kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

গুণে ভরা শুকনো ফল

বাজারে রসালো ফল তো আছেই; সঙ্গে শুকনো ফলও পাবেন। শুকনো ফল সহজে নষ্ট হয় না; দীর্ঘদিন রেখে খাওয়া যায়। এসব ফলের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য গুণ সম্পর্কে জানিয়েছেন বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান আখতারুন নাহার আলো। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গুণে ভরা শুকনো ফল

সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ফল খাওয়ার বিকল্প নেই। আমাদের শরীরের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য খাদ্যতালিকায় ফল রাখা খুবই দরকারি; কিন্তু নানা কারণে অনেকের পক্ষে খাদ্যতালিকায় ফলমূল রাখা সম্ভব হয় না। তাদের জন্য কার্যকর একটি সমাধান হতে পারে শুকনো ফল। বাজারে যেগুলো ড্রাই ফ্রুটস হিসেবেই বেশি পরিচিত। ড্রাই ফ্রুটস হচ্ছে শুকনো ফল অথবা ফলের অংশবিশেষ; যেগুলো বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়। আবার কিছু ফল আছে, যেগুলো পরিপক্ব হওয়ার পর এমনিতেই দীর্ঘ সময় ভালো থাকে। যেমন—বিভিন্ন বাদামজাতীয় ফল, খেজুর, খোরমা, আখরোট, কিশমিশ, এপ্রিকট, ক্রানবেরি, ফিগ, নারকেল, আমসত্ত্ব, বিভিন্ন বীজ ইত্যাদি। এ রকম অনেক ড্রাই ফ্রুটস একসঙ্গে মিলিয়ে মিক্সড ড্রাই ফ্রুটস হিসেবে বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বাদ পড়া ফলের ঘাটতি পূরণের জন্য শুকনো ফল খেতে পারেন। ড্রাই ফ্রুটস তাজা ফল থেকে তৈরি করা হয়। তাজা থেকে শুকনো ফলে পরিণত করার সময় ফলের পানির ঘনত্ব কমে যায়। এতে শুকনো ফলে ক্যালরির ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। ক্যালরি ছাড়াও ড্রাই ফ্রুটসে আয়রন, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, রিবোফ্লাবিন, থায়ামিন, এসেনশিয়াল ফ্যাট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। এ ছাড়া ড্রাই ফ্রুটসে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল থাকে। পলিফেনল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে। হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা প্রতিদিন ড্রাই ফ্রুটস খেতে পারেন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়। গর্ভাবস্থায়ও মায়েরা ড্রাই ফ্রুটস খেতে পারেন। এতে আয়রনের অভাব পূরণ হয়।

ড্রাই ফ্রুটসের মধ্যে খেজুর বিশেষ জনপ্রিয়। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, পটাসিয়ামসহ অনেক পুষ্টি ও খনিজ উপাদান থাকে। প্রতিদিন খেজুর খেলে শরীরে উষ্ণতা বাড়ে, বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। বিভিন্ন ধরনের বাদাম যেমন—কাঠবাদাম, পেস্তাবাদামের সঙ্গে কিশমিশ মিলিয়ে খেতে পারেন। যখন কোনো কিছু খেতে মন চায়; কিন্তু কী খাবেন ভেবে পান না, তখন কিশমিশ ও বাদাম খেতে পারেন। সঙ্গে শুকনো নারকেল যোগ করতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন ধরনের শুকনো ফল মিক্সড হিসেবে কিনতে পাওয়া যায়। ঝামেলা এড়াতে এমন মিক্সড ড্রাই ফ্রুটস কিনে রাখতে পারেন।

স্ন্যাকস হিসেবে ড্রাই ফ্রুটস অনেকের কাছে প্রিয়। খেতে বাড়তি ঝামেলা নেই; বরং সুস্বাদু। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে শুকনো ফল খাওয়া উচিত। এমনিতেই খাওয়া যায়। আবার বিভিন্ন মিষ্টি, সেমাই, জর্দা, পায়েসের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে সরাসরি বা ডেজার্ট যেভাবেই খান না কেন, তাতে শুকনো ফলের ক্যালরির কোনো তারতম্য হয় না। এ জন্য শুকনো ফল পরিমাণে কম খাওয়াই ভালো। দিনে এক মুঠো বা সর্বোচ্চ ৩০ গ্রাম খেতে পারেন। খেয়াল রাখবেন শুকনো ফল যেন একই পদ না হয়। বিভিন্ন ফলের সংমিশ্রণের শুকনো ফল বেশি উপকারী।

মন্তব্য