kalerkantho

ফগার মেশিন বিকল, কর্মচারীদের ধর্মঘট

ধামইরহাট পৌরসভায় মশা মারার কোনো উদ্যোগ নেই

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁর ধামইরহাট পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা মারার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। পৌর এলাকার ড্রেনগুলো যেন মশা জন্মানোর কারখানায় পরিণত হয়েছে। এদিকে মশা মারার ফগার মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে বহুদিন ধরে।

জানা যায়, সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ভাতার দাবিতে গত ১৪ জুলাই থেকে সারা দেশের পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। ফলে ধামইরহাট পৌরসভার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পৌরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। ময়লা-আবর্জনা না সরানোয় রাস্তাগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ড্রেনগুলোতে মশা মারার কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে না। ফলে ড্রেনগুলো মশা জন্মানোর কারখানায় পরিণত হতে চলেছে। তা ছাড়া দির্ঘদিন ধরে মশা মারার একমাত্র ফগার মেশিনটিও বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ধামইরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পূর্ব পাশের ড্রেনটি সংস্কারের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে ড্রেনে বিছানো ইটগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রায় দেড় মাস ধরে ওই ড্রেনটি আর সংস্কার করা হয়নি। ড্রেনটি অরক্ষিত অবস্থায় আছে। এতে ড্রেনে পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা তৈরি হচ্ছে।

ধামইরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান বাদল বলেন, ‘বাড়ির সামনের ড্রেনটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আবর্জনার দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা মুশকিল। তা ছাড়া মশা মারার উদ্যোগ না থাকায় মহল্লাবাসী চিন্তিত হয়ে পড়েছে।’ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, ‘এলাকাবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি বিভিন্ন ড্রেন ও যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থানে দ্রুত মশা মারার ওষুধ প্রয়োগ করা দরকার।’

ধামইরহাট পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্যানেল মেয়রের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মশা নিধনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিকল ফগার মেশিনটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত কোনো রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার পরও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনগণকে সচেতন করার জন্য আমরা কাজ করছি। আর এডিস মশা নিধনের দায়িত্ব পৌরসভার। এ ব্যাপারে ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গণপতি রায় বলেন, ‘জাতির ক্রাইসিস মুহূর্তে দু-এক দিনের মধ্যে পৌরসভার সব কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজে যোগ দেবেন বলে আশা করি। আর দ্রুত ফগার মেশিন সংগ্রহ করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এডিস মশা নিধনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য