• ই-পেপার

ইরান যুদ্ধ ও পাকিস্তানের আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা

দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী
সংগৃহীত ছবি

কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী আবদুল্লাহ শাতাত। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেও মুক্তির মুহূর্তেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারাগার থেকে বের হওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই আবদুল্লাহ শাতাত হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঘিরে থাকা লোকজন দ্রুত তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান।

মুক্তির সময় শাতাতকে খুবই দুর্বল ও বিভ্রান্ত অবস্থায় দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অধিকারকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত খাবার না দিয়ে রাখা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, এসব কারণে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করে যে দীর্ঘদিন ধরে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের আটক রাখার নীতি অনুসরণ করছে ইসরায়েল। এই ব্যবস্থাকে তারা ‘প্রশাসনিক আটক’ হিসেবে উল্লেখ করে। সংস্থাটির দাবি—এই নীতিটি ‘বর্ণবৈষম্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থা’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে ৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশু বন্দি অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা দাবি করে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন এবং অপমানজনক আচরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ওই প্রতিবেদনে নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সাক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে তারা কারাগারে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনার পর ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের আটক নীতি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।


 

ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতিও হতো গাজার মতো: পেজেশকিয়ান

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতিও হতো গাজার মতো: পেজেশকিয়ান
ছবি : রয়টার্স

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া তার দেশের পরিণতি ‘গাজার মতোই’ হতো।  তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের ব্যালিস্টিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস চলবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনার মধ্যে পাকিস্তান সফরকালে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করত। তখন তারা বৃদ্ধ বা তরুণ, কাউকেই রেহাই দিত না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো অবস্থাতেই, কখনো, কারোর সঙ্গেই আলোচনা করব না।’

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ নিশ্চিত করেছেন, মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো উল্লেখ ছিল না।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে শুরু হওয়া যুদ্ধে তেহরান তার উপসাগরীয় প্রতিবেশী ও ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন ছুড়েছে। ১৯৮০ দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরানের দুর্বল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণের জন্য প্রাথমিকভাবে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তৈরি করা হয়েছিল এবং তারপর থেকে এগুলোর পাল্লা ও নির্ভুলতা কেবল বেড়েছে।

ইরান থেকে এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার (৯৩০ মাইল) দূরে অবস্থিত ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিকে একটি অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখে আসছে। যুদ্ধের আগে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সশস্ত্র প্রক্সিদের প্রতি তেহরানের সমর্থনকে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে তার অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন বলে মনে হয়েছে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বলছি, অন্য দেশগুলোর কাছে যদি এসব অস্ত্র থাকে, তাহলে কিছু দেশের কাছে একেবারেই না থাকা কিছুটা অন্যায্য।’
 

ফেরার মতো ঘর নেই লেবাননের হাজারো মানুষের: জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক
ফেরার মতো ঘর নেই লেবাননের হাজারো মানুষের: জাতিসংঘ
সংগৃহীত ছবি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে অনেক পরিবারের জন্য এই ফেরা আনন্দের নয়, কারণ তাদের বাড়িঘর আর আগের জায়গায় নেই। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সংঘাতের সময় দক্ষিণ লেবাননে ১১ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও বিপুলসংখ্যক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজেদের এলাকায় ফিরছেন। শুধু এক রাতেই প্রায় ১৯ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগ করেছেন। এর ফলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ এখনো বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

দুজারিক জানান, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং লেবাননের জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিষদের যৌথ এক মূল্যায়নে দক্ষিণ লেবাননের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী, সংঘাতের সময় দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ১১ হাজার আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ ভবন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এত বড় মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞের কারণে বহু পরিবার বাড়ি ফিরলেও বসবাসের মতো কোনো ঘর খুঁজে পাচ্ছে না। অনেকের বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আবার অনেক ভবন এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে সেখানে বসবাস করা নিরাপদ নয়। দুজারিক বলেন, এর অর্থ হলো পরিবারগুলোর জন্য ফেরার মতো কোনো ঘরই আর নেই।

জাতিসংঘের এই তথ্য লেবাননের মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। কারণ ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।
 

প্রযুক্তিগত বিভ্রাটে জার্মানিজুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
প্রযুক্তিগত বিভ্রাটে জার্মানিজুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ছবি: রয়টার্স

জার্মানিজুড়ে হঠাৎ করেই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডয়চে বান জানিয়েছে, রেলওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার গভীর রাতে সব ট্রেন থামিয়ে দিতে হয়েছে।

ডয়চে বান তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, রেল নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত জিএসএম-আর ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় দেশব্যাপী ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এই সমস্যার কারণে ট্রেনচালক, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং রেল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে দেশজুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। চলন্ত ট্রেনগুলোকে নিকটবর্তী স্টেশনগুলোতে নিয়ে গিয়ে থামিয়ে রাখা হয়।

তবে এই প্রযুক্তিগত সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ডয়চে বান বলেছে, তাদের প্রযুক্তিবিদরা দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটি এখনো জানায়নি, ঠিক কত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। একই সঙ্গে কতসংখ্যক ট্রেন ও কতজন যাত্রী এই সমস্যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জার্মানির জনপ্রিয় সংবাদপত্র বিল্ডের প্রতিবেদনে ডয়চে বানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এভেলিন পালার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা এখন ট্রেনগুলোকে স্টেশনগুলোতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে নেমে যেতে পারেন। এরপর আমাদের সমস্যাটি সমাধান করতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা জানি না সমস্যার প্রকৃত কারণ কী।'

রেলওয়ে খাতে ব্যবহৃত জিএসএম-আর বা ‘গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস–রেলওয়ে’ হলো একটি বিশেষ ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ট্রেনচালক, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং রেল পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নির্দেশনা আদান-প্রদান করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ না করলে ট্রেন পরিচালনা নিরাপদভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিকল হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প থাকে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রেলওয়ে সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেল পরিচালনার অভিন্ন মান হিসেবে জিএসএম-আর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি ইউরোপের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জার্মানির রেল নেটওয়ার্ক ইউরোপের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ত রেলব্যবস্থাগুলোর একটি। প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াতের জন্য এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করেন। ফলে দেশজুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অতীতে জার্মানিতে কয়েকবার বড় পরিসরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হলেও সেসব ঘটনা মূলত ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঘটেছিল। তবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দেশব্যাপী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।

কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে না। এদিকে হাজারো যাত্রী স্টেশনগুলোতে আটকে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।