kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

পঞ্চম শ্রেণি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়

জনসংখ্যা

পঞ্চম অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে জনসংখ্যা নিয়ে। এই অধ্যায় থেকে দুটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনসংখ্যা

 

 

মৌলিক চাহিদা বলতে কী বোঝায়? আমাদের প্রধান তিনটি মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রধান বাধা কী? মৌলিক চাহিদাগুলোর ওপর এর প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর : মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিত্সার মতো যেসব চাহিদা বা উপাদান একান্ত আবশ্যক, তাকেই মৌলিক চাহিদা বলে। মৌলিক চাহিদাগুলো কোনো রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত চাহিদা।

আমাদের প্রধান তিনটি মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রধান বাধা অধিক জনসংখ্যা।

নিম্নে মৌলিক চাহিদাগুলোর ওপর অধিক জনসংখ্যার প্রভাব আলোচনা করা হলো—

১। খাদ্য : অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য বসতি স্থাপন করতে গিয়ে কৃষিজমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে কমছে খাদ্য উত্পাদন। আবার অধিক জনসংখ্যার জন্য বেশি বেশি খাবারেরও প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে দেখা দেবে খাদ্যঘাটতি।

২। বস্ত্র : মৌলিক চাহিদার আরেকটি উপাদান পরিধেয় বস্ত্র। বেশি জনসংখ্যার কারণে বেশি পোশাকের জোগান দিতে হলে যে পরিমাণ বস্ত্রশিল্প কারখানা স্থাপন করতে হবে, তার জন্য উদ্যোক্তা ছাড়াও প্রয়োজন অধিক মূলধন, ভূমি, বিদ্যুত্, গ্যাসসহ আরো অনেক উপকরণ, যা আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই। তার ওপর আবার পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হলে পরিবারের প্রধানও সকল সদস্যকে মানসম্মত পোশাক কিনে দিতে পারেন না।

৩। বাসস্থান : আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ লোক মোট জনসংখ্যার সঙ্গে যোগ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ভূমি বাড়ছে না। ফলে সকলের জন্য উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই অনেক মানুষ গৃহহীন থেকে যায়।

এভাবে অধিক জনসংখ্যা আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।

বাংলাদেশে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা কত? শহরের একজন গৃহহীন শিশুকে কী কী সমস্যায় পড়তে হয়?

উত্তর : বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন। 

গ্রামে বাসস্থান হারিয়ে কিংবা কাজের খোঁজে গৃহহীন মানুষ শহরে চলে আসছে। এদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা শিশু। শহরে গৃহহীন শিশুর জীবনযাপন বেশ কষ্টের।

১। গৃহহীন শিশু পচা-বাসি খাবার খেয়ে জীবন কাটায়। অনেক শিশুকে ডাস্টবিন থেকে খাদ্য খুঁজতে দেখা যায়। অনেক সময় না খেয়েই তাদের দিন কাটে।

২। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার মাঝেও গৃহহীন শিশুদের রাস্তায় কিংবা ফুটপাতে ঘুমাতে হয়।

৩। ছেঁড়া কাপড় পরে খালি পায়ে ওদের থাকতে হয়। শীতবস্ত্রের অভাবে তীব্র শীতের মধ্যেও তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়।

৪। গৃহহীন শিশু নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্যসন্মত পয়োনিষ্কাশন সুবিধা পায় না। ফলে প্রায়ই তারা নানা রোগে আক্রান্ত হয়।

৫। গৃহহীন শিশুরা প্রায়ই নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়ে। এদের অনেকেই অপহরণের শিকার হয়।

 গ্রন্থনা : শান্তনা খানম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা