• ই-পেপার

ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করতে দেবে না ইরান

তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিরল বৈঠক ইইউর

অনলাইন ডেস্ক
তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিরল বৈঠক ইইউর
ছবি : রয়টার্স

আফগান তালেবানের একটি প্রতিনিধিদল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবে বলে একজন তালেবান কর্মকর্তা বলেছেন। আফগান তালেবানের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার ব্রাসেলসে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনায় মূলত আফগান অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো (ডিপোর্টেশন) বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশের মধ্যে আফগানরা আশ্রয়প্রার্থী সবচেয়ে বড় অভিবাসী গোষ্ঠীগুলোর একটি।

তবে এখন অনেক দেশই চাইছে, যাদের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়েছে বা যারা নিজ দেশে অপরাধ করেছে, তাদের দ্রুত ও বেশি সংখ্যায় ফেরত পাঠানো হোক। আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ২০২১ সাল থেকে বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচিত।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, মঙ্গলবারের এই বৈঠক ইইউর মানবাধিকার বিষয়ক দায়বদ্ধতাকে দুর্বল করছে এবং এটি ইউরোপ ও আফগানিস্তান, দুই জায়গার মানুষের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, মঙ্গলবারের এই বৈঠক ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়িত্বকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং এটি ইউরোপ ও আফগানিস্তান—উভয় জায়গার মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক ফেরেশতা আব্বাসি বলেন, তালেবানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই মানবাধিকার রক্ষা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, মানুষকে সেখানে বিপদের মুখে ফেরত পাঠানো নয়।

তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো একদিকে তালেবানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা করছে এবং জবাবদিহিতার কথা বলছে, আবার অন্যদিকে আফগানদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠাতে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। এ ধরনের আচরণ তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশই এখনো তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এর মধ্যেও ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে বিশ্লেষকরা দেখছেন তালেবানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভাঙনের ইঙ্গিত হিসেবে।

একজন তালেবান কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান, তালেবানের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখি।

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো বলেন, বেলজিয়াম তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুরোধ অনুযায়ী তালেবান প্রতিনিধিদের ভিসা প্রদান করা হবে।

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘বেলজিয়াম এমন কোনো শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দিতে পারে না, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বেলজিয়াম যেহেতু ইইউ প্রতিষ্ঠানের স্বাগতিক দেশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে, তাই এই বৈঠক আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হলেও এটি কোনোভাবেই তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়া বা বৈধতা দেওয়ার সমান নয় এবং এটি বেলজিয়াম সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও নয়।’

নিরাপত্তা যাচাই শেষে তালেবান প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সীমিত ভিসা দেওয়া হয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে তারা শুধু ২৪ ঘণ্টার জন্য বেলজিয়ামে থাকতে পারবে এবং শেঙ্গেন এলাকার অন্য কোনো দেশে যেতে পারবে না।

বেলজিয়াম বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেউই তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাই এই বৈঠক ইইউ বা বেলজিয়ামের কোনো সরকারি ভবনে বা আনুষ্ঠানিক স্থানে হচ্ছে না। এ বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশন একাধিকবার তথ্য চাওয়া হলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
 

সম্পর্ক ভেঙে গেলেই ধর্ষণের অভিযোগ সংগত নয়, এলাহাবাদ হাইকোর্টের যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সম্পর্ক ভেঙে গেলেই ধর্ষণের অভিযোগ সংগত নয়, এলাহাবাদ হাইকোর্টের যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে তৈরি

দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে পারেন। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তা শারীরিক সম্পর্কেও গড়াতে পারে। কিন্তু কোনো কারণে দীর্ঘদিনের সে সম্পর্ক ভেঙে গেলেই প্রেমিক পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা সঙ্গত নয়। সব প্রেমের সম্পর্ক বিয়ের পরিণতি পাবে এমন কোনো কথা নেই এবং তার কোনো নিশ্চয়তাও নেই। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা খারিজ করে দেওয়া রায়ে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি একক বেঞ্চ এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কও দুজনের মতের অমিল, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পরিপার্শ্বিক নানা কারণে তিক্ততায় পর্যবসিত হতে পারে।

বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ গত সপ্তাহে দেওয়া রায়ে নিম্ন আদালতে চলমান একটি মামলার সকল কার্ক্রম বাতিল করে দেন। রায়ের পর্বেক্ষণে বলা হয়, ‘আদালত এ ধরনের বিপুল সংখ্যক মামলায় লক্ষ্য করেছে যে, একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি সম্মতিমূলক সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেওয়ার পর, ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করে সেটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার চেষ্টা করা হয়।’

বিচারপতি বিবেক আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষিত এবং স্বাধীনচেতা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যখন একটি সম্মতিমূলক সম্পর্কে জড়ান, তখন তাকে অবশ্যই এটি বুঝতে হবে যে কোনো সম্পর্কের কেবল ব্যর্থতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য আইনের আশ্রয় নেওয়া যায় না। একটি সম্পর্কের বিচ্ছেদ নিজে থেকে কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্ম দেয় না। এই ধরনের বিষয়গুলোকে সংবেদনশীলতা, সংযম এবং উভয় ব্যক্তির স্বাধীনতা ও পছন্দের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে বিবেচনা করা উচিত।’

আদালত এ ধরনের মামলাকে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার চরম অপব্যবহার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অভিযোগকারী নারী ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট প্রয়াগরাজ জেলায় বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ, মারধর এবং অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর, উভয় পরিবারের সম্মতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পরও ওই নারী মামলাটি প্রত্যাহার করেননি। তার দাবি ছিল, অভিযোগ দায়েরের পর বিয়ে করলেও স্বামী তার সাথে স্ত্রীর মতো আচরণ করছেন না এবং একজন বিবাহিত নারীর যে মর্যাদা পাওয়া উচিত, তা তিনি পাচ্ছেন না। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের কাছে দেওয়া তার আগের জবানবন্দিতেই অনড় থাকেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর ও অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগে চার্জশিট জমা দেন। এরপর অভিযুক্ত স্বামী হাইকোর্টে মামলা খারিজের আবেদন করেন।
 
অভিযোগকারী নারী জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ২০১৪ সাল থেকে তিনি প্রয়াগরাজে ছিলেন। সেখানেই ওই ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু পরে বিয়ে করতে বারবার অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি এই ধর্ষণের মামলাটি দায়ের করেন।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পযন্ত ৫ বছরেরও বেশি সময় তারা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্কে ছিলেন এবং এই মামলা মূলত একটি ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের ফল। তিনি বলেন, প্রথমবার ধর্ষণের ঘটনাটি ঠিক কোন তারিখে, সময়ে এবং স্থানে ঘটেছিল, তার কোনো উল্লেখ নেই।

আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে ওই নারী উচ্চশিক্ষিত, যার এমএ, এলএলবি এবং বিএড ডিগ্রি রয়েছে।

জবাবে অভিযোগকারী নারীর আইনজীবি বলেন, পাঁচ বছর ধরে ওই নারীকে শোষণ করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের পর আইনী জটিলতা থেকে রক্ষা পেতেই অভিযুক্ত তাকে বিয়ে করেছিলেন। এই বিয়েটি কেবল একটি প্রতারণা বা নাটক ছিল। 
বিচারপতি বিবেক সিং তার রায়ে বলেন, অভিযোগকারী নারী নৈতিক ও অনৈতিক কাজের পরিণতি বোঝার মতো যথেষ্ট পরিপক্ক এবং বুদ্ধিমান ছিলেন। কোনোভাবেই এটা বলা যায় না যে, তিনি কোনো ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে শারীরিক সম্পর্কের সম্মতি দিয়েছিলেন। পাঁচ বছর ধরে চলা এই ধারাবাহিক সম্পর্ক আদালতকে নিশ্চিত করে যে, এটি স্পষ্টতই একটি প্রেমের সম্পর্ক, যা পরবর্তীতে তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।’

বেঞ্চ তার আদেশে উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয় না এবং বরং ওই নারী তার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই এই এফআইআর দায়ের করেছিলেন ।

তারা সাহায্য করছে না, আমরাও করব না : ন্যাটো মিত্রদের ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
তারা সাহায্য করছে না, আমরাও করব না : ন্যাটো মিত্রদের ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ন্যাটো সদস্যদের পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় ভবিষ্যতে ন্যাটো দেশগুলোকে সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ট্রাম্প এ কথা জানান। 

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এত অর্থ ব্যয় করেছি। কিন্তু এখন যখন আমরা কিছু বিষয়ে সহযোগিতা চাইছি, তারা বলছে, না। তাই আমরা সাহায্য করব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা বোকামি। কারণ আমরাও চাইলে তাদের একই কথা বলতে পারি, আর হয়তো বলবও।’ ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও ট্রাম্প আগামী মাসে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন-২০১৫ আংকারা সফর করবেন।

এদিকে আগামী মাসের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানীতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে এবং আইএসআইএসসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০০ জনেরও বেশি লোককে আটক করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭-৮ জুলাইয়ের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আংকারায় ৩২ সদস্যের জোটের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তুরস্ক শীর্ষ সম্মেলনের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা, বিমানবন্দরগামী সড়কগুলোতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা। সেই সঙ্গে সম্মেলনের চারপাশের এলাকা এবং প্রতিনিধিদলগুলোকে আশ্রয় দেওয়া হোটেলগুলো সিল করে দেওয়া।

তুরস্ক সরকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে দেশব্যাপী এক অভিযানে আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৩২৪ জনকে আটক করা হয়।

প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ২৪১ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করা হয়। পরে আংকারা ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও জেন্ডারমেরির অভিযানে তাদের মধ্যে ২০৯ জনকে আটক করা হয়। অন্যদের ধরতে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অভিযান চলতে থাকে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ জন আইএসের সন্দেহভাজন সদস্য এবং ৩৫ জন রেভল্যুশনারি পিপলস লিবারেশন পার্টি/ফ্রন্ট (ডিএইচকেপি-সি)-এর সদস্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উগ্র বামপন্থী এই সংগঠনটি তুরস্কে সশস্ত্র হামলা ও গুপ্তহত্যার জন্য পরিচিত। আইএস তুরস্কে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের নববর্ষের রাতে ইস্তাম্বুলের একটি নাইটক্লাবে হামলায় ৩৯ জন নিহত হয়েছিলেন।

ব্রেক্সিট যেভাবে ব্রিটিশ রাজনীতিকে ভেঙে দিল

অনলাইন ডেস্ক
ব্রেক্সিট যেভাবে ব্রিটিশ রাজনীতিকে ভেঙে দিল
সংগৃহীত ছবি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার দশক পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোটার ইইউ ছাড়ার পক্ষে এবং ৪৮ শতাংশ বিপক্ষে ভোট দেন। ১০ বছর আগের সেই সিদ্ধান্ত শুধু ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কই বদলে দেয়নি, বরং দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও নজিরবিহীন দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও মেরুকরণ সৃষ্টি করে।

গণভোটের পরদিনই পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, যিনি গণভোটের আয়োজন করলেও ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে মাত্র এক দশকে ৬ জন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা ছাড়তে বা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। দেশটি এখন সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায়।

দুর্বল অর্থনীতি, প্রশাসনিক অকার্যকারিতা এবং বিভক্ত জনমতের মতো সমস্যাগুলোকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এত বেশি নেতৃত্ব পরিবর্তনের নজির দেখা যায়নি।

নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার প্রতিশ্রুতি

ব্রেক্সিটপন্থীরা দাবি করেছিলেন, ইইউ ছাড়লে ব্রিটেন তার আইন, অর্থনীতি ও সীমান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গণভোটের আগে বলেছিলেন, ‘আমাদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হচ্ছে।’

তবে ইতিহাসবিদ মার্গারেট ম্যাকমিলানের মতে, ব্রেক্সিটের পেছনে ছিল অভিবাসনবিরোধী মনোভাব, ইইউর বিধিনিষেধ নিয়ে অসন্তোষ এবং অতীতের ব্রিটিশ গৌরব ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষা।

কিং

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্রেক্সিটের বাস্তব পরিণতি কী হতে পারে, তা কখনোই পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।’

বাস্তবতা ও প্রতিশ্রুতির ধাক্কা

গণভোটের পর ব্রিটেন ও ইইউর বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হয়ে ওঠে। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগ করে যুক্তরাজ্য। কিন্তু বাণিজ্য, অভিবাসন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে জটিলতা থেকেই যায়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে গ্রহণযোগ্য বিচ্ছেদ চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেন। বরিস জনসন ‘গেট ব্রেক্সিট ডান’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এলেও তার করা সীমিত বাণিজ্য চুক্তি দুই পক্ষের সম্পর্ককে দীর্ঘ সময়ের জন্য শীতল করে দেয়।

এরপর ঋষি সুনাক কিছুটা সম্পর্ক স্বাভাবিক করলেও বড় কোনো পরিবর্তন আনেননি। সর্বশেষ কিয়ার স্টারমারও সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ইইউর অভিন্ন বাজারে পুনরায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেন।

রাজনৈতিক ভাঙন

সংবাদ মাধ্যম আরব নিউজ বলছে, ব্রেক্সিট ব্রিটেনের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল—কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টি—উভয়ের মধ্যেই বিভাজন তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কনজারভেটিভ পার্টিতে ইউরোপপন্থী অনেক নেতাকে কোণঠাসা করা হয়। অন্যদিকে লেবার পার্টিতেও ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিংবা পুনরায় সদস্যপদ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

এর ফলে অনেক ভোটার বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকেছেন। বিশেষ করে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ‘রিফর্ম ইউকে’ বর্তমানে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

অর্থনীতি ও অভিবাসন বিতর্ক

ব্রেক্সিটের পর ব্রিটিশ অর্থনীতি প্রত্যাশিত গতি পায়নি। ব্যবসায়ীরা ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যে নতুন বাধার মুখে পড়েছেন। যদিও করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্রেক্সিটের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে ব্রেক্সিটের পর অভিবাসন বরং বেড়ে যায় দেশটিতে। ২০২৩ সালে নিট অভিবাসন ৯ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যদিও তা গত বছর কমে ১ লাখ ৭১ হাজারে নেমে এসেছে।

হতাশা ও অবিশ্বাস

রাজনীতিবিদদের প্রতি জনগণের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অভিবাসনবিরোধী উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সহিংস ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

বিশ্লেষক ক্রিস গ্রের মতে, ব্রেক্সিট ব্রিটিশ রাজনীতিতে এমন এক বিভাজনের সূচনা করেছে, যার প্রভাব এখনও বিদ্যমান।

তিনি বলেন, ‘ব্রেক্সিটের উত্তরাধিকার মোকাবিলা না করা পর্যন্ত ব্রিটেন নিম্নমাত্রার স্থায়ী সংকটের মধ্যেই থাকবে।’

‘ব্রেগ্রেট’ বা ব্রেক্সিট-অনুশোচনা

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, এখন ৫২ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক আবার ইইউতে যোগ দেওয়ার পক্ষে, যেখানে ৩৩ শতাংশ এর বিরোধী।

সম্প্রতি লন্ডনে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের দাবিতে একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। ব্রিটেন পুনরায় ইইউতে ফিরতে চাইলে দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এক দশক পরও ব্রেক্সিট ব্রিটেনের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে গভীর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। অনেকের মতে, দেশটি এখনও সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পূর্ণ মূল্য ও পরিণতির সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে।