kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

তাবলিগ জামাতের কাকরাইল মসজিদ কিছুটা ব্যতিক্রম

সেলিম জাহিদ   

২১ জানুয়ারি, ২০১০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাবলিগ জামাতের কাকরাইল মসজিদ কিছুটা ব্যতিক্রম

কাকরাইলের এই মসজিদ থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম। ছবি : কালের কণ্ঠ

সব মসজিদই আল্লাহর ঘর। ধর্মীয় বিবেচনায় সব মসজিদের মর্যাদাও সমান। তবে তাবলিগ জামাতের মারকাজ 'কাকরাইল মসজিদ' একটু ব্যতিক্রমী। রমনা পার্কের পাশ ঘেঁষা ঐতিহাসিক এই মসজিদের ভেতরে-বাইরে কোনো জৌলুসও নেই। বিশ্ব তাবলিগ জামাতের মারকাজ (প্রধান কেন্দ্র) হিসেবে বিশ্বজোড়া পরিচয় থাকলেও মসজিদটি একেবারেই সাদামাটা। নেই সুউচ্চ মিনার। মিনারের চূড়ায় আর সব মসজিদের মতো চারমুখী মাইক নেই। সারি সারি ফ্যান নেই। নরম গালিচা, ঝাড়বাতি, অজুখানা_কোনো কিছুতেই বিলাসিতা নেই। ঢাকার অগণিত মসজিদের উচ্চ মিনার থেকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আজান হয় মাইকে। তাবলিগ জামাতের প্রাণকেন্দ্র কাকরাইল মসজিদে কখনো মাইকে আজান দেওয়া হয় না। এমনকি নামাজের সময়ও ইমাম মাইকে সুরা-কিরাত পড়েন না। এটি তাবলিগ জামাতের একটি বৈশিষ্ট্য। এই নিয়ম মেনে চলা হয় অন্যসব মারকাজেও। তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, 'অপ্রয়োজনীয়তা যতটা এড়িয়ে চলা যায়, ততই কল্যাণ। আশপাশের মসজিদে মাইকেই আজান হয়, ফলে আমরা না দিলেও চলে।' এ বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নুরিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, ধর্মে 'আজিমত' ও 'রুখসত' নামে দুটি বিধান আছে। রুখসত হচ্ছে প্রয়োজনের খাতিরে অগত্যা কোনো কাজ করা। আর আজিমত হচ্ছে ধর্মের বিধান হুবহু অক্ষুণ্ন রাখা। তাঁর মতে, তাবলিগের মারকাজ মসজিদে মাইকের ব্যবহার না করাটা আজিমত। এটিই ধর্মের প্রকৃত অনুকরণ। তবে এ নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। জানা গেছে, কাকরাইল মসজিদে বেতনধারী সার্বক্ষণিক কোনো ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নেই। তাবলিগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই পালাক্রমে এ দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি তাবলিগে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মসজিদ আঙিনায় প্রতিদিন যিনি খাবার রান্না করেন তাঁরও কোনো বেতন নেই। জানা গেছে, মসজিদে নামাজ পড়ার সময় কেবল মুয়াজ্জিনের জন্য মাইক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সম্প্রতি কার্যকর করেছে তাবলিগ জামাতের মজলিসে শুরা। একজন ব্যবসায়ীর অনুরোধে সম্প্রতি মসজিদে সাধারণ মানের টাইলস বসানো হয়েছে। কাকরাইল মসজিদের মূল অংশটি তিনতলা। ডানপাশের অংশটি ছয়তলা। ছয়তলা ভবনটি হিফজখানা, ছাত্রাবাস ও তাবলিগের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, কাকরাইল মসজিদের আদি নাম ছিল 'মালওয়ালি মসজিদ'। পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লার উত্তর-পশ্চিম কোণের 'খান মুহাম্মদ মসজিদ' থেকে ১৯৫২ সালে কাকরাইল (মালওয়ালি) মসজিদে তাবলিগ জামাতের মারকাজ স্থানান্তর হয়। এর আগে দুবার খলুনায় ও তিনবার ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় তাবলিগের মারকাজ স্থানান্তর হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা