kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এক কাপ চা

সকালের নাশতা বা বিকেলের আড্ডা—চা ছাড়া চলেই না। চায়ের হরেক রকম গুণের কথা বলেছেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ। কথা বলেছেন নাঈম সিনহা

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক কাপ চা

ছবি : ফারহানা শারমিন তৃষা

চা বলতে সাধারণত লিকার চা-কেই বোঝায়। তবে স্বাদের ভিন্নতায় নানা উপাদান মিশে, চা নিয়েছে নানারূপ। যেমন—দুধ চা, আদা চা, লেবু চা, পুদিনা চা, কালিজিরার চা প্রভৃতি। এখন তো মরিচ, মাল্টা, কমলাও বাড়াচ্ছে চায়ের স্বাদ। এসব উপাদান চায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এগুলোর গুণও চায়ের সঙ্গে যোগ হয়। সাধারণত লিকার বা লাল চা-তে কোনো ক্যালরি নেই। চা-তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি শরীরকে বিভিন্ন দূষণ থেকে রক্ষা করে। লিকার চা-তে ক্যাফেইনের পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় থাকে। চা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। ওজন কমাতেও সাহায্য করে। জাপানের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন, নিয়মিত চা পানে দাঁত পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। চা আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

আরো যত গুণ

♦          লিকার চা কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের জারিত হওয়া প্রতিরোধ করে। নিয়মিত লাল চা খেলে হূিপণ্ড ভালো রাখে।

♦          লাল চা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এটি মস্তিষ্কের পেশি শিথিল হতে সাহায্য করে। কাজে মনোযোগ বাড়ায়। এতে মানসিক চাপ কমে।

♦          চায়ের মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠাণ্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়।

♦          চায়ের ফ্লোরাইড মুখের দুর্গন্ধ দূর করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

♦          চায়ের মধ্যে থাকা ট্যানিন হজম প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে। এটি অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের সঙ্গে লড়াই করে। লাল চা অন্ত্রের প্রদাহ প্রতিরোধেও কাজ করে।

 

হরেক রকম চা

 

দুধ চা

দুধ ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ‘এ’, আয়রন ও শক্তির উত্স। তাই চায়ে দুধ মেশালে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। ওয়ার্ল্ড হেলদিয়েস্ট ফুড ম্যাগাজিন অনুযায়ী দুধ চা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার, বিশেষভাবে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

দুধ চায়ের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, কোন ধরনের দুধ চায়ে মেশানো হচ্ছে। কনডেনসড মিল্ক, নাকি গরুর দুধ। অবশ্যই কনডেনসড মিল্ক শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট থাকে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের কনডেনসড মিল্কের চা খাওয়া একদমই উচিত না। যাদের ওজন বেশি তাদের জন্যও এটি খারাপ ফল বয়ে আনবে।

 

গ্রিন টি

এই চায়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। এটি আমাদের খাওয়ার ইচ্ছাও কিছুটা কমিয়ে দেয়। এতে বিশেষ সুবিধা হচ্ছে, এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে কোনো প্রকার ক্যালরি শরীরে যুক্ত হয় না তাই ওজন বাড়ার চিন্তা থাকে না। 

 

হার্বাল চা

বিভিন্ন ধরনের হার্বাল চায়ের মধ্যে তুলসী, কালিজিরা, এলাচ, দারচিনি, আদা ও লবঙ্গ চা বেশ জনপ্রিয়। স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী এসব হার্বাল চা। এলাচ হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে। দারচিনি চা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের গুণ থাকায় হজমশক্তি ভালো হয়। ডায়রিয়া ও বমিভাব কাটাতেও সাহায্য করে। চায়ের সঙ্গে আদা যুক্ত হলে সেটি হজমে সাহায্য করবে। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মাথাব্যথা, সর্দি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও আদা চা পান করলে স্বস্তি পাওয়া যায়। লং চা আলসারসহ পেটের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিকারে সহায়ক। কালিজিরা, তুলসী, লং, দারচিনিতেও প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান থাকে, যা বিভিন্ন রোগের থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। যেমন—কার্ডিয়াক, ডায়াবেটিস, স্থুলতা ইত্যাদি।

 

বিশেষ সতর্কতা

খাবার খাওয়ার পর চা খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। ভরা পেটে চা খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়। এতে শরীর দুর্বল লাগা, মাথাব্যথাসহ নানা সমস্যা হতে পারে।

খাবার খাওয়ার দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর চা খাওয়া ভালো।

যাদের অ্যাসিডিটি-গ্যাসট্রিকের সমস্যা রয়েছে তাদের চা পরিহার করাই উত্তম। যাদের অনিদ্রা আছে, তাদের চা খাওয়া ঠিক না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা