• ই-পেপার

হরমুজ প্রণালি সুরক্ষায় মিত্ররা সাহায্য না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খারাপ হবে : ট্রাম্প

যুক্তরাজ্যে অস্থিরতা, আগুনে পুড়ল একাধিক বাড়ি ও যানবাহন

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে অস্থিরতা, আগুনে পুড়ল একাধিক বাড়ি ও যানবাহন
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডে ছুরি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সুদানের নাগরিক বলে ধারণা করা ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এরপর মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকায় মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে বাড়িঘর, একটি বাস, গাড়ি এবং ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, একাধিক বাড়ি আগুনে পুড়ছে এবং জরুরি সেবার যানবাহন ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি নিউটাউন অ্যাবি ও কিলকিলেসহ আশপাশের এলাকায়ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের কিছু শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। 

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল বলেন, ‘মুখোশধারী একটি দল পরিবারগুলোকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে।’ 

পুলিশ জানিয়েছে, ছুরি হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। হামলায় আরেকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর পরই এলাকায় বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

সোমবার রাতে উত্তর বেলফাস্টে ঘটে যাওয়া ছুরি হামলার একটি ভিডিও একজন প্রত্যক্ষদর্শী ধারণ করেন এবং পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ও ভাইরাল হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রক্তাক্ত আরেকজনকে মাটিতে চেপে ধরে একাধিকবার আক্রমণ করছে। পরে পথচারী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে এক্সে অভিবাসনবিরোধী ও ডানপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ভিডিওটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করে এবং প্রতিবাদের আহ্বান জানায়।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন ডানপন্থী ব্যক্তিত্বসহ বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কও বিক্ষোভের আহ্বান ও বিভিন্ন পোস্ট আবার শেয়ার করেন। বিতর্কিত আন্দোলনকারী টমি রবিনসন দেশব্যাপী সমাবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কেবল বারবার এবং জোরালোভাবে প্রতিবাদ করলেই পরিবর্তন সম্ভব।’

উত্তর আয়ারল্যান্ডে ছুরি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও বিক্ষোভের ঘটনাকে বিদেশিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক সহিংসতা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতারা।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, উত্তর বেলফাস্টের হামলাটি ছিল ‘জঘন্য ও অন্যায়’, তবে এই ঘটনাকে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্ণবাদ, ভয়ভীতি ও সহিংসতা যেখানেই ঘটুক না কেন, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সোমবার রাতের ছুরি হামলাকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করে বলেন, দেশের রাস্তায় এমন সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

এদিকে ব্যাংগর, গ্লাসগো ও লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরেও ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে কট্টর ডানপন্থী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের মুখোমুখি হয় এবং অভিবাসনবিরোধী স্লোগান দেয়। 

বেলফাস্টের আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার হানা বিবিসির নিউজনাইটকে বলেন, কিছু অনলাইন কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক মন্তব্য এই ঘটনাকে উসকে দিয়ে বিভেদ ও সহিংসতা বাড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ গায়ের রঙের ভিত্তিতে বিদেশিদের লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে পরিস্থিতি এখনো অস্থির এবং কিছু জায়গায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তারা সবাইকে শান্ত থাকার এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রায়ান হেন্ডারসন বলেন, জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

বেলফাস্টের ছুরি হামলা

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে বেলফাস্টের ক্যানার্ড এভিনিউয়ে ৪০-এর কোঠায় থাকা এক ব্যক্তি ছুরিকাহত হন।

পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রায়ান হেন্ডারসন জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি রান্নাঘরের ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় ভুক্তভোগীর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পিঠ ও মুখেও মারাত্মক জখম হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সুদানের নাগরিক বলে মনে করা এক ব্যক্তিকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিস থেকে ডাবলিনে এসে উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করেন এবং সেখানে পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তাকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

হেন্ডারসন বলেন, এই হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক আছে, এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

তিনি আরো জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি উত্তর আয়ারল্যান্ডে বৈধভাবে বসবাস করছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পুলিশি হেফাজতে আছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, জনসমক্ষে ধারালো অস্ত্র বহন এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

তেলাপোকা কোথায় পেল ওড়ার শক্তি?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
তেলাপোকা কোথায় পেল ওড়ার শক্তি?

