• ই-পেপার

শুরু হয়েছে 'সুপার এল নিনো', বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের সতর্কতা নাসার

নেতানিয়াহুর ‘মিথ্যাচার’, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বাস্তবতা কী?

অনলাইন ডেস্ক
নেতানিয়াহুর ‘মিথ্যাচার’, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বাস্তবতা কী?
রয়টার্স ছবি

লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তার দাবি, বাস্তবে সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর নতুন ধরনের অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট বলেন, তিনি সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্ব পালন করা ইসরায়েলি সেনা ও কমান্ডারদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি জানান, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা অবকাঠামো মেরামত, অস্ত্র সংগ্রহ এবং পুনরায় কার্যক্রম শুরু করলেও ইসরায়েলি সেনাদের তাদের ওপর গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

ইসরায়েলি বিমান বাহিনীও লেবাননে প্রায় পুরোপুরি অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন বেনেট।

তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ যখন বলেছিলেন যে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে, তখন তারা সত্য বলেননি। বাস্তবতা হলো, লেবাননে আমাদের সেনাদের হাত বাঁধা।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এই চুক্তি ইসরায়েলের ভেতরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এ অবস্থায় বেনেটের মন্তব্য দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।

কেন 'ডায়াপার' নিয়ে কর্মসূচিতে আসতে বলছে ককরোচ জনতা পার্টি

অনলাইন ডেস্ক
কেন 'ডায়াপার' নিয়ে কর্মসূচিতে আসতে বলছে ককরোচ জনতা পার্টি
সংগৃহীত ছবি

নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

মঙ্গলবারও সংগঠনটি তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মন্ত্রীকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে।

বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিজেপি আজ সন্ধ্যা ৬টায় একটি ব্যতিক্রমী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। 'ডায়াপার আ ডে, কিপস লিকস আওয়ে'—এই স্লোগানে তারা ‘ডায়াপার দান কর্মসূচি’ আয়োজনের কথা জানিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমর্থকদের ডায়াপার নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। সেই ডায়াপারের ওপর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি লিখতে বলা হবে। পরে সেগুলো প্রতীকীভাবে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিক্ষোভস্থলে এদিন বাড়তি নিরাপত্তা ও তৎপরতা দেখা যায়। সিজেপির অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভস্থল ছোট করতে ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করেছে। সংগঠনটির দাবি, বিক্ষোভের জায়গা সীমিত করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি ট্রাক বিক্ষোভস্থলে আনার চেষ্টাকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সিজেপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সমর্থকেরা রাতভর যন্তর মন্তরে অবস্থান করেছেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। সংগঠনটি আরো জানিয়েছে, আন্দোলনের একটি দিন ইউপিএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করা হবে। ওইদিন পরীক্ষার্থীদের মঞ্চে এসে তাদের সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংগঠনটি বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যারা সরাসরি যন্তর মন্তরে আসতে পারবেন না, তাদের জন্য সিজেপি ঘরে মোমবাতি জ্বালানোর আহ্বান জানিয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্মরণে এই কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছে।


গত ৬ জুন প্রথম কর্মসূচির পর ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে। তাদের মূল দাবি, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

 
 

গ্লোবাল টাইমসের কলাম

তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের হইচই অপ্রয়োজনীয়

অনলাইন ডেস্ক
তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের হইচই অপ্রয়োজনীয়

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে কেন্দ্র করে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস। এক সম্পাদকীয় কলামে পত্রিকাটি বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের হইচই করার প্রয়োজন নেই। 

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয় এবং এ সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের অবস্থানের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ারও কথা নয়।

গতকাল সোমবার চীন পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য নতুন চ্যাম্পিয়নদের ১৭তম বার্ষিক সভায়ও অংশ নেবেন। এই সফর ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি- বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তারই প্রতিফলন।

বাংলাদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ও বাংলাদেশ একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে, যা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থার গভীর ভিত্তি এবং সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাহ্যিক আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব থেকে উদ্ভূত একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প বৈচিত্র্যকরণকে উৎসাহিত করা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ঘাটতি পূরণ করা—এ সবই দেশের জন্য জরুরি অগ্রাধিকার।

