আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো পর্যায়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরান। তবে একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নসংক্রান্ত কারিগরি আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘মূলত আগামী কয়েক দিনে কোনো পর্যায়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’
তবে একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নসংক্রান্ত কারিগরি আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, দোহায় যে আলোচনা হবে, তা ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা নয়; বরং সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক। এর মধ্যে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও রয়েছে।
অন্য পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে তবেই ইরানও নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে বাঘাইয়ের বলেন, সমঝোতা স্মারকে সব পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রেরও নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি বলেন, দোহায় চলমান বৈঠকগুলো বৃহত্তর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ এবং এতে ইরানসংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে দোহায় অবস্থান করছেন। তারা কাতারি কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তবে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো সরাসরি রাজনৈতিক আলোচনা করছেন না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে দোহা ও অন্যান্য স্থানে যেসব বৈঠক হচ্ছে, সেগুলো মূলত কারিগরি পর্যায়ের।
এদিকে চলতি মাসে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা তৈরির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
বিদেশে জব্দকৃত ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ার বিষয়ে কাতারের মুখপাত্র জানান, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল এখনো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ওই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে, অর্থাৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলেই অর্থ ছাড়ের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




