• ই-পেপার

স্কুলে বন্দুক হামলার জেরে ফিলিপাইনে গেমিং অ্যাপ নিষিদ্ধ

ট্রিলিয়নেয়ারের খেতাব হারালেন ইলন মাস্ক

অনলাইন ডেস্ক
ট্রিলিয়নেয়ারের খেতাব হারালেন ইলন মাস্ক
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার (এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক) হওয়ার গৌরব অর্জনের দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেই মর্যাদা হারালেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। শেয়ার বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ব্যাপক দরপতনের কারণে তার সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির পরও তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নিজের শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছেন।

গত ১২ জুন ইলন মাস্কের রকেট কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ শেয়ার বাজারে (আইপিও) পা রাখে। লেনদেন শুরুর পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে এবং কোম্পানির মূল্যমান ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। স্পেসএক্সের ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিক হওয়ায় ইলন মাস্কের মোট সম্পদ ১.১১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং ১৬ জুনের মধ্যে তা সর্বোচ্চ ১.৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে। এর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে রেকর্ড গড়েন।

কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দীর্ঘমেয়াদি লাভ ও খরচ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হলে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ধস নামে। ফলে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। সোমবার (২২ জুন) মাত্র একদিনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের ১৬% পতনের কারণে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার মুছে যায়। এর ঠিক পরের দিন তার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দামও ৬% কমে যায়, যা তার ক্ষতি আরো বাড়িয়ে দেয়। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫৭ বিলিয়ন ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইলন মাস্কের সম্পদ কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। তার মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশই স্পেসএক্স এবং বাকি অংশ টেসলার শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। তবে আশার কথা হলো, শেয়ার বাজারে স্পেসএক্সের স্টক মাত্র ৬% ঘুরে দাঁড়ালেই ইলন মাস্ক আবার তার ট্রিলিয়নেয়ার মর্যাদা ফিরে পাবেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি হয়তো বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বারবার ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার রেকর্ডও গড়তে পারেন।

ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১০০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১০০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে
ছবি : রয়টার্স

ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, এ দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় এই ভয়াবহ ভূমিকম্প দুইটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২।

এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে এবং সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের খুঁজে বের করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজ চালাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছে সরকার। তবে এখনো কত মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সরকারি ছুটির দিনে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে রাজধানী কারাকাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনগুলো কাঁপতে শুরু করলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত রাস্তায় নেমে আসে। কারাকাসের বাসিন্দারা জানান, কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয় এবং অনেকে সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। অনেক বাড়িতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র মেঝেতে পড়ে যায়।

ভূমিকম্পের পর আহতদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চিকিৎসাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির কারণে মাইকুয়েটিয়ায় অবস্থিত দেশের প্রধান বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর সব শ্রেণিকক্ষের পাঠদানও স্থগিত করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর পুয়ের্তো রিকো এবং ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জসহ কয়েকটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি এলাকায় ভবন ধসে পড়া এবং উদ্ধার অভিযানের খবর দিয়েছেন। কারাকাসে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং স্বজনেরা নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খবরের জন্য অপেক্ষা করছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো বলেন, ‘আমাদের ভবন, বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ও বেসামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে যা কিছু আছে, তা দিয়ে আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।’

কারাকাসের চাকাও জেলার মেয়র গুস্তাভো দুকে বলেন, ‘বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং একটি ভবন থেকে ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আফটারশকের ঝুঁকির কারণে বাসিন্দাদের খোলা জায়গায় থাকার আহ্বান জানান।’ তিনি বলেন, ‘মানুষকে উদ্ধার করার জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করব।’ ফ্যালকন রাজ্যে গভর্নর ভিক্টর ক্লার্ক বলেন, ২২ জন আহত হয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ ১৫ জন নিখোঁজ প্রাপ্তবয়স্কের সন্ধান করছে। 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং জরুরি সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

ভেনিজুয়েলা এমন একটি ভূকম্পনপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে। এ কারণে দেশটিতে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি দেখা দেয়।

ফ্রান্সে প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক
ফ্রান্সে প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত
ছবি : রয়টার্স

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি পেশায় একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি কঙ্গো থেকে একটি মানবিক মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন। ইউরোপের মাটিতে এটিই প্রথম নিশ্চিত হওয়া ইবোলা সংক্রমণের ঘটনা।

বুধবার (২৪ জুন) ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত চিকিৎসককে শনাক্ত করার পরেই একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এই ঘটনার পর কঙ্গো থেকে ফিরে আসা সাহায্য ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে ফ্রান্স সরকার। একই সঙ্গে আক্রান্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

কঙ্গোতে গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি তার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ছড়াচ্ছিল। মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি, দক্ষিণ কিভু ও উত্তর কিভু প্রদেশগুলোতে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ইতুরিতেই ৯০ শতাংশের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ১৭ জনই মারা গেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ প্রজাতির কারণে ঘটছে, যার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ২০ জন সংক্রমিত এবং দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে যে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ‘এম২৩’ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে ইবোলা মোকাবিলা করা চরম কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং আফ্রিকা সিডিসি-র মতে, এই প্রাদুর্ভাবটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ইবোলা বিপর্যয় হতে পারে।

প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়াতে জিম্বাবুয়ে সিনেটের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়াতে জিম্বাবুয়ে সিনেটের অনুমোদন
ছবি: রয়টার্স

জিম্বাবুয়ের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে। বুধবার পাস হওয়া এই বিল আইনে পরিণত হলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন মানানগাগওয়ার ক্ষমতায় থাকার পথ আরো দীর্ঘ হবে। এর ফলে তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্বে থাকতে পারবেন।

সিনেটে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭৫ জন সদস্য। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র চারজন। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহজেই অর্জিত হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন না। পরিবর্তে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে। এখন বিলটিতে প্রেসিডেন্ট মানানগাগওয়ার স্বাক্ষর প্রয়োজন। তিনি সই করলেই এটি আইনে পরিণত হবে।

বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী মানানগাগওয়ার দ্বিতীয় ও শেষ সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রায় দুই বছর আগে থেকেই তিনি ক্ষমতায় আরো দীর্ঘ সময় থাকতে চান—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়। সেই সময় ক্ষমতাসীন দল জ্যানু-পিএফের বিভিন্ন সমাবেশে তার সমর্থকেরা প্রকাশ্যে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, দেশের উন্নয়ন ও চলমান কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন করতে মানানগাগওয়ার আরো সময় প্রয়োজন। পরবর্তীতে গত বছর ক্ষমতাসীন দল প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংবিধান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক সমর্থনও পায়।

এমারসন মানানগাগওয়া ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসেন। ওই বছর সেনাবাহিনীর সমর্থনে সংঘটিত এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক রবার্ট মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মুগাবে ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রায় চার দশক দেশ শাসন করেছিলেন। তার পতনের পর মানানগাগওয়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকেন।

প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগ নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানানগাগওয়াকে আরো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখার সুযোগ তৈরি করা। তাদের মতে, এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে এবং ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে আরো বেশি কেন্দ্রীভূত করবে। অন্যদিকে বিলটির সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানো হলে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং সরকারের জবাবদিহিও আরো শক্তিশালী হবে।

তবে বিলটি আইনে পরিণত হলে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সরাসরি ভোটের পরিবর্তে পার্লামেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তাব দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।