চীন টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটিতে প্রায় ১,০০০ চীনা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সম্মিলিতভাবে কয়েক লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে চীন বাংলাদেশের জন্য শতভাগ ট্যারিফ লাইনে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে, যা বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ফলস্বরূপ, তারেক রহমানের সফরের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত সহযোগিতা, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং কৌশলগত সংলাপ।

এই সফর চীন এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে গভীরতর সহযোগিতার একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। চলতি মাসেই মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন বেইজিং, সাংহাই এবং হাংঝৌতে। সফরে উভয় দেশ একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎসহ চীন-মায়ানমার কমিউনিটি গঠনে গতি আনার বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে।

গত মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ চীন সফর করেন এবং উভয় দেশের নেতারা নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎসহ আরো ঘনিষ্ঠ চীন-পাকিস্তান কমিউনিটি গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় অগ্রগতি বাস্তবায়নে সম্মত হন। এ ছাড়াও, তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমন এবং ব্রুনাইয়ের যুবরাজ হাজি আল-মুহতাদী বিল্লাহ চীন সফর করেছেন। সেখানে তারা জ্বালানি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো খাতে পারস্পরিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

গত এপ্রিলে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি ও দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তো লাম চীন সফর করেন। সেখানে উভয়পক্ষ আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা অঞ্চল, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং ডিজিটাল শিল্প খাত নিয়ে একাধিক সমঝোতায় পৌঁছায়।

দালিয়ানে আসন্ন গ্রীষ্মকালীন দাভোস ফোরামে প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতারাও চীনে সমবেত হবেন। উচ্চপর্যায়ের এই সফরের ধারা চীনের উন্নয়ন থেকে উদ্ভূত সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য অনেক দেশের প্রবল ইচ্ছাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এই বৃহত্তর ধারারই একটি অংশ।

বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। এবং কোনো তৃতীয় পক্ষ দ্বারা তা প্রভাবিতও হওয়া উচিত নয়। এটি বরাবরই চীনের ধারাবাহিক অবস্থান ও নীতিগত অবস্থান।

তবে, আমরা লক্ষ্য করেছি যে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম এই বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশি নেতার প্রথম বিদেশ সফরে ভারতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। কিছু ভারতীয় ভাষ্যকার দাবি করেছেন যে, তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম বিদেশ সফরে চীন সফর করতে চলেছেন, ‘তার উদ্বোধনী গন্তব্য হিসেবে প্রতিবেশী ভারতকে এড়িয়ে গিয়ে,’ এবং বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অগ্রাধিকার না দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। অন্যরা সতর্ক করেছেন যে পানি ব্যবস্থাপনায় চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা ‘নয়াদিল্লির জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল।’

এই তিক্ত মন্তব্যের পেছনে কিছু ভারতীয়ের মধ্যে থাকা এক ‘বড় ভাই’ মানসিকতা রয়েছে। যারা একজন প্রতিবেশী নেতার প্রথম বিদেশ সফরকে আঞ্চলিক পৃষ্ঠপোষকের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে দেখে এবং অন্যান্য দেশের স্বাধীন কূটনৈতিক পছন্দকে নিজেদের প্রতি অপমান হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

প্রকৃতপক্ষে, চীন বাংলাদেশের সাথে তার সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়, এবং একই সাথে ভারতের সাথেও বাস্তব সহযোগিতা গড়ে তুলতে ইচ্ছুক। চীন ও ভারতের উচিত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং এমন অংশীদার হওয়া, যারা একে অপরকে সফল হতে সাহায্য করবে এবং যা প্রায়শই ‘ড্রাগন-এলিফ্যান্ট ট্যাঙ্গো’ নামে পরিচিত, তা অর্জন করবে। একই সাথে, ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত ও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায় চীন। এই সম্পর্কগুলো পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরকে আরো শক্তিশালী করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়া এমন একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম, যা সকল পক্ষের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে।

চীন উন্মুক্ত আঞ্চলিকতাবাদে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীন-ভারত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর উদ্যোগ, কিংবা চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব—এই কাঠামোসমূহ কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং এই অঞ্চলে পারস্পরিকভাবে লাভজনক বহুপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত।

উদাহরণস্বরূপ তিস্তা নদী প্রকল্পের সহযোগিতার কথা বলা যায়। ভারত ও বাংলাদেশ নদীটির উজান ও ভাটির দেশ, এবং চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পানিসম্পদ বিষয়ে সহযোগিতা বজায় রেখেছে। চীন আন্তঃসীমান্ত নদী জলবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ এবং বন্যা প্রতিবেদন তৈরির মতো বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সাথে সহযোগিতা করে আসছে। এটি এই ক্ষেত্রে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।

বর্তমানে, উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্লোবাল সাউথ দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা একটি সুস্পষ্ট প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর অভিন্ন অগ্রাধিকার হলো জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, আধুনিকায়নের অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক সংযোগ শক্তিশালী করা। চীন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচনীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশটি সকল দক্ষিণ এশীয় দেশের সাথে পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

চীন তার পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২৬-৩০) অবিচলিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে, এর উন্নয়নের সুফল প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ক্রমশ প্রসারিত করতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি যে, সকল দেশের মধ্যে গভীরতর বাস্তব সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে এবং যৌথ সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক লাভজনক উন্নয়নের একটি ভবিষ্যৎকে সমর্থন করার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যথেষ্ট প্রশস্ত।

লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে যত প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে যত প্রশ্ন
সংগৃহীত ছবি

চার মাস ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে চার দফা আলোচনা হলেও কার্যত হামলা চলমান রেখেছে লেবানন ও ইসরায়েল। তবে সাম্প্রতিক সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। সেই চুক্তির ছায়ায় ওয়াশিংটনে পঞ্চম দফায় শুরু হচ্ছে লেবানন ও ইসরায়েলের সরাসরি আলোচনা।

মঙ্গলবার এই আলোচনা শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং তাতে লেবানন ইস্যুর অন্তর্ভুক্তি আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ছাড়া বিকল্প নেই। গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে হামলা চালানোর পর শুরু হওয়া সংঘাতে লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লেবানন-ইসরায়েল চার দফা আলোচনা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং চলতি সপ্তাহে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংঘাত কমে আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে এবং লেবানন সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনসহ লেবাননের শীর্ষ নেতারা বারবার বলেছিলেন, তেহরান লেবাননের পক্ষে আলোচনা করতে পারে না।

লেবাননের এক কর্মকর্তা এবং লেবানন ইস্যুতে কাজ করা দুই বিদেশি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যত লেবাননের আলোচনার অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং এই সপ্তাহের আলোচনার ফলাফল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

লেবাননের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এবং ইসরায়েলের মধ্যে এখনো মৌলিক আস্থার সংকট রয়েছে। আমরা তাদের দাবিগুলো পূরণ করতে পারি না, আর তারা আমাদের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে।’

আসন্ন আলোচনায় লেবাননের প্রধান লক্ষ্য হবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি আদায় করা। তবে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তাদের সেনারা অনির্দিষ্টকাল সেখানে অবস্থান করবে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বলেছেন, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং লেবাননের সঙ্গে একটি প্রকৃত শান্তি চুক্তি অর্জন করা।

তিনি দাবি করেন, ‘লেবাননের সঙ্গে চুক্তির পথে একমাত্র বাধা হিজবুল্লাহ। তাই আমরা বিশ্বাস করি, তাদের নিরস্ত্র ও ভেঙে দেওয়া উচিত।’

তবে লেবানন সরকার গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় হিজবুল্লাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না করে ধীরে ধীরে নিরস্ত্রীকরণের পথ অনুসরণ করছে। হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকেও সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক করিম সাফিয়েদ্দিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এই আলোচনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে ‘অসন্তুষ্ট ইসরায়েল’।

তিনি বলেন, ‘লেবাননে আপাত শান্তি এলেও দুই পক্ষের অবস্থানে এমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি, যা আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।’

হিজবুল্লাহর ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় ইরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি তুলবে। ফলে তাদের মতে, সরাসরি আলোচনার চেয়ে তেহরানের কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপরই ভরসা করা উচিত।