kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

সম্পর্কে সন্দেহ?

সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হয় কেন? কিভাবে হয় তার সমাধান, পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার। কথা বলেছেন এ এস এম সাদ

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সম্পর্কে সন্দেহ?

সন্দেহ কী?

বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের অন্তর্বর্তী যে নেতিবাচক চিন্তা ও অনুভূতি আমাদের যন্ত্রণা বা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তার নাম সন্দেহ। সঙ্গীর সন্দেহে ভিত্তি থাকতে পারে, নাও পারে। যে কারণেই সন্দেহ তৈরি হোক, তা আমাদের মানসিকতায় চাপ সৃষ্টি করে।

 

নিউরো বায়োলজিক্যাল কারণ

এ ক্ষেত্রে সঙ্গী কোনো কারণ ছাড়াই আপনাকে সন্দেহ করতে পারে। অর্থাত্ সন্দেহ করার মতো কোনো ভিত্তি না থাকলেও যদি সঙ্গী আপনাকে সন্দেহ করে, তাহলে একে বলা হয় ডিডিশিউনাল ডিসঅর্ডার। এ ক্ষেত্রে সঙ্গী কোনো বিষয়ে সন্দেহ করে। শরীরে কিছু বায়োলজিক্যাল নিউরো পদার্থের জন্য সঙ্গীর আচরণ এমন হতে পারে। এই নিউরো বায়োলজিক্যাল পদার্থের অসামাঞ্জস্যতার কারণে সঙ্গীর আচরণে একরকম সন্দেহপ্রবণতা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ এ রোগের প্রধান চিকিত্সা। এ রোগ ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে দূর করা যায় না। এমনকি কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমেও এ রোগ সারানো সম্ভব নয়। ওষুধ আসলে কার জন্য কত দিন খেতে হবে তা চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

পারিপার্শ্বিক কারণে

সঙ্গীর আরেকটি আচরণ হচ্ছে, ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও সন্দেহ করে। এখানে সন্দেহের মাত্রা একটু কম হলেও সঙ্গী অপরজনের ওপর একধরনের চাপ সৃষ্টি করে। পুরোপুরি সন্দেহ না করলেও সঙ্গী একরকম অনিরাপত্তায় ভোগে। হয়তো বেড়ে ওঠার সময় আশপাশের পরিবেশের কারণে তার মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। তার পরিবার কিংবা কাছের কোনো মানুষকে প্রতারিত হতে দেখে সে মানসিকভাবে হীনম্মন্যতায় ভুগতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে কাউন্সেলিংয়ের দরকার। সঙ্গী মনে করেন, আপনি তাঁর জীবন থেকে চলে যেতে পারেন, তাই সব সময় আপনাকে একটা নজরদারির মধ্যে রাখুন। বিশেষ করে আপনি যখন তাঁর থেকে দূরে অবস্থান করেন। 

 

সময় না দিলে

আপনি যদি তাঁকে ঠিকমতো সময় না দেন, তাহলেও সন্দেহ তৈরি হতে পারে। আপনি অন্য কাউকে সময় দিচ্ছেন অথবা তাঁকে প্রাধান্য দিচ্ছেন না—তাঁর মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় তাঁকে পূর্ণ সময় দিন এবং তাঁকে বুঝিয়ে দিন যে আপনি তাঁকেই সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।  

 

সন্দেহের ভিত্তি থাকলে

কিন্তু হ্যাঁ, সন্দেহ করার যথাযথ ভিত্তিও থাকতে পারে। ধরুন, আপনি আপনার সঙ্গীর কোনো কারণে বিশ্বাস ভেঙে ফেলেছেন, এ ক্ষেত্রে খুব সহজে কিন্তু আপনার ওপর তাঁর আস্থা তৈরি হবে না। তখন আপনাকে বিশ্বাস না করা স্বাভাবিক। কারণ আপনি বিশ্বাস ভঙ্গ করলে সেটার জন্য আপনিই দায়ী। এ ক্ষেত্রে সাবেক সম্পর্কজনিত ঘটনা প্রধান সমস্যা তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে এটি তাঁর মানসিক রোগ নয়, এখানে সঙ্গীর বিশ্বাস ভেঙে গেছে। তাই যে বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তারই দায়িত্ব আবার বিশ্বাস তৈরি করা।

 

সম্পর্ক নিয়ে শঙ্কায় থাকলে 

বর্তমানে একটা সম্পর্কে থাকা অবস্থায় যদি আপনি অন্য কারো সঙ্গে অধিক মেলামেশা করেন কিংবা নতুন একটা সম্পর্কে জড়িয়ে গেছেন—এমন শঙ্কা থেকেও সঙ্গী আপনাকে সন্দেহ করতে পারে। এ রকম সমস্যা হলে আপনার উচিত বিষয়টা পরিষ্কার করা। তাঁর সঙ্গে সময় নিয়ে আলোচনায় বসা।

 

সঙ্গী এককেন্দ্রিক হলে

সঙ্গীর পুরো পৃথিবী কিংবা সময় শুধু আপনাকে ঘিরেই যদি হয়, তাহলে সমস্যা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে তিনি কোনোভাবেই আপনাকে হারাতে চান না। সে ক্ষেত্রে সঙ্গীর উচিত আপনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেওয়া। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো ও সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করাও হতে পারে সমাধান। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা