সাবেক সংসদ সদস্য এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সুলতানুল কবির চৌধুরী আর নেই। তিনি গতকাল সোমবার ভোরে ঢাকায় নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে যান। সুলতানুল কবিরের মৃত্যুতে তাঁর জন্মস্থান পুরো বাঁশখালী শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রখ্যাত জমিদার ফয়জুল কবির চৌধুরীর দ্বিতীয় সন্তান সুলতানুল কবির চৌধুরী। বিশাল সম্পত্তি, বিত্ত বৈভব আর প্রাচুর্যের অধিকারী হলেও তাঁর চলাফেরা ছিল সাধারণের মতো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে, সততা, নৈতিকতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতায় অহংকারকে পায়ে ঠেলে সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরায় চট্টগ্রাম তথা পুরো দেশে আলোচিত ছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল গফুর, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রণতোষ দাশ বলেন, সুলতানুল কবিরের মৃত্যুতে আওয়ামী রাজনীতির এক নক্ষত্রের পতন হয়েছে। জানা গেছে, সুলতানুল কবির ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন তিনি। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পান। হয়ে ওঠেন তাঁর কাছের মানুষ। '৭১ সালের এপ্রিলে বাঁশখালীতে স্থানীয়ভাবে মুক্তিবাহিনী সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। '৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তাঁর নেতৃত্বে সম্মুখযুদ্ধে গুনাগরী পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকায় পাঞ্জাবিরা পালিয়ে যায়। '৭২ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সুলতানুল কবির। '৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর প্রতিবাদ করতে গিয়ে সামরিক জান্তার হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ৬ মাস কারাবরণ করতে হয় তাঁকে। '৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালী সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। '৯৯ সালে আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য ও বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, বাঁশখালী বিএনপির সভাপতি আলমগীর কবির চৌধুরী, পুঁইছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন কবির চৌধুরী, বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ ফখরুদ্দিন চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নীলকণ্ঠ দাশ, সাতকানিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আয়ুব চৌধুরী প্রমুখ।