রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ।
ইউক্রেনের দাবি, তাদের ড্রোন হামলায় শহরটির প্রধান বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নর রাজভোঝায়েভ বলেছেন, কিছু এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।
তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শত্রুপক্ষ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়ার কারণে বয়স্ক প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি জানান, এ হামলায় ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এদিকে, বাখচিসারাই, কের্চ ও মাউন্ট আই-পেট্রি এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে।
২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর থেকে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে এলাকাটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত নেতা সের্গেই আকসিওনভ রবিবার সব ধরনের পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কিছু গ্যারেজে এখনও পেট্রোল মজুত রয়েছে, তবে তা মূলত সরকারি সেবার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এদিকে আতঙ্কে অনেক মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে চিনির ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর এটি সড়ক ও রেলপথে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল দিয়ে একটি স্থলপথ এবং কের্চ প্রণালীর ওপর নির্মিত সড়ক ও রেল সেতুর মাধ্যমে এই সংযোগ বজায় রাখা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতে ইউক্রেন থেকে আসা ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ১০১টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায়। হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর কালো তেলের মতো পদার্থ বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে রাস্তায় পড়ে। তবে মস্কো কর্তৃপক্ষ এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই তেলমিশ্রিত বৃষ্টিতে তাদের পোশাকও নোংরা হয়ে যায়। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।
গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠান। তবে পুতিন ওই চিঠিকে ‘অশোভন’ বলে মন্তব্য করেন এবং সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত।




