• ই-পেপার

ইরানি সাইবার হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, দাবি ইসরায়েলের

পাকিস্তানি হামলায় ৩৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত : আফগান সরকার

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানি হামলায় ৩৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত : আফগান সরকার
ছবি : রযটার্স

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে পাকিস্তানি হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছেন তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র। 

হামদুল্লাহ ফিতরাত তার এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘গত রাতের হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন এবং আরো ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।’

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবার পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে একটি স্থল অভিযান চালায় এবং এরপর জঙ্গিদের আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালায়।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, দেশজুড়ে একাধিক হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতার বেশির ভাগের জন্য তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবান এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে।

বন্দুক ও বিস্ফোরক সজ্জিত যোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে তিন সেনাকে হত্যা করার এক দিন পর এই ঘটনা ঘটল। নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা করেছে এবং আহত অবস্থায় থাকা আরেক হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাকে সামরিক বাহিনী একজন আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে।

পাকিস্তানি তালেবানের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ জামাত-উল-আহরার শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে করাচি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারার বলেছেন, আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের সর্বশেষ অভিযানে পাকিস্তানি তালেবানের গোপন আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পাকিস্তানি তালেবান আফগান তালেবান থেকে একটি পৃথক একটি গোষ্ঠী, যদিও তারা পরস্পরের মিত্র। আফগান তালেবান ২০২১ সালে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে। সর্বশেষ এই অভিযানগুলো ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে আগে থেকেই বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে খারাপ করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানে গোপন আস্তানায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে রবিবারের এই আন্তঃসীমান্ত হামলা ও স্থল অভিযান চালানো হলো। একটি স্থায়ী শান্তি স্থাপনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে ইসলামাবাদের ভাষায় ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’-এর পর প্রায় এক মাস ধরে চলা আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটাল এই হামলাগুলো।

দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাতের জেরেই এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডের ভেতরে বিমান হামলা চালালে আফগানিস্তান পাল্টা হামলা চালায়, যার পর থেকে সীমান্ত-পার লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একাধিক দফা শান্তি আলোচনা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। চীনও এপ্রিলে উভয় পক্ষকে আতিথ্য দিয়েছিল এবং বেইজিং পরে বলেছিল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান তাদের সংঘাত না বাড়াতে এবং একটি সমাধান খুঁজতে সম্মত হয়েছে।

গত বছর থেকে পাকিস্তান সীমান্তে এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে টিটিপি ও অন্য জঙ্গিদের কথিত আস্তানা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে, আফগানিস্তানের আফগান তালেবান সরকার, বিশেষ করে টিটিপিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রাণঘাতী হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
 

৮০তম জন্মদিনে ভেসপার নস্টালজিক উৎসবে রঙিন রোম

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮০তম জন্মদিনে ভেসপার নস্টালজিক উৎসবে রঙিন রোম
সংগৃহীত ছবি

মহাকাব্যিক রোমান্টিক সিনেমা ‘রোমান হলিডে’ গ্রেগরি প্যাক আর অড্রে হেপবার্নকে তো অমরত্ব দিয়েছেই, বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছিল দুই চাকার এক স্কুটারকেও। ১৯৫৩ সাংবাদিক গ্রেগরির ভেসপার পেছনে বসে রাজকুমারী হেপবার্নের রোমের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য এখনও নস্টালজিক করে কোটি কোটি মানুষকে। সেই যে ভেসপার দুরন্ত গতি, তা আর থামেনি। এখন আধুনিক সব মোটর সাইকেলের ভিড়েও ভেসপা টিকে আছে তার আভিজাত্য, আইকনিক স্টাইল নিয়ে; কোটি মানুষের নস্টালজিয়া হয়ে।

