• ই-পেপার

জমির মালিকানা নিয়ে প্রবাসীদের বড় সুখবর দিল সৌদি সরকার

ইউক্রেনের হামলা, ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের হামলা, ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট
ছবি : রয়টার্স

রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ।

ইউক্রেনের দাবি, তাদের ড্রোন হামলায় শহরটির প্রধান বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নর রাজভোঝায়েভ বলেছেন, কিছু এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।

তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শত্রুপক্ষ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়ার কারণে বয়স্ক প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি জানান, এ হামলায় ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এদিকে, বাখচিসারাই, কের্চ ও মাউন্ট আই-পেট্রি এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে।

২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর থেকে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে এলাকাটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত নেতা সের্গেই আকসিওনভ রবিবার সব ধরনের পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কিছু গ্যারেজে এখনও পেট্রোল মজুত রয়েছে, তবে তা মূলত সরকারি সেবার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এদিকে আতঙ্কে অনেক মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে চিনির ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর এটি সড়ক ও রেলপথে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল দিয়ে একটি স্থলপথ এবং কের্চ প্রণালীর ওপর নির্মিত সড়ক ও রেল সেতুর মাধ্যমে এই সংযোগ বজায় রাখা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতে ইউক্রেন থেকে আসা ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ১০১টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায়। হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর কালো তেলের মতো পদার্থ বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে রাস্তায় পড়ে। তবে মস্কো কর্তৃপক্ষ এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই তেলমিশ্রিত বৃষ্টিতে তাদের পোশাকও নোংরা হয়ে যায়। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।

গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠান। তবে পুতিন ওই চিঠিকে ‘অশোভন’ বলে মন্তব্য করেন এবং সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত।


 

গাজায় শিশুদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল- জাতিসংঘের রিপোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় শিশুদের  ওপর গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল- জাতিসংঘের রিপোর্ট
ছবি: রয়টার্স

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর ফলে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েল বিষয়ক জাতিসংঘের স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের সাত অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিশদ পর্যালোচনা করা হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধে নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের সাত অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সাত অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, তদন্তে পাওয়া প্রমাণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং হত্যা করেছে। তার মতে, শিশুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের হামলা শুধু প্রাণহানিই ঘটায়নি, বরং ফিলিস্তিনি জনগণের ভবিষ্যৎ ও টিকে থাকার সক্ষমতাকেও দুর্বল করেছে।


এর আগে গত সেপ্টেম্বরেও একই কমিশন এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছিল যে, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। সেই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেনেভায় ইসরায়েলের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ইসরায়েলের ভাষ্য, প্রতিবেদনটি একপেশে এবং এতে হামাসের কর্মকাণ্ড ও কৌশলকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইসরায়েল সব সময় শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় আগের যেকোনো বড় সংঘাতের তুলনায় এবার শিশু মৃত্যুর হার বেশি ছিল। তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরে কমিশন বলেছে, ২০০৮-০৯ এবং ২০১৪ সালের গাজা সংঘাতে শিশুদের মৃত্যু মোট হতাহতের প্রায় ২৪ শতাংশ ছিল। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধে সেই হার বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। কমিশনের মতে, শিশু হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও ইসরায়েলি বাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরক ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন অনেক হামলা হয়েছে যেখানে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশু নিহত হয়েছে। কমিশনের মতে, এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে শিশুদের ওপর হামলা কেবল দুর্ঘটনাবশত ঘটেনি। কমিশনের মতে, শিশুদের একটি গোষ্ঠী হিসেবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। কারণ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী পুরো বেসামরিক জনগণকেই হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করত। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে গাজার শিশুদের জীবন ও বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিয়মিত বোমা হামলা, বারবার বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও ওষুধের সংকট এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধার কারণে অনেক শিশু অপুষ্টি ও অনাহারের শিকার হয়েছে। এর ফলে এমন অনেক মৃত্যু ঘটেছে, যা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। কমিশন বলছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নবজাতকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কমে গেছে। হাসপাতাল ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে হামলার কারণে গর্ভপাতের ঘটনাও বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজার প্রায় সব শিশুই কোনো না কোনো মাত্রার মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছে এবং তাদের মানসিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, প্রতিবেদনে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা, চিকিৎসাকর্মীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের মতো উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, হামাস মানবিক সহায়তা ও হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ জ্বালানি অন্য কাজে ব্যবহার করে। যদিও হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। কমিশন বলেছে, সেখানে ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া গণগ্রেপ্তার ও আটক অভিযানের সময় নির্যাতন, যৌন নির্যাতন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আটক ফিলিস্তিনি ছেলেশিশুদের সঙ্গে নিয়মিত দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। তাদের জোর করে কাপড় খুলতে বাধ্য করা, মারধর করা এবং খাবার থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে নির্যাতন এবং এমন আচরণ, যা গুরুতর শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির কারণ হয়। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপগুলো নিয়মিত নিরাপত্তা হুমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলার অংশ। তাদের মতে, প্রতিবেদনে পরিস্থিতির প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি।


 

স্কুলে বন্দুক হামলার জেরে ফিলিপাইনে গেমিং অ্যাপ নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
স্কুলে বন্দুক হামলার জেরে ফিলিপাইনে গেমিং অ্যাপ নিষিদ্ধ

