• ই-পেপার

আলবেনিয়ায় লাগানো আগুন থেকে দাবানল, গ্রেপ্তার ১৮

তেলের দাম নিয়ে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
তেলের দাম নিয়ে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
রয়টার্স ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ও বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলছে, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)। 

সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকট আরো তীব্র হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বর্তমান প্রায় ৯১ ডলার এবং যুদ্ধ শুরুর আগের প্রায় ৭০ ডলারের তুলনায় অনেক বেশি অবস্থানে থাকবে।

আগামী কয়েক সপ্তাহে তেল রপ্তানি সীমিত থাকবে এবং উৎপাদন ও মজুদ কমে আসবে—এমন ধারণার ভিত্তিতেই এই মূল্য পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে বলেও জানায় ইআইএ ।

প্রতিবেদনে জ্বালানি বিশ্লেষকদের একাংশও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের মতে, হরমুজ প্রণালি চলতি মাসেই পুনরায় চালু হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৪ ডলার থাকতে পারে।

ইআইএ’র এই পূর্বাভাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন হলে বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির দাম দ্রুত কমে যাবে। তিনি বারবার দাবি করেছেন, এমন একটি চুক্তি খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে। তবে সরকারি পূর্বাভাসে এখনো উচ্চমূল্যের ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি মূল্য নিয়েও নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে ইআইএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৯০ ডলার এবং পরের বছর ৩ দশমিক ৬৪ ডলার হতে পারে। মে মাসে প্রকাশিত পূর্ববর্তী প্রতিবেদনের তুলনায় এই পূর্বাভাস সামান্য বেশি।

তবে ইআইএ বলছে, বৈশ্বিক চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম আরো বেশি বাড়েনি। উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যয় কমানো, জ্বালানির সীমিত প্রাপ্যতা এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদনের পূর্বাভাসও সামান্য বাড়ানো হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। 

এর আগে ইআইএ উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত থেকে দৈনিক এক কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল থাকবে বলে ধারণা দিয়েছিল।

ইলন মাস্ককে টপকে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক ব্রেইন চিপ চীনের ‘নিও’

অনলাইন ডেস্ক
ইলন মাস্ককে টপকে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক ব্রেইন চিপ চীনের ‘নিও’
সংগৃহীত ছবি

চীন বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত মস্তিষ্ক-কম্পিউটার চিপ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। ‘নিও’ নামের এই চিপ ইতোমধ্যে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা পাস করেছে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানবদেহে স্থাপনযোগ্য প্রথম অনুমোদিত ব্রেইন-চিপ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন প্রযুক্তিখাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। একই সঙ্গে এটি ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকল্পগুলোকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে।

কী এই ‘নিও’ চিপ?

মুদ্রার আকারের এই যন্ত্রটি মূলত মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া এবং পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। চিপটির কাজ হলো মস্তিষ্কের সংকেত সংগ্রহ করে তা কম্পিউটারের নির্দেশনায় রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে যেসব রোগী স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা বিভিন্ন কাজ করতে পারেন না, তারা চিন্তার সাহায্যে কিছু কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শিগগিরই এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ

মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক দাবি করে, ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা শুধু চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটারে টাইপ করতে, মাউস চালাতে কিংবা বিভিন্ন যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। মাস্ক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, এই প্রযুক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষকে আবার শরীরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তি খাতের অনেক উদ্যোক্তা মনে করেন, মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সংযোগ তৈরির পথ খুলে দিতে পারে এই প্রযুক্তি।

দ্রুত বাড়ছে বাজার

বিশ্লেষকদের মতে, মস্তিষ্ক-কম্পিউটার চিপ শিল্প আগামী বছরগুলোতে দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪৯ কোটি ডলারের এই খাত ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১৭০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের জীবনমান উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে এই প্রযুক্তির। পক্ষাঘাত, মৃগী, স্ট্রোক, পারকিনসন রোগ এবং বিষণ্নতার মতো সমস্যার চিকিৎসায়ও ভবিষ্যতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উদ্বেগও কম নয়

তবে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনার পাশাপাশি গুরুতর উদ্বেগও রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক থেকে সংগৃহীত তথ্য মানুষের সবচেয়ে ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে পড়ে। এই তথ্য যদি কোনোভাবে হ্যাকারদের হাতে চলে যায়, তাহলে তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞ ডেভিড টাফলি বলেন, তাত্ত্বিকভাবে হ্যাকাররা কোনো ব্যক্তির চিন্তা, স্মৃতি বা স্নায়বিক তথ্যের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সাইবার নিরাপত্তা আরো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

মানুষের মস্তিষ্কে যন্ত্র বসানোর চ্যালেঞ্জ 

মানবদেহে স্থায়ীভাবে কোনো যন্ত্র বসানো সহজ কাজ নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক সময় বাইরের বস্তু প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করে। এতে সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ বা টিস্যুর ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। চীনের গবেষকেরা দাবি করেছেন, তারা এমন একটি নকশা তৈরি করেছেন যা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। ‘নিও’ চিপটি খুলির হাড় ও মস্তিষ্কের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তরের মাঝখানে স্থাপন করা হয়। এর ফলে সরাসরি মস্তিষ্কের গভীরে প্রবেশ করতে হয় না। এ পর্যন্ত ৩৬ জন রোগীর ওপর এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।

নিউরালিংকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

চীনের এই সাফল্য ইলন মাস্কের নিউরালিংকের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। নিউরালিংক ২০২৪ সালে মানুষের ওপর পরীক্ষা শুরু করলেও তাদের চিপ এখনো সাধারণ ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পায়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ‘এন-ওয়ান’ চিপ নিয়ে কয়েকজন রোগীর ওপর পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক রোগী জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটির সাহায্যে তিনি দীর্ঘদিন পর নিজের নাম লেখার চেষ্টা করতে পেরেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু এর কার্যকারিতা নয়, বরং মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সংগৃহীত তথ্যের মালিকানা কার হাতে থাকবে। কারণ এই চিপ মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণ সম্পর্কিত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ফলে প্রযুক্তিটি যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং নৈতিকতা নিয়ে নতুন বিতর্কও সামনে নিয়ে আসছে।

নতুন যুগের শুরু?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক-কম্পিউটার চিপ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও এটি ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে। একদিকে এটি লাখো রোগীর জীবন বদলে দিতে পারে, অন্যদিকে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তুলছে। ফলে এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু এর সক্ষমতার ওপর নয়, বরং এটি কতটা নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা হয় তার ওপরও।

যে শর্তে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা?

অনলাইন ডেস্ক
যে শর্তে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা?

পশ্চিবঙ্গ বিধানসভায় মহাবিপর্যয়ের পর টালমাটাল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। বিধানসভা ও লোকসভায় ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন টিএমসি সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লিতে থাকাকালীন শর্ত সাপেক্ষে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা, এমন গুঞ্জন চাউর হয়েছে। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই দলের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী,একটি সূত্র জানিয়েছে, কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতাকে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম দুঃসময়ে মমতাকে গ্রহণ করে, তাহলে রাজ্যের নেতৃত্ব কি আদৌ সেই সিদ্ধান্ত মানবে, এমন প্রশ্ন উঠেছে।

রাজ্যের কংগ্রেস কর্মীরা এত দিন তৃণমূলের দ্বারা অত্যাচারিত, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসাবে মানবেন? এ প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস নেতৃত্ব।

প্রদেশের একটা অংশ মনে করছেন, মমতাকে দলে নেতার বা এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ধরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই সময় মমতাকে সঙ্গে নেওয়ার অর্থ, তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি, অপশাসনের দায় নিজেদের গায়ে মাখা। 

অধীর চৌধুরী, আবদুল মান্নানের মতো প্রবীণ নেতারা এই দলে। আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের ওপর আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ একই সুর অধীরেরও। তিনি বলছেন, ‘যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভাঙিয়েছিলেন, তাঁকেই এবার গান্ধী পরিবারের কাছে গিয়ে হাতে-পায়ে ধরতে হচ্ছে। পাপের ফল ভোগ করতে হবেই।’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সুর তুলনায় নরম। তিনি বলছেন, যদি কেউ দলে আসতে চান, তাহলে তাকে আগে মেনে নিতে হবে যে রাহুল গান্ধীই কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ।

আরেক প্রবীণ নেতা শুভঙ্কর বলেন, ‘রাহুল গান্ধীকে ভাবী প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে যারাই কংগ্রেসে আসবেন তাদের প্রত্যেককে স্বাগত।’ 

বস্তুত তৃণমূলে ভাঙন যত বাড়ছে, ততই যেন কংগ্রেসের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এক দিন আগে ১০ জনপথে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

বুধবার (১০ জুন) রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই দলের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠক হয়। পরপর দুই দিন দুই দলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতাদের বৈঠক ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

এক্স-৫৯ কুয়েস্ট : সুপারসনিক বিমানে শব্দ কমাতে নাসার বড় পরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক
এক্স-৫৯ কুয়েস্ট : সুপারসনিক বিমানে শব্দ কমাতে নাসার বড় পরীক্ষা
সংগৃহীত ছবি

সান ডিয়েগোতে অনুষ্ঠিত এআইএএ অ্যাভিয়েশন ফোরাম-এ নাসার পরীক্ষামূলক সুপারসনিক বিমান ‘নাসা এক্স-৫৯ কুয়েস্ট’ নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছেন পরীক্ষামূলক পাইলট জিম ‘ক্লু’ লেস। গত সপ্তাহে শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড়ে যাওয়ার পর তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই বিমান ভবিষ্যতে প্রচলিত সুপারসনিক বিমানের তুলনায় অনেক কম শব্দ তৈরি করতে পারবে।

লক্ষ্য হলো সুপারসনিক উড্ডয়নকে আর কানে ফাটানো ‘সনিক বুম’ নয়, বরং হালকা একটি ‘থাম্প’ শব্দে রূপ দেওয়া, যা অনেকটা গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দের মতো শোনাবে।

শুক্রবার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমির আকাশে বিমানটি ম্যাক ১.১ গতিতে উড়েছে। এই গতিতে এর গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১,১৪৭ কিলোমিটার। একই সময় এটি প্রায় ৪৩,৪০০ ফুট উচ্চতায় ছিল।

পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে একই ধরনের গতিতে আরো কয়েকটি পরীক্ষা চালানো হবে। এরপর ধাপে ধাপে বিমানটিকে ম্যাক ১.৪ গতিতে নেওয়া হবে, যা এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য।

লেস জানান, এই পর্যায়েই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল পাওয়া যাবে। বিমানটি সত্যিই কম শব্দে সুপারসনিক উড়ান দিতে পারে কি না, তা তখন বোঝা যাবে।

নাসা এক্স-৫৯ কুয়েস্ট তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ নকশায়। এর লক্ষ্য হলো সুপারসনিক গতিতে উড়ার সময় যে শক্তিশালী 'সনিক বুম' তৈরি হয়, সেটি কমিয়ে আনা।

সাধারণ সুপারসনিক বিমানে যখন গতি শব্দের চেয়ে বেশি হয়, তখন বাতাসে শক্তিশালী শক ওয়েভ তৈরি হয়। এই তরঙ্গগুলো একত্র হয়ে নিচে এসে পড়ে একটি প্রচণ্ড শব্দ তৈরি করে, যা বজ্রপাতের মতো শোনায়।

কিন্তু এই বিমানের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে শক ওয়েভগুলো ছড়িয়ে যায় এবং শব্দ অনেক হালকা হয়।


পাইলট জিম লেস জানান, বিমানটি যে শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত যাচ্ছে সেটা তিনি তখন প্রথম বুঝতে পারেন যখন তিনি সামনের দিকের শক ওয়েভের ছায়া দেখতে পান। সূর্যের অবস্থান তখন এমন ছিল যে এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব হয়েছিল। এটি খুব বিরল ঘটনা।

তিনি আরো বলেন, বিমানের যন্ত্রে কিছু তথ্য ভুলভাবে ধরা পড়েছিল। সেখানে ম্যাক ১.৩ পর্যন্ত গতি দেখাচ্ছিল, যা পরে সংশোধন করা হবে।

উড্ডয়নের সময় একটি এফ-১৫বি যুদ্ধবিমান খুব কাছ থেকে নাসা এক্স-৫৯ কুয়েস্ট–কে অনুসরণ করছে। এই যুদ্ধবিমান নিজেই শক্তিশালী শব্দ তৈরি করে, ফলে মূল বিমানের শব্দ অনেক সময় আড়াল হয়ে যায়।

পরবর্তীতে যুদ্ধবিমানটি আরো দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে, যাতে স্থলভাগে থাকা যন্ত্রপাতি আসল শব্দ সঠিকভাবে মাপতে পারে।

নাসা জানায়, এই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে বিমানটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে উড়ানো হতে পারে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া নেওয়া হবে যে তারা এই 'হালকা সুপারসনিক শব্দ' গ্রহণ করেন কি না।

এই তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সুপারসনিক উড্ডয়নের নতুন নিয়ম তৈরি করতে পারে।

নাসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ক্যাথি বাম বলেন, সাধারণত পরীক্ষামূলক বিমান নির্দিষ্ট সীমিত এলাকায় পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে বিমানটি মানুষের বসবাসের এলাকাতেও উড়তে পারে, যা একে আরো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

তিনি বলেন, সব সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে বাস্তব পরিস্থিতিতেও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।

নাসা এক্স-৫৯ কুয়েস্ট প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে সুপারসনিক বিমানকে আরো ব্যবহারযোগ্য করা, যেখানে বিমান খুব দ্রুত চলবে, কিন্তু নিচে থাকা মানুষ কানে ফাটানো শব্দ শুনবে না।

এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে দীর্ঘ দূরত্বের বিমান ভ্রমণ অনেক দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে কম শব্দে সম্ভব হতে পারে।

আলবেনিয়ায় লাগানো আগুন থেকে দাবানল, গ্রেপ্তার ১৮ | কালের কণ্ঠ