আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে গণসংযোগ করছেন আওয়ামী লীগের অর্ধডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। কিন্তু তাঁদের ছাপিয়ে হঠাৎ আলোচনায় উঠে এসেছেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী। ক্লিন ইমেজের ড. নুরুন নবী দেশে না থাকলেও নির্বাচন সামনে রেখে পক্ষকাল ধরে গোপালপুর-ভূঞাপুর নির্বাচনী এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাঁর প্রাির্থতার কথা জানান দিয়ে সমর্থকগোষ্ঠী নানা ধরনের পোস্টার-ফেস্টুন ও লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছে। আকস্মিক ড. নুরুন নবীর কর্মী-সমর্থকদের দৌড়-ঝাঁপ দেখে টাঙ্গাইল-২ আসনে কে মনোনয়ন পাবে তা নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বোদ্ধারা। নির্বাচনের বিষয়ে ড. নুরুন নবী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তাদের সবুজ সংকেত পেলেই দেশে ফিরে দেশমাতৃকার ঋণ পরিশোধের জন্য জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব। আমি প্রিয় গোপালপুর-ভূঞাপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী কাজ শুরু করব। দেশের মানুষের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।’ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী ১৯৪৯ সালে গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খামারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হেমনগর শশীমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন ও ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়নে স্নাতক করে জাপানের কিয়ুশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মলিকিউলার বায়োলজিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করে দীর্ঘদিন কোলগেট কম্পানিতে গবেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কোলগেট টোটালের অন্যতম আবিষ্কারক তিনি। তাঁর ৫০টিরও বেশি পেটেন্ট রয়েছে। নুরুন নবী ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত থাকাকালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।