• ই-পেপার

চুক্তির জন্য ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, দাবি ট্রাম্পের

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় মার্কিন হামলা, নিহত ৩
ছবি : রয়টার্স

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার চালানো এ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকায় কথিত পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

সর্বশেষ হামলার পর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন যাদের ‘নারকো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন সামরিক নৌকা হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ২১১ জনে পৌঁছেছে।

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে চালানো হামলা নিয়ে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা কথিত মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করেছে। তবে সামরিক বাহিনী নৌকাটি মাদক বহন করছিল, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।

এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আঘাত পাওয়ার পর নৌকাটি আগুন ধরে যাওয়ার আগে দ্রুত গতিতে পানিতে চলছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র সংঘাত চলছে। তিনি এই হামলাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ কমানো এবং মাদক অতিরিক্ত সেবনে মৃত্যু ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার প্রশাসন মাদক-সন্ত্রাসীদের হত্যার দাবির পক্ষে খুব কম প্রমাণ দিয়েছে।

সমালোচকরা এই নৌ-হামলার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ফেন্টানাইলসহ প্রাণঘাতী মাদকের বড় অংশ মেক্সিকো থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে আসে, যা চীন ও ভারত থেকে আসা রাসায়নিক দিয়ে তৈরি করা হয়।

বৃহস্পতিবার সিনেটররা পেন্টাগনের কাছে হামলার সম্পাদনা-বিহীন ভিডিও প্রকাশের দাবি জানান।

 

লেবাননের বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলা, নিহত বেড়ে ১৮

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননের বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলা, নিহত বেড়ে ১৮
সংগৃহীত ছবি

লেবাননের বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল ‘হিজবুল্লাহর অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলো’ এবং এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘর্ষে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ও আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও লেবানন সীমান্তে হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা ও হতাহতের ঘটনা যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
 

জাপানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুন, শিশুসহ আহত ১০

অনলাইন ডেস্ক
জাপানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুন, শিশুসহ আহত ১০
ছবি : জিজি

জাপানের টোকিওর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুন লেগে শিশুসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। আজ শুক্রবার (১৯জুন) এ ঘটনা ঘটে। 

টোকিওর কিতা এলাকার তাকিনোগাওয়া দাই-সান স্কুলের একটি সংগীত কক্ষে আগুন লাগে। এরপর ওপরের তলার জানালা দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ৭৫টি ফায়ার ইঞ্জিন এবং বেশ কয়েকজন দমকলকর্মীর সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং সকল ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কিয়োডো নিউজ জানিয়েছে, আহত ১০ জনের বেশিরভাগই ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং আরো চারজনকে স্কুলের ভেতর থেকে উদ্ধার করতে হয়েছে। 

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দমকলকর্মীরা মই ব্যবহার করে শিশুদের নিরাপদে নামিয়ে আনে। শিশুরা জানালা দিয়ে নিচের একটি কংক্রিটের কার্নিশে পালিয়ে গিয়েছিল।

ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিশু বর্ণনা করেছে, ‘হঠাৎ ধোঁয়ার গন্ধ পাই। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কেউ রান্না করছিল... তারপর সাইরেন বেজে উঠল।’ তিনি জানালেন, কীভাবে তারা রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নেমে স্কুলের মাঠে আশ্রয় নিয়েছিল।

ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, ‘আমরা দেখলাম সংগীত কক্ষটি আগুনে জ্বলছে এবং একটি বিকট শব্দ শুনতে পেলাম। এটা ছিল ভীতিকর এবং অনেক শিশুরা কাঁদছিল।’


 

যদি ইউক্রেন পুড়ে যায়, তাহলে তোমাদের মস্কোও পুড়বে: জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক
যদি ইউক্রেন পুড়ে যায়, তাহলে তোমাদের মস্কোও পুড়বে: জেলেনস্কি
ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি তেল শোধনাগারও রয়েছে বলে জানা গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর ওপর এটিকে অন্যতম বড় ইউক্রেনীয় হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

এই হামলার আগে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক আক্রমণে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে রুশ হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। দেশটির ছয়টি অঞ্চলে একদিনেই এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

এদিকে রাশিয়া রাজধানী কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক মঠ কমপ্লেক্সেও হামলা চালিয়েছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই স্থাপনাটি ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নিদর্শন। রুশ হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার মস্কোকে লক্ষ্য করে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে একটি তেল শোধনাগারও ছিল। ইউক্রেনের দাবি, এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীর দিকে আসার সময় প্রায় ১৮০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে কিছু ড্রোন বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, 'ইউক্রেনের মানুষ এই যুদ্ধ চায় না। তারা কখনোই তা চায়নি। কিন্তু যদি ইউক্রেন পুড়ে যায়, তাহলে তোমাদের মস্কোও পুড়বে।'

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া যে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে, তার জবাব হিসেবে ইউক্রেন মস্কোতে ড্রোন হামলা করেছে। তার মতে, এটি প্রতিশোধমূলক বা অযৌক্তিক কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং রাশিয়ার হামলারই পাল্টা প্রতিক্রিয়া। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউক্রেন শুধু সাধারণ লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং রাশিয়াকে যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তাকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করছে। মস্কোর তেল শোধনাগারের মতো স্থাপনায় হামলাকে তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইউক্রেন শুধু নিজেদের রক্ষাই করছে না, বরং রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতাকেও দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে প্রায় ১৬ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে যুদ্ধে দুই পক্ষের কত সেনা নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধ তিন বছরের বেশি সময় ধরে চললেও এখনো সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।

ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন (এইচআরএমএমইউ) চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানায়, এই বছরের মে মাস গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী ছিল। ওই মাসে রুশ হামলায় ২৭৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন আরো এক হাজার ৭৬৩ জন।

এদিকে রাশিয়ার ভেতরেও ইউক্রেনীয় হামলার ঘটনা ঘটছে। চলতি সপ্তাহে রুশ গণমাধ্যম জানায়, বেলারুশের একটি কিশোর ফুটবল দলকে বহনকারী একটি বাসে ইউক্রেনের হামলায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়া নিয়মিতভাবে বড় আকারের সম্মিলিত হামলা চালাবে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনকে নতুন করে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানান, ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮০ কোটি ডলারে। মার্লেস বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে ইউক্রেনের যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, অস্ট্রেলিয়া সেই সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
 

চুক্তির জন্য ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, দাবি ট্রাম্পের | কালের কণ্ঠ