইন্টারনেট ঘেঁটে জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফল ও সবজির পুনর্ব্যবহার

রান্নাঘরে কাজের সময় প্রতিবারই কিছু না কিছু অবশিষ্ট থেকে যায়। এর কিছু যেমন একেবারেই ফেলনা, তেমনি আবার কিছু পুনরায় ব্যবহার করা যায়। ফেলে না দিয়ে এগুলো পুনরায় ব্যবহার করলে যেমন খাদ্যের অপচয় কমে, তেমনি সাশ্রয়ও হয়। নানাভাবে সবজি ও ফলের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

খাবারে বাড়তি স্বাদ ও ঘ্রাণ জোগাতে

এমন অনেক সবজি আছে, যেগুলো ব্যবহারের পর বা ব্যবহারের সময় খোসা ফেলে দিতে হয়। যেমন কমলা, লেবু, মাল্টা। জুস বা শরবত তৈরির সময় চিপে নেওয়ার পর এগুলোর খোসা কোনো কাজেও আসে না। এসব খোসা ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। পরে অন্য কোনো খাবারে বাড়তি স্বাদ ও ঘ্রাণ জোগাতে ব্যবহার করুন।

ফেলনা নয় আলুর খোসা

রান্নার সময় আলুর খোসা ছাড়িয়ে নেন অনেকে। এসব খোসার জায়গা হয় ডাস্টবিনে। এই খোসা দিয়েই তৈরি করতে পারেন মচমচে-মজাদার পটেটো চিপস। আলুর খোসা ছাড়ানোর আগে ভালো করে ধুয়ে নিন। খোসাগুলো রোদে শুকিয়ে তুলে রাখুন। এরপর মসলা মিশিয়ে ওভেনে ভেজে নিলেই পাবেন মচমচে পটেটো চিপস।

পুরো সবজির ব্যবহার

অনেক সময় কোনো কোনো সবজির পুরোটা ব্যবহার করা গেলেও আমরা তা করি না। গাজর, মুলা, শালগম রান্নার সময় সবুজ পাতা ফেলে দেন কেউ কেউ। এগুলো দিয়েই বানানো যায় বাড়তি পদ। যেমন পেস্ট তৈরির জন্য পার্সলে কেনার পরিবর্তে গাজরের সবুজ অংশ ব্যবহার করতে পারেন। সালাদ, স্যুপ তৈরি বা খাবার ড্রেসিংয়ের জন্য মুলা, শালগমের সবুজ শাক ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া সবুজ স্মুদি তৈরিও করতে পারেন এসব সবজির বাড়তি অংশ থেকে।

সবজির বীজও থাকুক খাদ্যতালিকায়

মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, শিম জাতীয় অনেক ভাজা বীজ আমরা দোকান থেকে কিনে খাই। এটা চাইলে বাড়িতেও বানিয়ে খাওয়া সম্ভব। বিভিন্ন সবজির বীজ রান্নার সময় বের করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে রেখে দিন। এরপর ভেজে বিট লবণ দিয়ে মেখে খেতে পারেন। এ ছাড়া বীজের সঙ্গে লেগে থাকা বাড়তি অংশ স্যুপ ও সালাদের টপিং হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন।

জন্ম হোক নতুন চারা

অনেক সবজির অংশ ও বীজ থেকে খুব সহজেই নতুন চারা জন্মানো যায়। এ জন্য বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না। কিছু সবজি সামান্য মাটি ও পানি পেলেই তরতরিয়ে বেড়ে ওঠে। যেমন পেঁয়াজ, রসুন, লেটুস পাতা, পালংশাক, আদা ইত্যাদির কাটা অংশ ফেলে না দিয়ে পুঁতে দিন। এগুলো থেকে গজানো চারা দিয়ে পুরো পরিবারের প্রয়োজন হয়তো মেটানো সম্ভব নয়, তবু ছোট ছোট চাহিদা মেটাতেই পারেন।

বাগানের সার

বেচে যাওয়া ফল, সবজি ও রান্নাঘরের অন্যান্য অংশ ফেলে না দিয়ে বাগানের সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। খাওয়ার অনুপযোগী ফল, সবজি, চা পাতা, কফি এগুলো উত্কৃষ্ট সার হিসেবে কাজ করে।

ক্লিনজার ও রূপচর্চা

খাওয়ার অনুপযোগী লেবু দিয়ে বাসনকোসন পরিষ্কার করতে পারেন। এ ছাড়া কলা, শসা, আম, তরমুজ, বাঙ্গি, আনারস, পেঁপে, ডাবের বেঁচে যাওয়া অংশ দিয়ে রূপচর্চা করতে পারেন।

মন্তব্য