• ই-পেপার

ইসরায়েলি গুপ্তচরকে ফাঁসি দিল ইরান

ইইউর নতুন অভিবাসন নীতিতে অস্থায়ী বন্দিশালার অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
ইইউর নতুন অভিবাসন নীতিতে অস্থায়ী বন্দিশালার অনুমোদন
ছবি : রয়টার্স

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বুধবার অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর আওতায় অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোকে বিদেশে আটককেন্দ্র বা অস্থায়ী বন্দিশালা স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে।

সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থা কঠোর এবং এটি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত গত এক দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অভিবাসনবিরোধী মনোভাবের উত্থান। এর ফলে বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনসমর্থনও বেড়েছে।

এই খসড়াটি কার্যকর হতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য দেশের সরকারের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। এটি ইইউর অভিবাসন নীতিকে কঠোর করার একটি পদক্ষেপ। ২০১৫-১৬ সালে ১০ লাখের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী ইউরোপে আসার পর থেকেই ইইউ ধীরে ধীরে কঠোর অভিবাসন নীতির দিকে এগোচ্ছে।

ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের বৈঠকের আগে মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত এই নতুন বিধিমালা দ্রুত ও আরো কার্যকর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজকে দক্ষ করে তুলবে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো বলছে, যাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বা যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের নিজ নিজ দেশ বা অন্যত্র ফেরত পাঠানো এবং ইইউর ভূখণ্ড ত্যাগ নিশ্চিত করতে তারা বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি অভিবাসনের মূল কারণ। যেমন যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক নিপীড়ন সমাধানের পরিবর্তে অভিবাসীদের ঠেকানো এবং ফেরত পাঠানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভলকার তুর্ক বলেন, ‘যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অভিবাসী ও শরণার্থীরা ভয়াবহ অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের মৌলিক অধিকারও ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।’

সমালোচকদের মতে, অভিবাসী ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিয়মে আটকাদেশের ব্যবহার বাড়তে পারে, বিদেশে ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের যোগাযোগ আফগানদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হতে পারে। তবে এসব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইউরোপীয় কমিশন গত মাসে আফগান অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তালেবান কর্মকর্তাদের ব্রাসেলসে আমন্ত্রণ জানায়।

ইউরোপীয় কমিশন এবং সফরের সহ-আয়োজক সুইডিশ সরকার বলেছে, এটি একটি কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক এবং এর মাধ্যমে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।

রয়টার্সের দেখা একটি চিঠি অনুযায়ী, তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহের বলখির উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২২-২৩ জুনের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার বৈধ অধিকার নেই এমন আফগান নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং তাদের পুনঃগ্রহণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা।

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বুধবার জানান, তালেবান প্রতিনিধিদলের পাঁচ সদস্য ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তবে বৈঠকটি ঠিক কবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তিনি জানান, প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই করা হবে এবং কবে ভিসা দেওয়া সম্ভব হবে, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। ইউরোপীয় কমিশন গত মাসে জানিয়েছিল, আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই বিবেচনা করা হবে, যাদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়। তবে ইউরোপীয় কমিশন বা সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী কেউই এখন পর্যন্ত বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করেননি।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করে পুনরায় ক্ষমতায় আসে তালেবান। এরপর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

চ্যাটজিপিটি দিয়ে যৌন উত্তেজক ও সহিংস ছবি তৈরি সম্ভব, দাবি গবেষকদের

অনলাইন ডেস্ক
চ্যাটজিপিটি দিয়ে যৌন উত্তেজক ও সহিংস ছবি তৈরি সম্ভব, দাবি গবেষকদের
সংগৃহীত ছবি

চ্যাটজিপিটির সর্বশেষ সংস্করণ দিয়ে যৌন উত্তেজক এবং ভয়াবহ সহিংসতার ছবি তৈরি করা সম্ভব। সাধারণ একটি নির্দেশ বা প্রম্পট লিখেই এই কাজ করা যাচ্ছে। গবেষকরা বিবিসি-কে এই তথ্য জানিয়েছেন।

ব্রিটেনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘মাইন্ডগার্ড’ এই বিষয়টি খুঁজে পেয়েছে। তারা দেখেছে, ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত একটি সাধারণ নির্দেশ (প্রম্পট) সামান্য পরিবর্তন করে চ্যাটজিপিটি-কে দিয়ে বিভীষিকাময় ছবি তৈরি করা যায়। এই প্রম্পটটি মূলত মজার কিছু তৈরি করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।

