... যাঁরা ঘরে বসে আছেন, তাঁদের উচিত সময়টাকে নষ্ট না করে অনলাইনের সুবিশাল বাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা। একজন নারীর আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ দারুণ ভূমিকা পালন করতে পারে ... ঘরে বসে নানারকম সামগ্রী তৈরি করেন তাঁরা। এর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব পণ্যের ছবি ও বর্ণনা ছড়িয়ে দেন। আগ্রহী ক্রেতারা যোগাযোগ করে কিনে নেন পণ্য। এভাবেই ঘরে বসে রোজগার করছেন অনেক তরুণী। কেউ বানান গহনা, ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী, কেউ বা রূপচর্চার জিনিস। কেউ তৈরি করেন চুলের ফিতে, চুড়ি, ক্লিপ, হিজাব, ওড়না ইত্যাদি। তাঁদের তৈরি সামগ্রীগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে সম্প্রতি ফেনীতে ‘দেখা হবে বিজয়ে’ ও ‘আপন ইভেন্টস’ এর আয়োজনে হয়ে গেল তিন দিনের অনলাইন উদ্যোক্তা মেলা। এতে ১৭ জন উদ্যোক্তা অংশ নেন। মেলায় এনআর মার্ট, এমএস ক্রিয়েশন, তাসমিয়া’স ক্রাফটোপিয়া, সাবনাজ মেচিং কর্নার ও টি’স ফেন্সী, সৈয়দাস এরোনা, ইসরা কসমেটিক্সসহ মেলায় হ্যান্ডমেইড গহনা সাজানী, হিজাব, ফটোগ্রাফি ও আইটি রিলেটেড ১৭টি স্টল ছিল। ‘আপন ইভেন্টস’-এর স্বত্বাধিকারী শরীফুল ইসলাম অপু বলেন, ‘ফেনীতে যাঁরা উদ্যমী উদ্যোক্তা তাঁদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এ উদ্যোগ।’ এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব দূর হবে বলে মনে করেন তিনি। শহরের ভাষাশহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়। তিনি বলেন, ‘ফেনীর তরুণরা খুবই মেধাবী এবং সৃজনশীল। ওঁরা ডিজিটালাইজেশনকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে ক্ষুদ্র ব্যবসার বীজ বুনেছেন-যা একদিন বড় বৃক্ষে পরিণত হবে।’ তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উদ্যোক্তাদের কথা রাসনা আকলিমা। পেশায় তিনি ড্রয়িংয়ের শিক্ষক। ফেনী শিশু একাডেমি ও শহরের প্রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা করেন। সমপ্রতি তিনি অনলাইনে শুরু করেছেন ব্যবসা। আর তা থেকে আয়ও আসছে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকার মতে। তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে শুরু করেন এ ব্যবসা। ফেসবুকে খোলেন ‘রাসনা ক্রাফটি’ নামের পেজ। বিক্রি শুরু করেন গ্লাস পেইন্টার জার দিয়ে। এর পর বিক্রি করতে থাকেন বিভিন্ন জুয়েলারি পণ্য। রাসনা আকলিমা জানান, যাঁরা ঘরে বসে আছেন, তাঁদের উচিত সময়টাকে নষ্ট না করে অনলাইনে এ সুবিশাল বাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা। একজন নারীর নিজের পরিসরটাকে বাড়ানো এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইনে উদ্যোগ দারুণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সফলতার এমন গল্প শুধু রাসনার নয়। জিনান আমিন ও নুসরাত সুলতানারও রয়েছে সাফল্যের গল্প। জিনান বিনতে আমিন। ফেনী সরকারি কলেজে সমাজকর্মে অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ছেন তিনি। অনলাইন ব্যবসায় তাঁর শুরুটা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে। কলেজের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনার সময় কলেজের বড় ভাইদের জন্য তৈরি করেন পাঞ্জাবি। এর পর সেই বড় ভাই শরীফুল ইসলাম অপু, আবদুর রহীম ও জসিম উদ্দিনের প্রেরণাতেই শুরু হয় অনলাইন ব্যবসা। খোলেন ‘ক্রিয়েশন ওয়াল্ডর্’ নামের একটি ফেসবুক পেজ। বিক্রি শুরু করেন পার্ল মালা, পার্ল হিজাব, বেল্ট, লকেট, কানের দুল, চুড়ি, পার্ল কানের দুল, পার্ল চুড়ি, পাঞ্জাবিসহ বাহারি পণ্য। জিনান জানান, এখন প্রতিমাসে তাঁর পাঁচ হাজার টাকার উপর বিক্রি হয়। বিয়ের মৌসুমে তা দ্বিগুণ বাড়ে। তিনি বলেন, ‘এ ব্যবসা যদি নিয়মিত করতে পারি, তাহলে এখান থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানো সম্ভব।’ নুসরাত সুলতানা শখের বিউটিশিয়ান। এ কাজ করতে গিয়েই অনলাইনে তাঁর পা রাখা। রূপচর্চা করতে আসা নারীরা তাঁর কাছে পরামর্শ চান ভালো প্রসাধনীর ব্যাপারে। তাঁর মাথায় এলো, এ থেকে তো ব্যবসা করা যায়। ফেসবুকে খুলে ফেলেন একটি পেজ। তাঁর আর বসে থাকতে হচ্ছে না। পেজে অর্ডার আসছে, তিনি তা পৌঁছে দিচ্ছেন গ্রাহকের হাতে। নুসরাত বলেন, ‘এখন প্রতিমাসে আমার বিক্রি হয় ১০ হাজার টাকার উপরে। সামনে পরিকল্পনা আছে ব্যবসার পরিসর আরো বাড়ানোর।’