ফিলিপাইনের একটি স্কুলে দুই কিশোরের ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এক সন্দেহভাজনের ওপর অনলাইন গেমের প্রভাব পাওয়ার পর, দেশে ‘গোরবক্স’ নামের একটি জনপ্রিয় গেমিং অ্যাপ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ফিলিপাইন সরকার। সোমবার (২২ জুন) ম্যানিলার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তাকলোবান শহরের সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৫ ও ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোর নিজেদের স্কুলের বাথরুমে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। তারা হ্যান্ডগান নিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সহপাঠীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কিশোররা দাবি করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে বুলিং বা উৎপীড়নের শিকার হচ্ছিল। ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি তার খালার ৯ মিমি পিস্তল ব্যবহার করেছিল, যিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা (তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে)। অন্য কিশোরটি তার দাদার নিরাপত্তা সংস্থার নামে নিবন্ধিত পিস্তল ব্যবহার করেছিল।

তদন্তে জানা গেছে, ১৪ বছর বয়সী কিশোরটি ‘গোরবক্স’ গেমের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিল। এটি এমন একটি হিংসাত্মক ফার্স্ট-পার্সন শুটার গেম, যেখানে খেলোয়াড়রা বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে নৃশংস লড়াইয়ে মেতে ওঠে। দেশটির সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি আবয় পারাইসো বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় অনলাইন গেমের প্রভাবকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’

ফিলিপাইনের আইন অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সী কিশোরটির বয়স অনুসারে তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা সম্ভব নয়। তবে ১৫ বছর বয়সী কিশোরটির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ফিলিপাইনের সিনেটর ও শিক্ষাবিদেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিনেটর রিসা হন্টিভেরোস বলেছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের মগজধোলাই ও উগ্রপন্থী করে তোলার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী সনি আঙ্গারা বলেছেন, ‘আমরা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া নিয়মিত স্কুল শুটিংয়ের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ফিলিপাইনে দেখতে চাই না।’

ইরানে যুদ্ধ চালাতে কংগ্রেসে আরো অর্থ চাইলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে যুদ্ধ চালাতে কংগ্রেসে আরো অর্থ চাইলেন ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের খরচ মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউস এই অর্থায়নের প্রস্তাব প্রকাশ করে এবং তা কংগ্রেসে পাঠায়। তবে প্রস্তাবটি প্রকাশের পরপরই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট- উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ, অর্থাৎ ৬৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, সামরিক খাতে ব্যয় করা হবে। এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ছিল প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার। আর আগামী অর্থবছরের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার সামরিক বাজেট চেয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নতুন এই অর্থ মূলত ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন। এই অর্থ দিয়ে সেনা সদস্যদের ব্যয়, যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রাখা, ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন গোপন সামরিক কর্মসূচির খরচ মেটানো হবে। প্রস্তাবে আরো ২১ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে নতুন গোলাবারুদ কেনা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য।

এদিকে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ আরো বেড়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট একটি যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে একই ধরনের একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়েছিল। দুই কক্ষেই ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্য প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে একযোগে ভোট দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটিকে যুদ্ধনীতি নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক ধরনের ভর্ৎসনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।  বুধবার কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে মধ্যাহ্নভোজের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডির তর্কও হয়। পরে তা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। ক্যাসিডি ছিলেন সেই রিপাবলিকান সদস্যদের একজন, যিনি ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান বন্ধের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই কংগ্রেসের সদস্যরা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আইনপ্রণেতাদের যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সদস্যরাই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই সাংবিধানিক ক্ষমতাকে উপেক্ষা করছেন।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ধারিত হবে। বর্তমানে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই কম। ফলে বিতর্কিত এই যুদ্ধের অর্থায়ন নিয়ে ভোট দেওয়া তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জনমত জরিপে ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন খুবই কম। ফলে অনেক রিপাবলিকান সদস্য নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। অথচ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ ব্যয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'আমাদের উচিত আমেরিকান জনগণের খরচ কমানো। ট্রাম্পের জন্য আরেকটি খালি চেক লিখে দেওয়া নয়।'  সিনেটের বরাদ্দ কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্যাটি মারে বলেছেন, তিনি প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখবেন যাতে সেনা সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিপর্যয়কর এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শুরু করা যুদ্ধের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ বিনা প্রশ্নে অনুমোদন দিতে চান না। 

অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাবে শুধু যুদ্ধ ব্যয় নয়, আরো কয়েকটি খাতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ মিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার জন্য এবং ৫০০ মিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ব্যয় করা হবে। এই অর্থ রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যবহার করা হবে। হোয়াইট হাউস বলেছে, ইবোলা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে না পড়ে এবং আমেরিকান নাগরিকদের যেন নিরাপদ রাখা যায়, সে জন্য এই অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমালোচকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইবোলা সংকট শুরুর আগেই ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির বাজেট এবং আফ্রিকার জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছিল।

নতুন বাজেট প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের সহায়তার জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেলফির অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন বাড়াতে এক বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ডেলফি একসময় জেনারেল মোটরসের অংশ ছিল। ২০০৯ সালে জেনারেল মোটরসের দেউলিয়া পরিস্থিতি পুনর্গঠনের সময় অনেক কর্মীর পেনশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হোয়াইট হাউস আরো ৫০০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছে ওয়াশিংটন ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য। পাশাপাশি নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ রেল কেন্দ্র পেন স্টেশন পুনর্নির্মাণে সহায়তার জন্য আরো এক বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই কম হওয়ায় এই বিশাল ব্যয় পরিকল্পনা অনুমোদন পেতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের প্রয়োজন হবে। ফলে যুদ্ধ ব্যয়সহ পুরো প্রস্তাবটি আগামী সপ্তাহগুলোতে কংগ্রেসে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।