এই বিষয়ে চ্যাটজিপিটির প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর সাথে যোগাযোগ করে বিবিসি। এরপর ওপেনএআই জানায়, তারা চ্যাটবটকে এই ধরনের ছবি তৈরি করা থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে। ওপেনএআই এক বিবৃতিতে বলেছে, এই বিষয়টি তদন্ত করার পর তারা এই ধরণের প্রম্পটের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে। তারা আরো জানায়, ব্যবহারকারীরা যাতে তাদের নিয়ম ভঙ্গ করে কোনো কনটেন্ট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তাদের বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এআই নিরাপত্তা গবেষকরা জানিয়েছেন, সেই প্রম্পটটিতে আরো কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন করে এখনও উদ্বেগজনক ছবি তৈরি করা যাচ্ছে। 


তবে ওই ছবিগুলো তৈরি করার জন্য ওপেনএআই-এর ‘জিপিটি-৫.৪’ মডেলের এই চ্যাটবটটিকে গবেষকরা ঠিক কী প্রম্পট দিয়েছিলেন সেটা প্রকাশ না করলেও তা বিবিসি দেখেছে। মাইন্ডগার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এবং ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির কম্পিউটিং বিভাগের অধ্যাপক পিটার গ্যারাগান বলেন, কোনো বিস্তারিত নির্দেশ ছাড়াই চ্যাটবটটি এমন সব ছবি তৈরি করছিল যা ছিল 'খুবই ভয়ঙ্কর', কখনো 'যৌন উত্তেজক', আবার কখনো এই দুইয়ের মিশ্রণ। তিনি আরো বলেন, তিনি বিশেষ করে এই কারণে চিন্তিত যে, নির্দেশটিতে কী ধরনের ছবি তৈরি করতে হবে তা বলা ছিল না। কিন্তু বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগের যে এআই সম্পূর্ণ 'নিজের ইচ্ছায়' এমন রক্তারক্তি এবং যৌন উত্তেজক ছবি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এআই-এর কাছে এই প্রম্পটকে একেবারেই সাধারণ মনে হয়। কিন্তু এর ফলাফলস্বরূপ এটি অত্যন্ত খারাপ ছবি ও কনটেন্ট তৈরি করে।

মাইন্ডগার্ড মূলত ‘রেড-টিমিং’ বা এআই-এর নিরাপত্তা ত্রুটি খোঁজার কাজ করে। তারা এআই মডেলগুলোকে নিজেদের নিয়ম ভাঙার জন্য প্ররোচিত করার উপায় খুঁজে বের করে। এর ফলে এআই কোম্পানিগুলো তাদের নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো বন্ধ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির এআই নিরাপত্তা গবেষক জিম নাইটিঙ্গেল এই সমস্যাগুলো খুঁজে বের করেছেন। 

বিবিসি এইধরনের ছবিগুলোর কয়েকটি দেখেছে। একটি ছবিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তির মাথায় বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, ছোট টপস এবং শর্টস পরা এক তরুণী মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তে ভেজা ছিল। মাইন্ডগার্ড জানিয়েছে, এই ছবির ধরণ দেখে যৌন সহিংসতার আভাস পাওয়া যায়। চ্যাটজিপিটি এই ছবির নাম দিয়েছিল 'ভয়াবহ অপরাধস্থলের পরবর্তী অবস্থা'। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, কলেজের লোগোযুক্ত আঁটসাঁট টি-শার্ট ও শর্টস পরা এক তরুণীকে একটি খালি ও নোংরা ঘরে মুখে কাপড় গুঁজে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাকে খুব ভীত দেখাচ্ছিল। চ্যাটজিপিটি এর নাম দিয়েছিল 'ভয় ও বন্দিদশায় পরিত্যক্ত'। অন্যান্য তৈরি করা ছবিগুলোতে আপত্তিকর ভঙ্গি এবং নগ্নতা দেখা গেছে। এই ছবিগুলোতে যাদের দেখা গেছে, তারা কেউ বাস্তব মানুষ নন, বরং এআই দিয়ে তৈরি প্রাপ্তবয়স্ক চরিত্র। তবে মাইন্ডগার্ড উল্লেখ করেছে, তাদের আগের গবেষণায় দেখা গেছে যে চ্যাটজিপিটি-কে ফাঁকি দিয়ে বাস্তব মানুষের মুখ বসিয়ে নগ্ন ‘ডিপফেইক’ ছবিও তৈরি করা সম্ভব।

ওপেনএআই এই সমস্যাটি সমাধান করার দাবি করলেও গবেষকরা জানিয়েছেন, অন্য আরেকটি উপায়ে এখনও এটি করা সম্ভব। তারা এই পদ্ধতিতে তৈরি একটি নতুন ছবি বিবিসি-কে দেখিয়েছেন। বিবিসি জানতে পেরেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ওপেনএআই ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু করছে, যাতে চ্যাটবটটি ওই নির্দেশের জবাবে ছবি তৈরি না করে।

চ্যাটজিপিটির মতো বড় ভাষার মডেল বা এলএলএম-গুলোকে ইন্টারনেটে থাকা কোটি কোটি ছবির সাহায্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নাইটিঙ্গেল বিশ্বাস করেন, চ্যাটজিপিটি যা তৈরি করছে তা মূলত সেই তথ্যেরই প্রতিফলন, যা দিয়ে এটিকে তৈরি এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, তিনি অবাক হয়েছেন যে, তিনি যা দেখছেন তা কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি হলেও, এর সাথে বাস্তব ছবি এবং বাস্তব পৃথিবীর গভীর সংযোগ রয়েছে। গবেষকরা প্রথমে মে মাসে ওপেনএআই-কে এই বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং তাদের গবেষণার ফলাফল শেয়ার করেছিলেন। কিন্তু তারা এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কেবল একটি স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড বার্তা পেয়েছিলেন। 

বিবিসি যোগাযোগ করার পর ওপেনএআই আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়। তারা জানিয়েছে, তাদের নীতি লঙ্ঘন করে এমন ছবি যাতে ব্যবহারকারীদের সামনে না আসে, সেজন্য তাদের ছবি সুরক্ষার একাধিক স্তর রয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা আরো বলে, ক্ষতিকারক বিষয়গুলো শনাক্ত ও ব্লক করতে তারা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং মানুষের দ্বারা পর্যালোচনার পদ্ধতি একসাথে ব্যবহার করে। ব্যবহারকারীরা যেসব ক্ষতিকারক ছবি বা কন্টেন্ট আপলোড করে, সেগুলো ব্লক করার জন্যও তাদের ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের নীতিমালায় যৌন সহিংসতা, সম্মতিহীন অন্তরঙ্গ কনটেন্ট, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপাদান এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়ানোর চেষ্টাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চ্যাটজিপিটি কীভাবে আচরণ করবে তা নিয়ে ওপেনএআই-এর সর্বশেষ নথিতে বলা হয়েছে: 'এই অ্যাসিস্ট্যান্টের কোনো কামোদ্দীপক ছবি, অবৈধ বা সম্মতিহীন যৌন কার্যকলাপের দৃশ্য অথবা অতিরিক্ত রক্তারক্তির দৃশ্য তৈরি করা উচিত নয়। তবে বৈজ্ঞানিক, ঐতিহাসিক, সংবাদ, শৈল্পিক বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে যেখানে সংবেদনশীল কনটেন্ট মানানসই, সেখানে এটি করা যেতে পারে।' কিন্তু এআই মডেলগুলোকে এই ধরণের সূক্ষ্ম নিয়ম ও নিরাপত্তা বেষ্টনী পুরোপুরি মেনে চলতে বাধ্য করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এআই মডেল মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ এবং ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’-এর প্রধান নির্বাহী ডক্টর রুমান চৌধুরী মনে করেন, কম্পানিগুলোর সামনে এখন 'পাহাড়সম' চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি বলেন, এটি আসলে 'চোর-পুলিশ খেলার' মতো। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যত উন্নত হচ্ছে, তা ফাঁকি দেওয়ার উপায়গুলোও তত বেশি আধুনিক হচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, মানুষ যেভাবে বোঝে, এআই মডেলগুলো সেভাবে বোঝে না যে তারা কী তৈরি করছে বা তাদের কী করতে নিষেধ করা হচ্ছে। তিনি বিবিসি নিউজকে বলেন, এই মডেলগুলো মানুষের উদ্দেশ্য বোঝে না। তারা প্রেক্ষাপট বোঝে না। তারা শালীনতা বা ভালো-মন্দ বোঝে না।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'এআই মডেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে, তবে এখনও অনেক কাজ করা বাকি আছে।' তারা আরো বলেন, এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট নতুন মডেলগুলো বাজারে ছাড়ার আগে নিরাপত্তা জোরদার করতে তারা ডেভেলপারদের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে।

সিসিটিভিতে নজরদারি, নির্যাতন—৪৮ দিনেই নিভে গেল বিশাখার জীবন

অনলাইন ডেস্ক
সিসিটিভিতে নজরদারি, নির্যাতন—৪৮ দিনেই নিভে গেল বিশাখার জীবন
ছবি : এনডিটিভি।

মাত্র ২৬ বছর বয়সেই থেমে যায় বিশাখা তিলকরের জীবন। অভিযোগ রয়েছে, ডাক্তার স্বামী নিতিন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে তার দিনগুলো এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল যে, শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। গত ৩০ এপ্রিল বিশাখা ও নিতিনের বিয়ে হয়। কিন্তু সেই সংসার টিকেছিল মাত্র ৪৮ দিন। 

বিশাখা মুম্বাইয়ের কাছের থানে জেলায় তার স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। পরিবারের অভিযোগ, এক নারী প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলার কারণেও তিনি শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে মারধরের শিকার হন। তবে নির্যাতন শুধু শারীরিক ছিল না।

অভিযোগ অনুযায়ী, আম্বারনাথে তাদের বাড়ির ভেতরে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো ছিল। বিশাখার স্বামী নিতিন তিলকর সারাক্ষণ তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রাখতেন। ফলে বিশাখার ব্যক্তিগত জীবন প্রায় সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

বিশাখার পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বিয়ের পরই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তাদের অভিযোগ, বিয়ের সময় প্রত্যাশিত পরিমাণ উপহার এবং কাঙ্ক্ষিত মাত্রার ‘সম্মান’ না পাওয়ায় বিশাখার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অসন্তুষ্ট ছিলেন।

পরিবারের এক সদস্যের অভিযোগ, ‘বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে গয়না ও টাকা এনে দিতে বিশাখার ওপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করা হতো।’ এ ছাড়া তার স্বামী নিতিন তিলকর বাড়ির ভেতরে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে বিশাখার প্রতিটি চলাফেরার ওপর নজরদারি করতেন বলে পরিবার দাবি করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘যখনই তিনি কারো সঙ্গে কথা বলতেন, বাড়ি ফিরলেই তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হতো। আত্মহত্যা করার দুদিন আগে, এক নারী প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলার জন্য তাকে মারধর করা হয়েছিল। হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেন।’

পরিবার জানিয়েছে, আত্মহত্যার আগে বিশাখা তার মাকে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা বলেছিল। তার বাবা-মা তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার চেষ্টার মধ্যেই খবর পান, তাদের মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। 

আম্বারনাথের শিবাজিনগর থানায় বিশাখার স্বামী নিতিন তিলকর, শাশুড়ি ছায়া তিলকর ও দেবর নিনাদের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, নিতিন তিলকরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সই, এবার নজর বাস্তবায়নে

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সই, এবার নজর বাস্তবায়নে
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাত বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান। চুক্তিটি সই হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উভয় দেশ।

জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজে এই সই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

চুক্তি সইয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাখোঁ বলেন, ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেছেন। তার মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাখোঁ আরো বলেন, এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইরানও চুক্তিতে সই করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর চূড়ান্ত খসড়ায় দুই দেশের প্রেসিডেন্ট সই করেছেন। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তিটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভার্সাইয়ে নথিতে সই করা হয়ে গেছে। তবে ইরান জানিয়েছে, জেনেভায় নির্ধারিত বৈঠক আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চূড়ান্ত চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। চুক্তির নথিতে সই হওয়ার পর এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা চূড়ান্ত চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা সম্পন্ন করবে।

এর আগে বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা এক কনফারেন্স কলে বৈঠকে চুক্তির বিভিন্ন অংশ পড়ে শোনান। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, চুক্তি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছিল। সেই চাপের মুখেই চুক্তির বিভিন্ন অংশ প্রকাশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম এই চুক্তির ঘোষণা দেন গত রবিবার। চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননসহ সব জায়গায় চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।

এছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগের মতো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, ইরান ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। এ সময় জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১১০ দিন ধরে চলা সংঘাতের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর প্রথম হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধের দিকে গড়ায়। এরপর টানা কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘাত চলতে থাকে। নতুন এই সমঝোতার ফলে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।