কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী আবদুল্লাহ শাতাত। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেও মুক্তির মুহূর্তেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারাগার থেকে বের হওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই আবদুল্লাহ শাতাত হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঘিরে থাকা লোকজন দ্রুত তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান।
মুক্তির সময় শাতাতকে খুবই দুর্বল ও বিভ্রান্ত অবস্থায় দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অধিকারকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত খাবার না দিয়ে রাখা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, এসব কারণে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করে যে দীর্ঘদিন ধরে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের আটক রাখার নীতি অনুসরণ করছে ইসরায়েল। এই ব্যবস্থাকে তারা ‘প্রশাসনিক আটক’ হিসেবে উল্লেখ করে। সংস্থাটির দাবি—এই নীতিটি ‘বর্ণবৈষম্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থা’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে ৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশু বন্দি অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা দাবি করে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন এবং অপমানজনক আচরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ওই প্রতিবেদনে নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সাক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে তারা কারাগারে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনার পর ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের আটক নীতি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।