‘প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা?’ প্রজাপতি হলে সুরে সুরে প্রশ্ন করা যেতো। কিন্তু তেলাপোকা প্রজাপতির মত বর্ণিলও নয়, রোমান্টিকও নয়। তবু জানতে মন চায়, ভারতের তেলাপোকাদের পাখায় ওড়ার এত শক্তি এলো কোথা থেকে? নিজেদের তেলাপোকা দাবি করা ভারতের তরুণদের দল ককরোচ জনতা পাটি মাত্র ২৫ দিনে গোটা ভারতকেই নাড়িয়ে দিল কীভাবে? ভারতের বিরোধী জোট ’ইন্ডিয়া’ও এখন সিজেপির পিছে হাঁটছে। সিজেপি গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রথমবারের প্রকাশ্য বিক্ষোভ করে। তার দুদিন পর গত সোমবার ’ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে সিজেপির আন্দোলনকে উপেক্ষা না করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি ওঠে। সিজেপির সঙ্গে সুর মিলিয়ে ’ইন্ডিয়া’ জোটও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেছে। রাজনীতিতে অভিজ্ঞ বিরোধী জোটের নেতারা কেন পুঁচকে তেলাপোকাদের পিছে হাঁটছে, তাদের দাবির সাথে সুর মেলাচ্ছে? তেলাপোকার পাখায় এত জোর এলো কোথা থেকে? মিলিয়ন ডলারের এই প্রশ্নের উত্তর জানা বিরোধী জোটের যেমন জরুরি, তারচেয়ে বেশি জরুরি সরকারি দলের নেতাদের জানা। আসলে প্রচলিত ধারার রাজনীতি করা সবারই উত্তরটা জানা প্রয়োজন। তারা কেন যুগের পর যুগ রাজনীতি করেও তরুণদের কানেক্ট করতে পারছেন না? নিজেদের তেলাপোকা দাবি করা তরুণদের পিছে কেন সবাই লাইন দিচ্ছে?

এ প্রশ্নের কোনো শটকাট উত্তর নেই। অনেকগুলো ফ্যাক্টর মিলেই তবে পাখা মেলেছে তেলাপোকা। প্রথম ফ্যাক্টর অবশ্যই বয়স। সুকান্ত ভট্টাচার্যের ’আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি পড়েছেন অনেকেই- ‘এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়/পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,/ এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়/এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’ আসলে বয়স একটা দারুণ টনিক। ১৮ থেকে ৩০- এটা খুব বিপজ্জনক বয়স। একটু বয়স হলে মানুষ অনেক কিছুই মেনে নেয়, আপস করে। তারুণ্য আপস করতে চয় না, জানে না। তরুণরা পড়াশোনা শেষ করে বুক ভরা স্বপ্ন আর চোখ ভরা আশা নিয়ে মাঠে নামে। কিন্তু মাঠে নেমেই দেখে চারপাশে শুধু হতাশা, তাদের চোখের সামনেই একের পর এক বন্ধ হয়ে যায় স্বপ্নের দরজা। তাদের কাজের জায়গাগুলো দখল করে ফেলে অন্য কেউ। তাদের কাছে সবকিছুই বেঠিক লাগে। এটা এমন কেন, ওটা তো হওয়ার কথা নয়।

এমন শত অসংগতি, হাজারটা প্রশ্ন তাদের মাথায় কিলবিল করে। তারা সবকিছু ভেঙেচুরে গড়তে চায়। তারা হতাশ হয়, ক্ষুব্ধ হয়, ক্রদ্ধ হয়। কিছু একটা করার জন্য রাগে তারা তড়পাতে থাকে। তখন কেউ বামপন্থি, কেউ ডানপন্থী, কেউ চরমপন্থি দলে যোগ দিয়ে সমাজ বদলাতে চায়। কেউবা ডিপস্টেটের পাল্লায় পড়ে। এভাবে যুগে যুগে দেশে দেশে তরুণরা অনেককিছু করতে চেয়েছে কেউ পেরেছে, কেউ জীবন দিয়েছে। এই যে বুকের ভেতর ঝড় নিয়ে তড়পাতে থাকা অনেকগুলো মানুষ যখন একত্রিত হয়, তখন সেই ঝড় সাইক্লোন হয়ে যায়। ভারতের অভিজিত দীপক তেমন তড়পাতে থাকা অনেকগুলো মানুষকে একসাথে করেছেন। এটাই তার কৃতিত্ব।

ককরোচ জনতা পাটির ক্ষোভ নিছক সরকারের বিরুদ্ধে নয়, সিস্টেমের বিরুদ্ধে। তরুণদের অভিযোগ, এই সিস্টেম তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে না। প্রচলিত রাজনীতিতে তাদের জন্য স্পেস নেই বললেই চলে। শুধু ভারত নয়, ককরোচ পার্টির অবিশ্বাস্য উত্থান থেকে শেখার আছে বিশ্বের সব দেশেরই। কারণ বিশ্বের সব দেশের তরুণদের মধ্যেই কমবেশি হতাশা, অপ্রাপ্তি, ক্ষোভ আছে। কখনো কখনো অভিজিত দীপকের মত কেউ সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালেন। অধিকাংশ সময় সেই আগুন বয়সের সাথে সাথে আপনা আপনিই মিইয়ে যায়।

যুগে যুগে দেশে দেশে তরুণরা তাদের ক্ষোভের আগুনে প্রচলিত অনেক সিস্টেমকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। উদাহরণ পেতে ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে হবে না। ঘরের কাছেই বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপালে তরুণরা দেখিয়ে দিয়েছে তারা কি করতে পারে। প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো বছরের পর বছর ধরে যা করতে পারেনি, তরুণরা কয়েকদিনেই তা করে চমকে দিয়েছে সবাইকে।

বাংলাদেশের ২৪এর জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের ককরোচ পাটির আন্দোলনের অনেকটাই মিল আছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারি চাকরির প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের তুলনা করেছিলেন। তাতেই চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা তরুণরা ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান দিয়ে মধ্যরাতে রাস্তায় নামলো। আন্দোলন পেলো নতুন গতি। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে তরুণদের কাউকে কাউকে তেলাপোকা বলে তুচ্ছ করেছিলেন। ‘ম্যায় হু ককরোচ’ বলে পরদিনই অনলাইনে তৈরি হয়ে গেল ককরোচ জনতা পাটি। এবার আন্দোলনের ইস্যুটা মিলিয়ে দেখুন। বাংলাদেশে আন্দোলন শুরু হয়েছিল চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে। ককরোচ পাটির প্রথম প্রকাশ্য বিক্ষোভটা হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে।

সম্প্রতি ভারতে নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষায় নানাবিধ সংকটের প্রতিবাদেই তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছে। তবে সমস্যাটা নিছক শিক্ষামন্ত্রীর নয়। এটাই আসলে সিস্টেমের সংকট। সিজেপির অবিশ্বাস্য উত্থানের আরেকটি বড় কারণ বাড়তে থাকা বেকারত্ব। ভারতে শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের ২৯ ভাগই কাজ পাচ্ছে না। আর এই ‘অলস বেকারদের’ই ডাক দিয়েছে তেলাপোকাদের দল। পড়াশোনা শেষ করে ঠিকঠাক চাকরি না পেলে তরুণরা ক্ষুব্ধ হবেনই। এটা বিশ্বের সব দেশেরই বাস্তবতা। তবে ভারত-বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে বেকারত্বের হার বেশি, তাই ক্ষুব্ধ তরুণের সংখ্যাও বেশি। ভারতে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী চাকরির বাজারে নামে। চাকরির জন্য তারা বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেয়। দারুণ প্রতিযোগিতামূলক এসব পরীক্ষা নিয়ে তাদের অভিযোগের অন্ত নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস, নাম্বার দেওয়ায় ভুল, নানান কারিগরি ত্রুটি শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে। উলটো করে ভাবুন, পরীক্ষা পদ্ধতি যদি একদম ঠিকও হয়ে যায়, ক্ষুব্ধ তরুণের সংখ্যা কিন্তু কমবে না। কর্মসংস্থান না বাড়িয়ে সিস্টেম ঠিক করলেও বেকারদের সংখ্যা একই থাকবে। তাই বেকার, ক্ষুব্ধ, নিজেদের বঞ্চিত মনে করা তারুণ্যের মধ্যে বিক্ষোভের আগুন জ্বালানোটা কঠিন নয়।

তবে কঠিন হলো, সেই আগুনটাকে ঠিকঠাকমত কাজে লাগানো। আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়াও সম্ভব। আবার আগুনে পুড়েই সোনা আরও খাঁটি হয়। সিজেপি বলছে, তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের শুরুটাও সরকার পতনের দাবিতে ছিল না। 

একযুগ ধরে বিজেপি সরকার ভারত শাসন করছে। যত দিন যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদী যেন আরও শক্তি সঞ্চয় করছেন, নতুন নতুন রাজ্য জয় করছেন। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মত সর্বভারতীয় কোনো শক্তি দেখা যাচ্ছে না। তেলাপোকাদের উত্থান তাই বিজেপি বিরোধী শিবিরে আশার সঞ্চার করেছে। তাই তো বিরোধী জোট ’ইন্ডিয়া’ তাদের সুরে সুর মেলায়।

তবে বাংলাদেশ বা নেপাল আর ভারতের রাজনৈতিক চিত্র এক নয়। বাংলাদেশ আর নেপাল এত ছোট, এক বিক্ষোভেই সরকার কাবু হয়ে গেছে। কিন্তু ভারত এত বড়, দিল্লীর যন্তর মন্তরের আন্দোলনের উত্তাপ অরুণাচলে পৌঁছাবেই না হয়তো। ভারতের ক্ষমতা কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করতে নিছক জলোচ্ছ্বাসে কাজ হবে না, সবগ্রাসী সুনামি লাগবে। তবে সিজেপিই বলছে, তারা বিজেপিকে উৎখাত করতে মাঠে নামেনি। তারা যদি সিস্টেমের ত্রুটিগুলো সারাতে পারে, তরুণদের মনে যদি বঞ্চনার বোধ কমে আসে; তাও তো কম প্রাপ্তি নয়।

তবে শঙ্কাও আছে। নেপালের বিপ্লবীরা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই হতাশা ভর করেছে। আর বাংলাদেশের তরুণরা তো নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতার অংশীদার হয়ে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে আন্দোলনের মূল চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের তরুণদের দাবি যৌক্তিক ছিল, বিক্ষোভ তীব্র ছিল। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, সেই ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে ডিপ স্টেট পেছন থেকে আন্দোলনকে পরিচালনা করেছে। আন্দোলন পরবর্তী ক্ষমতাসীনরাই স্বীকার করেছেন, এ আন্দোলন ছিল ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’এর অংশ। ভারতের তেলাপোকাদের ওড়ার পেছনেও ডিপ স্টেটের কৌশল আছে কিনা, কে জানে। তেলাপোকারা পাখায় পাওয়া শক্তিতে উড়ে উড়ে ক্ষমতা কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে, নাকি তাদের ক্ষেত্রে ‘পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে’টাই সত্যি হয়; সেটা জানার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।

উত্তর সাগরে ভেসে যাওয়া কায়াক থেকে কুকুর উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
উত্তর সাগরে ভেসে যাওয়া কায়াক থেকে কুকুর উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যের উত্তর সাগরে একটি কায়াকে ভেসে যাওয়া এক কুকুরকে নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মালিকদের সঙ্গে কুকুরটির আবেগঘন পুনর্মিলনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি তৈরি করেছে।

বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে ইংল্যান্ডের নর্থাম্বারল্যান্ড উপকূলের বামবার্গ এলাকার কাছে। কালো রঙের জার্মান শেফার্ড প্রজাতির কুকুর ‘ব্রুস’ তার মালিকের সঙ্গে একটি ফোলানো কায়াকে ছিল। একপর্যায়ে দুর্ঘটনাবশত কায়াকটি খুলে গিয়ে সাগরের পানিতে ভেসে যায়।

প্রবল বাতাসের কারণে কায়াকটি দ্রুত উপকূল থেকে দূরে সাগরের দিকে চলে যেতে থাকে। কুকুরটি ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে কোস্টগার্ড দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কুকুরটিকে খুঁজে বের করতে একাধিক নৌযান মোতায়েন করা হয়।

উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে পর্যটকবাহী নৌকা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘সেরেনিটি ফার্ন আইল্যান্ড বোট ট্যুরস’-এর একটি দল ব্রুসকে দেখতে পায়। দলের সদস্য ছিলেন নৌকার ক্যাপ্টেন জিমি রিড এবং তার সহকর্মী অ্যারন ফোর্ডি।

ক্যাপ্টেন জিমি রিড জানান, শুরুতে তারা কুকুরটিকে জীবিত উদ্ধার করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন।

তিনি বলেন, তার মনে হচ্ছিল কুকুরটি যেকোনো সময় পানিতে পড়ে যেতে পারে। তখন হয়তো তাকে আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব হতো না।

তিনি আরো বলেন, যখন তারা ব্রুসকে নৌকায় তুলতে সক্ষম হলেন এবং নিশ্চিত হলেন যে সে নিরাপদ আছে, তখন তারা দুজনই খুব খুশি হয়েছিলেন।

ভ্রমণ নৌকা কম্পানিটি জানায়, দিনের শুরুটা ছিল একেবারে স্বাভাবিক। তারা পর্যটকদের নিয়ে ফার্ন দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় নিয়মিত ভ্রমণে বের হয়েছিল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

কম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের ইননার ফার্ন দ্বীপে নিয়ে যাওয়ার সময় জিমি রিড কোস্টগার্ডের জরুরি বার্তা পান। সেখানে জানানো হয়, প্রবল বাতাসে একটি কুকুরসহ ফোলানো কায়াক সাগরের দিকে ভেসে গেছে।

এরপরই তারা কুকুরটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু পশ্চিম দিক থেকে আসা শক্তিশালী বাতাস কায়াকটিকে ক্রমেই গভীর সাগরের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারের আশা কমে আসছিল।

তবে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে তারা ব্রুসকে দেখতে পান। উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে কুকুরটির গায়ে বাঁধা ফিতা ধরে তাকে নৌকায় তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে সেটি হাত ফসকে আবার সাগরে পড়ে যায়।

পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও দলের সদস্য অ্যারন ফোর্ডি দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি নৌকার পাশ দিয়ে ঝুঁকে পড়ে কুকুরটির ঘাড়ের চামড়া ধরে ফেলেন এবং নিরাপদে তাকে নৌকায় তুলে আনেন।

উদ্ধারের সময় ব্রুস ঠান্ডায় কাঁপছিল এবং তার শরীর পুরোপুরি ভিজে গিয়েছিল। এরপর তাকে তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

পরে নৌকাটি সিহাউসেস হারবারে ফিরে আসে। সেখানে কুকুরটির মালিকরা অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর ব্রুসকে নিরাপদে ফিরে পেয়ে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ভ্রমণ নৌকা কম্পানিটি জানায়, পুরো অভিযানের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ছিল কুকুরটির সঙ্গে তার মালিকদের পুনর্মিলন দেখা। তাদের মতে, এ দৃশ্যই উদ্ধার অভিযানের সব পরিশ্রমকে সার্থক করে তুলেছে।
 

বিমানের বিপজ্জনক টার্বুলেন্স ১৫ সেকেন্ড আগেই শনাক্ত করবে নতুন এআই প্রযুক্তি

অনলাইন ডেস্ক
বিমানের বিপজ্জনক টার্বুলেন্স ১৫ সেকেন্ড আগেই শনাক্ত করবে নতুন এআই প্রযুক্তি
সংগৃহীত ছবি

চলন্ত বিমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরনের টার্বুলেন্স বা বায়ুপ্রবাহের অস্বাভাবিক পরিবর্তন আগেই শনাক্ত করার জন্য নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি তৈরি করেছেন গবেষকরা। নতুন এই প্রযুক্তি পাইলটদের সম্ভাব্য ঝুঁকির অন্তত ১৫ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শিয়াওওয়েই ইউয়ে এই নতুন নিরাপত্তা পূর্বাভাস মডেল তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিটিতে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উড্ডয়ন গতিবিদ্যার বিভিন্ন নীতি একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল গত ৯ জুন আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘পিএনএএস নেক্সাস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক দল মূলত ‘উইন্ড শিয়ার’ নামে পরিচিত অত্যন্ত বিপজ্জনক এক ধরনের টার্বুলেন্স নিয়ে কাজ করেছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, অল্প দূরত্বের মধ্যে বাতাসের গতি বা দিক হঠাৎ ও অনিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হলে উইন্ড শিয়ার তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে বিমান হঠাৎ ভারসাম্য হারাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিমান নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। চরম পরিস্থিতিতে এটি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনার প্রায় ১৮ শতাংশের পেছনে উইন্ড শিয়ার ভূমিকা রেখেছিল। ফলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘদিন ধরেই বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঝুঁকি কমাতে অধ্যাপক শিয়াওওয়েই ইউয়ের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ফ্লাইট তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

আরো পড়ুন
দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দাঁত সোজা করা কি বৈধ

দাঁতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দাঁত সোজা করা কি বৈধ

 

গবেষকদের দাবি, নতুন এই এআই প্রযুক্তি উইন্ড শিয়ার তৈরি হওয়ার অন্তত ১৫ সেকেন্ড আগে সম্ভাব্য ঝুঁকির পূর্বাভাস দিতে পারে। ফলে পাইলটরা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মূল্যবান কিছু সময় হাতে পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উড্ডয়নের সময় কয়েক সেকেন্ডও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই ১৫ সেকেন্ড আগাম সতর্কতা পেলে পাইলটরা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে এবং বিমানকে নিরাপদ রাখতে আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, বাস্তব আবহাওয়ার তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তির ভুলের হার ৫ শতাংশেরও কম। ফলে এর নির্ভুলতা বেশ আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষক দলের ভাষায়, উড্ডয়ন গতিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক নীতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ দিলে ভবিষ্যতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।