kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

কম্পিউটার শেখার পাঠশালা

কম্পিউটার জ্ঞান না থাকলে যুগের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন। তাই কম্পিউটারে ঝুঁকছে সবাই। আপনিও দিতে পারেন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার। বিস্তারিত জানাচ্ছেন তানজিল আহমেদ জনি   

৩০ জুন, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কম্পিউটার শেখার পাঠশালা

অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। ছবি : কাকলী প্রধান

মানসম্মত একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার দিতে চাইলে বিনিয়োগ করতে হবে ৮-১০ লাখ টাকা। কম বিনিয়োগেও শুরু করতে পারেন। ছোট পরিসরে শুরু করলেও ন্যূনতম তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

যা যা লাগবে

শুরুতেই লাগবে ট্রেড লাইসেন্স। বিনিয়োগের বেশির ভাগই ব্যয় হবে দোকান ভাড়া, ডেকোরেশন এবং কম্পিউটার ও প্রজেক্টর কেনা বাবদ। এ ছাড়া লাগবে স্ক্যানার, লেজার প্রিন্টার, ইউপিএস ও ইন্টারনেট সংযোগ। তৈরি করতে হবে লেকচারশিট। ক্লাসে কম্পিউটার শেখার বই ও ভিডিও টিউটোরিয়াল সরবরাহ করলে ভালো।

স্থান নির্বাচন

ঢাকার পান্থপথের ই-ফিউচারবিডির হেড অব আইটি ও তরুণ উদ্যোক্তা সুমন আহমেদ জানান, এ ব্যবসায় স্থান নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের কোনো স্থান বেছে নেওয়া ভালো। এমন কোনো স্থানও বেছে নিতে পারেন, যেখানে তরুণ বা ছাত্রছাত্রীদের আনাগোনা বেশি।

চালু করতে পারেন যেসব কোর্স

চাহিদা আছে এমন সব কোর্স বেছে নিতে হবে। সব ধরনের শিক্ষার্থীর জন্য রাখতে পারেন অফিস ব্যবস্থাপনা কোর্স যেমন : মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট। ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর ও অ্যানিমেশননির্ভর কাজের চাহিদা বাড়ায় এসব কোর্স রাখতে পারেন। চালু করতে পারেন হার্ডওয়্যার ও কম্পিউটার ট্রাবলশুটিং কোর্স। অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করার বিষয়ে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হওয়ায় রাখতে পারেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও), ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, ব্লগিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইত্যাদি কোর্স। কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করতে পারেন প্রোগ্রামিং, সি প্রোগ্রামিং, সি প্লাস, জাভা, পিএইচপি অ্যান্ড মাইএসকিউএল, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, সি সার্প ডট নেট, এসপি ডট নেট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি। ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য রাখতে পারেন মাইক্রো কন্ট্রোলার, রোবোটিক্স, পিএলসি আর সিভিল বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অটোক্যাড।

কোর্সের ব্যাপ্তি ও ফি

বাজার যাচাই করে কোর্সের ব্যাপ্তিকাল ও ফি নির্ধারণ করতে হবে। কোর্সের ধরনের ওপর ব্যাপ্তি নির্ভর করে। তবে তিন ও ছয় মাস মেয়াদি কোর্সের চাহিদা বেশি। কোর্স ফির ক্ষেত্রে মানের বিষয়টি যেমন বিবেচনায় আনতে হবে, একই সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এলাকার মানুষের সামর্থ্যের বিষয়টিও।

যাঁরা পরিচালনা করবেন

কোর্স পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র এবং বিভিন্ন সফটওয়্যার ফার্মে কর্মরতদের নিয়োগ দিতে পারেন। তবে এর আগে নিশ্চিত হতে হবে, কোর্সের বিষয়ে তাঁদের যথেষ্ট জ্ঞান এবং অন্যদের বোঝানোর ক্ষমতা আছে কি না। দু-তিনটি ক্লাস পর পর শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখতে পারছে, তা জানার জন্য তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিতে হবে।

দেওয়া যেতে পারে সনদ

কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের দেওয়া যেতে পারে সনদ। এ জন্য বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ড থেকে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে তাদের নির্ধারিত কোর্স পরিচালনার করেও শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারেন বিদেশি সনদ।

এ ব্যবসার চ্যালেঞ্জ

তেমন ঝুঁকি না থাকলেও এ ব্যবসায় আছে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা। হয়তো আপনার আশপাশেই আছে অনেক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার, যারা নামমাত্র মূল্যে বিভিন্ন কোর্স অফার করছে। মান ঠিক রেখে এত কম খরচে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হয়তো অনেকের জন্যই কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সময় লাগতে পারে। ভালো মানের কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও একটি চ্যালেঞ্জ। তবে বাজার উপযোগী কোর্স চালু, দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ দিলে প্রশিক্ষণার্থী পেতে বেগ পেতে হবে না। লিফলেট, ব্যানার, সাইনবোর্ড হতে পারে প্রচারের মাধ্যম।

আয়-রোজগার

সুমন আহমেদ জানান, এ ব্যবসার আয় নির্ভর করে ব্যবসার পরিধি, সেবা ও প্রশিক্ষণার্থীর ওপর। তবে মাসে পঞ্চাশ হাজার থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকার ওপরেও আয় করা সম্ভব। তিনি বলেন, 'প্রথমে প্রশিক্ষণার্থী পেতে একটু বেগ পেতে হবে। একটু ধৈর্য ধরে ব্যবসা চালিয়ে গেলে দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যেই ভালো একটি অবস্থানে যাওয়া সম্ভব। এর জন্য পরিশ্রমী হতে হবে।'