১৯৪৬ সালে প্রথম ভেসপা নেমেছিল রাস্তায়। তারপর ১৯৫৩ সালে রোমান হলিডের পর্দা ধরে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। সেই ভেসপার ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক রোম সেজেছিল রঙিন সাজে। চারদিনের এ উৎসবে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভেসপাপ্রেমীরা জড়ো হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে রবিবার শেষ হয়েছে বর্ণাঢ্য ভেসপা উৎসব। শনিবার ছিল ভেসপার গ্র্যান্ড র‌্যালি। সেদিন রোমের আইকন কলোসিয়াম আর রোমান ফোরামের আশেপাশের রাস্তা ছিল ভেসপায় সয়লাব। ১০ হাজারেরও বেশি ভেসপাপ্রেমী তাদের প্রিয় বাহন নিয়ে সামিল হয়েছিলেন র‌্যালিতে। ভেসপার চেনা খটখট আওয়াজে সেদিন আড়ালে ছিল বিলাসবহুল সব গাড়িও। 
ভেসপার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিয়াজিও এবং ভেসপাপ্রেমীদের বৈশ্বিক সংগঠন ভেসপা ওয়ার্ল্ড ক্লাব এ উৎসবের আয়োজন করে। ঐতিহাসিক রোম শহরের পৌর প্রশাসন এ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি স্টেডিয়াম অফ দ্য মার্বেলস-এ ফিতা কেটে উৎসববের উদ্বোধন করার পর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভেসপাপ্রেমীরা নেচে, গেয়ে, স্লোগান দিয়ে, পতাকা উড়িয়ে উৎসবে যোগ দেন। অনেকেই সরাসরি উপহারের দোকানের দিকে ছুটে যান। সেখান থেকে তারা ভেসপা জ্যাকেট ও টুপি থেকে শুরু করে ভেসপা কম্বল, ভেসপা পানির বোতল এবং ভেসপার ছাতা পর্যন্ত কিনে নেন। যারা একদম শুরুতে এসেছিলেন, তাদের বেশিরভাগেরই নজর ছিল সীমিত সংস্করণের হেলমেটের দিকে, যাতে লেখা ছিল ‘৮০ ইয়ার্স অফ অ্যান আইকন’। একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ভেসপার কিছু ক্লাসিক দৃশ্য দেখানো হয়েছিল— যেমন ফুলের মাঠে পিকনিক করা দম্পতি, বিকিনি ও বিচবল নিয়ে সমুদ্র সৈকতে ছুটি কাটানো বা ভূমধ্যসাগরীয় রোদের নিচে রোড ট্রিপ। এর পাশাপাশি এমন কিছু দৃশ্যও ছিল যা কেউ কল্পনাও করবে না, যেমন ১৯৬৩ সালে অভিযাত্রী সোরেন নিলসেনের ভেসপায় চড়ে সুমেরু বৃত্তে পৌঁছানো। 

ভেসপার জন্মদির বৃহস্পতিবার থেকেই নানা প্রান্ত থেকে আসা ভেসপাপ্রেমীরা রোমে জড়ো হন। তাতে বদলে যায রোমের চেনা চেহারা। শহরের সমস্ত রাস্তাঘাট নানান রঙের ভেসপা আর একই রঙের টি-শার্ট পরা মানুষে সয়লাব। স্টেডিয়াম অফ দ্য মার্বেলস-এর বাইরের পার্কিং লটে আট দশকের সব মডেলের ভেসপার সারি দেখতে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ। রোমের মোড়ে মোড়ে সুন্দর করে সাজানো ভেসপার খটখট আওয়াজ মুহূর্তে মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ষাটের দশকে। ঐতিহাসিক এ শহরে নস্টালজিয়ার টান- দুয়ে মিলে অন্যরকম এক সুর।

ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, জামানি, জাপান- বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ রোমে এসেছেন ভেসপার আহবানে, ভালোবাসার টানে। ফ্রান্স থেকে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত নাটালি ডুনান্ড। ভেসপার ৮০তম জন্মদিনের সাখে ‍নিজের ৬১তম জন্মদিনও উদযাপন করছেন এই নারী, ‘ভেসপার প্রতি এই ভালোবাসা আসলে ইতালীয় শৈলী, স্বাধীনতা আর ষাটের দশকের প্রতি টান থেকে। আমি এটি খুব ভালোবাসি।’ ডুনান্ডের প্রিয় বাহনের পেছনে বসেছিল তার প্রিয় পোষা কুকুরটিও। আট বছর বয়সী মেয়েকে পেছনে বসিয়ে টোকিও থেকে এসেছেন এক ভেসপাপ্রেমী। আলাদা করে অনেকের নজর কেড়েছেন জার্মানি থেকে আসা এক ব্যক্তি। তার বাম পায়ের পেশিবহুল গোড়ালিতে ভেসপা লোগোর ট্যাটুর পাশে সুন্দর হাতের লেখায় তিনটি শব্দ লেখা ছিল, ‘লা দোলচে ভিটা’, যার অর্থ ‘মধুময় জীবন’।

ভেসপা মানে শুধু নস্টালজিয়া নয়, যারা ষাটের দশকে জন্ম নেননি; তারাও ভেসপা ভালোবাসেন। এ  যেন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। অনেকেই বলছেন, তারা বড় মোটরসাইকেল ছেড়ে হালকা এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ভেসপা বেছে নিয়েছেন। কারণ এটা চালাতে কোনো ঝামেলা নেই। ৫৯ বছর বয়সী ট্রাক ড্রাইভার অ্যান্ড্রু ওয়ালটন ২০ বছর আগে প্রথম ভেসপা কিনেছিলেন, তারপর অন্য দিকে নজর দেননি। তিনি বলেন, ‘শুধু উঠুন, মোচড় দিন আর চলতে শুরু করুন। একদম সহজ কাজ।’ তিনি নিউক্যাসল থেকে আট দিন ধরে ভেসপা চালিয়ে রোমে এসেছেন উৎসবে যোগ দিতে। প্রথমে ফেরি দিয়ে রটারড্যাম, তারপর জার্মানির রাইন নদী হয়ে অস্ট্রিয়ার রোমান্টিক রোড এবং সবশেষে ইতালির উপকূল ধরে নিচে নেমে এসেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও অল্পকিছু মানুষ ভেসপার প্রেমে মজেছেন। এ এমনই এক টান, একবার পড়লে আর ফেরা যায় না। ইন্ডিয়ানার ১০৮ বছর পুরোনো এক গাড়ি ডিলারশিপের মালিক বার্ক স্যান্ডম্যান দুই দশক আগে প্রথম ভেসপা কিনেছিলেন। আশেপাশে এর কোনো বিক্রেতা নেই দেখে তিনি সরাসরি ভেসপা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারেরও ভেসপা বিক্রি করেছেন এবং নিজের জন্য রেখেছেন ১৫টি। ভেসপা ভিলেজের ভেতরে দাঁড়িয়ে স্যান্ডম্যান বলেন, ‘ভেসপা নিয়ে কেউ কখনো কোনো খারাপ কথা বলে না। সত্যি বলতে, এটা অবিশ্বাস্য। যারা অন্য ব্র্যান্ড ছেড়ে ভেসপা ব্যবহার শুরু করে, তারা আর কখনো পেছনে ফিরে তাকায় না। এর মধ্যে অন্যরকম একটা ব্যাপার আছে। আর সবাই ইতালীয় জিনিস পছন্দ করে। ইউরোপ থেকে ফিরে এসে অনেকেই এই ভেসপার প্রেমে পড়ে যান।’
চার চাকার জগতে ফোক্সওয়াগনের বিটলের যে মর্যাদা, দুই চাকায় ভেসপা তেমনি। আবেগ, ভালোবাসা আর স্মৃতির এক রোমান্টিক রসায়ন। একবার কেউ ভেসপায় চড়লে তা আর ছাড়তে পারেন না, অন্তত ভুলতে তো পারেনই না।
ভেসপার শুরুর গল্পটা বেশ মজার। ভেসপার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিয়াজিও আসলে বিমান বানাতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পিয়াজিও উদোক্তারা দেখতে পান, তাদের কারখানাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে আবার বিমান বানানো সম্ভব নয়। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পিয়াজিও আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসেন। বানান দুই চাকার ভেসপা। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বানানো সেই ভেসপাই পিয়াজিওকে আবার খ্যাতির আকাশে তুলে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির অর্থনীতিতে গতি আনতেও এই দুই চাকার ভেসপার অবদান কম নয়।

পিয়াজিওর বিপণন বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড জানোলিনির জানান, ‘প্রথম দিকে নারীরাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য, কারণ তারা দীর্ঘ স্কার্ট পরেও পা না দেখিয়ে এটি সহজেই চালাতে পারতেন। এর গঠন, এর মার্জিত রূপ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভঙ্গিটি পুরুষের চেয়ে নারীর সাথেই বেশি মানানসই।’ তবে ভেসপার প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হয়নি। নারীরা তো বটেই, বিশ্বের কোটি পুরুষের হৃদয়ও জয় করেছে ভেসপা। ষাটের দশকে প্রেমিকাকে কল্পনায় অড্রে হেপবার্ন ভেবে ভেসপায় ঘুড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখেননি, এমন রোমান্টিক পুরুষ খুঁজে পাওয়া ভার। জানোলিনি জানান, গত ৮০ বছরে পিয়াজিও বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ভেসপা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ১১০টি দেশে এটি বিক্রি হয়।
 

সিজেপির আন্দোলনে যোগ দিয়ে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করলেন সোনম ওয়াংচুক

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপির আন্দোলনে যোগ দিয়ে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করলেন সোনম ওয়াংচুক
সংগৃহীত ছবি

জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুক ভারতবাসীদের দিল্লির যন্তর মন্তরে তার সঙ্গে অনশনে অংশ নেওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। শিক্ষা সংস্কার, পরিবেশ রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভিডিও বার্তাটি ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। ভিডিওতে ওয়াংচুক বলেন, যারা সরাসরি দিল্লিতে এসে আন্দোলনে যোগ দিতে পারবেন না, তারা নিজের শহর, জেলা বা গ্রামে একই দাবিতে এক দিনের অনশন করতে পারেন। তিনি বলেন, 'নমস্কার। শিক্ষা ও পরিবেশের সমর্থনে, সিজেপি এবং লাদাখের দাবির পক্ষে আজ আমি লবণ ও পানি খেয়ে অনশনের দ্বিতীয় দিনে আছি। এখানে অনেক মানুষ যোগ দিচ্ছেন। চাইলে আপনারাও এক দিনের জন্য এসে আমাদের সঙ্গে অনশন করতে পারেন।' 

ওয়াংচুক আরো বলেন, কেউ কেউ তিন থেকে পাঁচ দিনের জন্যও অনশন করছেন। তার মতে, এটি একটি ইতিবাচক সমর্থন। যারা যন্তর মন্তরে আসতে পারবেন না, তারা নিজের এলাকায় বসেও একই দাবিতে এক দিনের অনশন করতে পারেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সরকারের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরিবেশ রক্ষা এবং বিশুদ্ধ বাতাস ও পানির দাবিতে এই আন্দোলন করা যেতে পারে। এর আগে রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। একই স্থানে আগে থেকেই সিজেপির নেতৃত্বে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

অনশন শুরুর আগে ওয়াংচুক ও অভিজিৎ দিপকে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রবিবার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে ওয়াংচুক বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। তিনি বলেন, 'ভালো শিক্ষা ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। ভারতও উন্নত দেশ হতে চাইলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখায়, শিক্ষা খাতের স্বার্থ রক্ষায় ঘাটতি রয়েছে। আমাদের আন্দোলন সেই ব্যবস্থাকে ঠিক পথে ফেরানোর জন্য।'

এর আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি দুটি প্রধান দাবির অন্তত একটিতেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করবেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং লাদাখের পরিবেশ, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা। এদিকে অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, অনশন শুরুর কিছুক্ষণ পরই দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, সেখানে এখন পানির সংযোগ নেই এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাও নেই।

তিনি আরো দাবি করেন, কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে আরো মৌলিক সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
 

মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে জাপানে বিতর্ক, আলোচনার কেন্দ্রে নারী মেয়র

অনলাইন ডেস্ক
মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে জাপানে বিতর্ক, আলোচনার কেন্দ্রে নারী মেয়র
ছবি : এনওয়াইটি

অন্যান্য অনেক দেশে এটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, জাপানে একজন মেয়রের মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। জাপানের মেয়র শোকো কাওয়াতা যখন মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার ঘোষণা দেন, তখন বিষয়টি দেশজুড়ে শিরোনাম হয়, জনমত জরিপ শুরু হয় এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। 

মে মাসে তার এই ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে। সোমবার পশ্চিম জাপানের ইয়াওয়াতা শহরের বিধানসভায় কাওয়াতা বলেন, তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি মেয়র প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

এরপর জাপানের সংবাদপত্র মাইনিচি শিম্বুনর এক সম্পাদকীয়তে তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, কর্মীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সম্পাদকীয়তে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘জাপানকে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মাতৃত্ব বা পিতৃত্বকালীন ছুটি নিতে পারে।’

ভিডিও কলে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাওয়াতা বলেন, ‘আমি ভাবিনি বিষয়টি এত বিতর্কিত হবে। এখনো এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, কর্মজীবনে নিজেকে সম্পূর্ণ উৎসর্গ করতে হলে ব্যক্তিগত জীবনকে ত্যাগ করতে হবে।’

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান বর্তমানে জনসংখ্যা হ্রাসের গুরুতর সংকটের মুখোমুখি। দেশটিতে কর্মজীবী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির আইন থাকলেও, সেই আইন নির্বাচিত নগর মেয়রদের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়।

৩৫ বছর বয়সী কাওয়াতা জাপানের প্রথম দায়িত্ব পালনরত মেয়র যিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি নিচ্ছেন। নিজের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, অনলাইনে অনেক মানুষ এখন ধীরে ধীরে বিষয়টি মেনে নিতে শুরু করেছেন।’ এই ঘটনা জাপানে কর্মজীবন, পরিবার এবং নারীর নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘পুরুষদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মদান তাদের শরীরে শারীরিকভাবে কোনো প্রভাব ফেলে না, তাই ব্যক্তিগত জীবনকে পেছনে ফেলে কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব। কিন্তু নারীদের জন্য শারীরিকভাবে তা একেবারেই সম্ভব নয়।’

সর্বশেষ জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্টে, জাপান ১৪৮টি দেশের মধ্যে ১১৮তম স্থান অধিকার করেছে, যা জি৭ দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এর একটি কারণ হলো সেকেলে লিঙ্গভিত্তিক গতানুগতিক ধারণা। এখন পর্যন্ত, জাপানে মাত্র ৩০ শতাংশ কাউন্সিলর নারী এবং তাদের মধ্যে মাত্র ১.২ শতাংশের বয়স ৪০-এর নিচে।

তিনি আরো বলেন, ‘যদিও জাপানে লিঙ্গ সমতার উন্নতি হয়েছে, তবুও নারীরা প্রায়ই নেতৃত্বের পদে পৌঁছাতে সংগ্রাম করেন।’ ৩৩ বছর বয়সে কাওয়াতা শিশুযত্ন ব্যবস্থার উন্নতির এজেন্ডা নিয়ে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে জাপানের সর্বকনিষ্ঠ নারী মেয়র হন। যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য নন, কাওয়াতা অল্প বয়স থেকেই রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন।

কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক শেষ করার পর তিনি কিয়োটো শহরে একজন কেস ওয়ার্কার হিসেবে কাজ শুরু করেন, পরে রাজনৈতিক সহকারী হন এবং ২০২৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হন।

এর পরের তিন বছরে কাওয়াতা তার দক্ষতা ব্যবহার করে জাপানজুড়ে প্রচলিত একটি সমস্যা, জনসংখ্যা হ্রাস মোকাবেলা করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। কাওয়াতার নির্বাচনী এলাকাটি প্রিফেকচারের অন্যতম ছোট এলাকা। সেখানে ২০০২ সালে জনসংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৩২৯ জন। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তা কমে ৬৭ হাজার ৮৭৬ জনে নেমে এসেছে।

কাওয়াতা বলেন, ‘জাপানের জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি সবসময়ই জানতাম। তবে মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাটির প্রকৃত গুরুত্ব ও গভীরতা আরো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।’ তার মতো পদে থাকা কোনো নারীর জন্য এটি প্রথম মাতৃত্বকালীন ছুটি হওয়ায় কাওয়াতাকেই এর পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। তিনি জাতীয় নিয়ম অনুসরণ করে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজে ফেরার আশা করছেন।

প্রথম সন্তানের মা হতে যাওয়ায় ভবিষ্যতে কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন, তা তিনি এখনো জানেন না। তবে তিনি আশা করেন, তার এই সিদ্ধান্ত জাপানের আরো বেশি নারীকে রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করবে।

কাওয়াতা বলেন, ‘যদি আরো বেশি নারী নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে অংশ নেন, তাহলে কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক আরো ভালো সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’