• ই-পেপার

গাজায় নিহত সহায়তাকর্মীদের শেষ মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ

  • ইসরায়েলের দাবি খণ্ডন

শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে তেহরানে রুশ-চীনের প্রতিনিধিদের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে তেহরানে রুশ-চীনের প্রতিনিধিদের বৈঠক
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাবের ‘সর্বশেষ অগ্রগতি’ নিয়ে তেহরানে রুশ ও চীনা রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি।

দেশটির স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ) গরিবাবাদির একটি বিবৃতির বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, বৈঠকে ইসলামাবাদে খসড়া সমঝোতা স্মারক সম্পর্কিত সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে মতামত বিনিময় ও আলোচনা হয়েছে।

আরো বলা হয়েছে, ইরান, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারি এবং এই তিন দেশের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, যার সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হয়নি। গত মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার ইরানি প্রতিপক্ষের বেইজিং সফরের পর চলমান আলোচনাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে ক্রেমলিন মার্কিন সৈন্য ও সরঞ্জামের অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে ইরানের সংসদ স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বিজয় না আসা পর্যন্ত তেহরান দৃঢ় থাকবে বলে জানিয়েছেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং তেহরান তার অবস্থানে অটল থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে গালিবফ বলেছেন, তারা নিরীহ শিশুদের হত্যা করেছে এবং কোনো অপরাধ বা নিষ্ঠুরতা থেকে বিরত থাকেনি।

তিনি আরো বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের বীর ও নির্যাতিত শহীদদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, আমরা আমাদের প্রিয় ইরানের গৌরব ও চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে পাশে থাকব।

গাড়ি থামিয়ে গুলি করে ৭ মাসের শিশুকে হত্যা, বিচার দাবি পরিবারের

অনলাইন ডেস্ক
গাড়ি থামিয়ে গুলি করে ৭ মাসের শিশুকে হত্যা, বিচার দাবি পরিবারের
সংগৃহীত ছবি

অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহাসিক শহর হেবরনে ৭ মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। নিহত শিশু সাম আবু হাইকালের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী সেনার শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন বলছে, গত ৫ জুন বাবা ফাহদ আবু হাইকাল তার পরিবারকে নিয়ে হেবরনের একটি সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সামনে ইসরায়েলি সেনাদের একটি দল দেখতে পান। তিনি গাড়ির গতি কমিয়ে থামানোর চেষ্টা করলে এক সেনা সদস্য রাইফেল তাক করে গুলি চালায় বলে পরিবারের দাবি।

একটি গুলি গাড়ির সামনের অংশে আঘাত করলেও আরেকটি গুলি উইন্ডশিল্ড ভেদ করে স্টিয়ারিং হুইল স্পর্শ করে ফাহাদের হাতে লাগে এবং পরে তার ৭ মাস বয়সী ছেলে সামের মাথায় আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানায় চিকিৎসকরা।

ভিন্ন চিত্র

ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করে, সেনারা একটি গাড়িকে নিজেদের দিকে দ্রুতগতিতে আসতে দেখেছিল এবং সে কারণেই একজন সেনা সদস্য গুলি চালিয়েছিল।

তবে মানবাধিকার সংস্থা বি’ৎসেলেমের সংগ্রহ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িটি সেনাদের কাছে পৌঁছানোর আগেই ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছিল। পরিবারের সদস্যরা এবং ভিডিও ধারণকারী প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, গাড়ি থামার মুহূর্তেই গুলি ছোড়া হয়।

ফাহদের মা ফেরিয়াল আবু হাইকাল বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম তারা আমাদের ফিরে যেতে বলবে বা সতর্ক করতে আকাশে গুলি করবে। কিন্তু তারা কোনো সতর্কতা ছাড়াই গুলি চালায়।’

ভিডিওতে আরো দেখা যায়, গুলি করার পর সেনাটি ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে সরে যায়। পরিবারের দাবি, সেখানে উপস্থিত কোনো সেনা আহত শিশু বা তার মাকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেনি।

তদন্ত শুরুর আশ্বাসেও আস্থাহীন পরিবার

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার পর সেনারা এলাকায় ফিরে এসে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করে নিয়ে যায়।

ফাহদ আবু হাইকাল তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তবে তার বিশ্বাস, গুলিটি ইচ্ছাকৃতভাবেই ছোড়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন সামনে কাউকে দেখেন, তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন, তখন সেটিকে ভুল বলা যায় না। ওই সেনা সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি করেছে।’

শোক আর ক্ষোভে পরিবার

সামের মা দানিয়া আবু হাইকাল এখনো শারীরিক ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যে গুলিতে তার ছেলে নিহত হয়, তার একটি অংশ দানিয়ার মুখেও আঘাত করে। এছাড়া শরীরে এখনও ধাতব টুকরো রয়ে গেছে, যা হৃদযন্ত্রের খুব কাছে থাকায় চিকিৎসকেরা অপসারণের ঝুঁকি নিতে চাননি।

একমাত্র সন্তানকে হারানোর বেদনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বুকের দুধ খাওয়াতাম। এখন বুকের দুধ জমে ব্যথা করছে। প্রতিবার দুধ বের করার যন্ত্র ব্যবহার করলে আমি কেঁদে ফেলি।’

সামের নানা নিদাল সালামেহ বলেন, তার ৭ নাতি-নাতনির মধ্যে সাম ছিল সবচেয়ে প্রিয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই নিষ্পাপ ৭ মাসের শিশুটি তাদের কী ক্ষতি করেছিল?’

বাবার আর্তনাদ ও ভীতি

ছেলের মৃত্যুর কয়েক দিন পরও দানিয়া শুধু শোকে নয়, ক্ষোভেও ভুগছেন। তার অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় ইসরায়েলি সেনারা খুব কম ক্ষেত্রেই জবাবদিহির মুখোমুখি হয়।

তিনি বলেন, ‘যে সেনা আমার সন্তানকে হত্যা করেছে, সে যেন আমার এই কষ্ট অনুভব করতে পারে। তাকে শাস্তি পেতেই হবে। সে যেন পার পেয়ে না যায়।’

মানবাধিকার সংস্থা বি’ৎসেলেমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অন্তত ২৩৬ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। চলতি বছর নিহত শিশুদের মধ্যে সাম আবু হাইকাল ছিলেন ১৩তম।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ পাঁচ মাসের যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত অবসানে একটি শান্তিচুক্তির কাঠামোতে সম্মত হয়েছে এবং চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াও প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

শনিবার এক বক্তব্যে তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মূল বিষয়গুলো নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।

শেহবাজ শরিফের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এরপর পরবর্তী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চুক্তি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, এই সমঝোতা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছিল। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং কূটনৈতিক আলোচনার নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি আসেনি।

অস্ট্রেলিয়ার পারামাট্টা নদী থেকে বাবা-শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার

শিপন আহমদ, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার পারামাট্টা নদী থেকে বাবা-শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আবারও ঘটেছে এক মর্মস্পর্শী পারিবারিক ট্র্যাজেডি। শহরের পশ্চিমাঞ্চলের পারামাট্টা নদী থেকে এক ব্যক্তি ও তার সাত বছর বয়সী কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় কমিউনিটিতে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের আগে কনকর্ড এলাকার হেন অ্যান্ড চিকেন বে সংলগ্ন নদীতে এক ব্যক্তিকে পানিতে ভাসতে দেখে পথচারীরা। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে জরুরি সেবা বিভাগে খবর দেওয়া হলে পুলিশ, মেরিন রেসকিউ ও অ্যাম্বুল্যান্সকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

উদ্ধারকারীরা ওই ব্যক্তিকে নদী থেকে তুলে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, তার সঙ্গে থাকা সাত বছর বয়সী কন্যা নিখোঁজ রয়েছে।

এরপর শুরু হয় ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান। পুলিশ ডুবুরিদল, মেরিন ইউনিট এবং আকাশপথে অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে,পরিবারটি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়েস্টমিড এলাকার বাসিন্দা ছিল। ঘটনার দিন তারা একটি ভাড়াকৃত নৌকা ব্যবহার করছিলেন। শিশুটি পরিবারের একমাত্র সন্তান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বারউড পুলিশ এরিয়া কমান্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পারিবারিক সহিংসতা, দুর্ঘটনা অথবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। 

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সংকট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সংকটের সময়ে দ্রুত সহায়তা নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি চিহ্নিত করা অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।