• ই-পেপার

কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে রুশ হামলা, নিহত ৪

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

চুক্তি চূড়ান্তে তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারী

অনলাইন ডেস্ক
চুক্তি চূড়ান্তে তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারী
সংগৃহীত ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র  যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে তেহরান সফর করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। রবিবার (১৪ জুন) ইসলামাবাদের দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র  যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তির আরো কাছাকাছি পৌঁছেছে। কারণ চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা রবিবার তেহরানে গেছেন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান , যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অবশেষে এমন একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে যা হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটানো সংঘাত বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে। 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শনিবার বলেছেন, চুক্তিটি রবিবার স্বাক্ষরিত হতে পারে। এ সময় ট্রাম্প আরো বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।’

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তিটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হতে পারে। 

চুক্তিটি কোনো সশরীরে উপস্থিতির অনুষ্ঠান ছাড়াই ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও কখন বা কিভাবে এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তারা।

তাদের ভাষ্য মতে, এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সবচেয়ে জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান করেতে পারে। কর্মকর্তারা আলোচনা পরিচালনায় পাকিস্তানের মাসব্যাপী প্রচেষ্টার কথা বর্ণনা করেছেন, যেখানে উভয় পক্ষকে আলোচনা কক্ষ ছেড়ে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং একাধিকবার আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার কথাও বলেছেন তারা।

আলোচিত চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং এর প্রক্সি শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করার মূল লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই চুক্তিতে কীভাবে এই বিষয়গুলোর সমাধান করা হবে, বা এগুলো চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জলপথটি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারের মতো সংশ্লিষ্ট পণ্যের উল্লেখযোগ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এটি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

উল্লেখ্য, এই চক্তির অগ্রগতি এসেছে সপ্তাহের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পর, যা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে মধ্যপ্রাচ্যকে আবার পুরোদস্তুর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করেছিল। ৭ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

সাঁতারুদের সুরক্ষায় সৈকতে ড্রোন ব্যবহারের নিয়ম পাল্টাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
সাঁতারুদের সুরক্ষায় সৈকতে ড্রোন ব্যবহারের নিয়ম পাল্টাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
ছবি : রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি সৈকতে হাঙরের হামলায় একজন নারী গুরুতর আহত হওয়ার পর, সেখানকার ড্রোন ওড়ানোর নিয়ম পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কুগি নামের ওই সৈকতটিতে হাঙরের ওপর নজরদারি বাড়াতে যেন উদ্ধারকারীরা সহজে ড্রোন ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে পূর্ব সিডনির কুগি সৈকতে তীর থেকে মাত্র ১০০ ফুট দূরে এক ৩৫ বছর বয়সী নারীকে একটি হাঙর কামড় দেয়। এতে তার বাম পায়ের নিচের অংশ এবং হাত গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনার পর কুগি বিচসহ আশেপাশের কয়েকটি সৈকত ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে ড্রোনের সাহায্যে হাঙরটির সন্ধান করা হয়। ঘটনার সময় প্যাডেলবোর্ড চ্যাম্পিয়ন চার্লি ভার্কো (২৫) ওই নারীকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, সাঁতারুদের কাছাকাছি প্রায় তিন থেকে চার মিটার লম্বা একটি হাঙর দেখে তিনি অত্যন্ত ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইশারার মাধ্যমে সৈকতে থাকা অন্য লাইফগার্ডদের সতর্ক করেন এবং পানি থেকে সবাইকে দ্রুত উঠে আসার ব্যবস্থা করেন।

সিডনির কুগি সৈকতটি মূলত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান চলাচলের পথের নিচে অবস্থিত। বিমান সুরক্ষার কারণে এই এলাকায় সাধারণ বা বাণিজ্যিক ড্রোন ওড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সাঁতারুদের নিরাপত্তার জন্য ড্রোন দিয়ে হাঙরের ওপর নজর রাখা জরুরি হওয়ায়, দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এখন এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী টারা মোরিয়ার্টি জানিয়েছেন, সিডনিতে হাঙরের উপদ্রব ও আক্রমণের কারণে এই গ্রীষ্মকালটা বেশ কঠিন যাচ্ছে। সাঁতারুদের নিরাপদ রাখতে সরকার ড্রোন ও অন্যান্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

সূত্র : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, ধ্বংসাবশেষ থেকে পাহাড়ে দাবানল

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, ধ্বংসাবশেষ থেকে পাহাড়ে দাবানল
ছবি : নাচেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টিতে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পাহাড়ে দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রিমরক লেকের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইয়াকিমা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, বিমান বিধ্বস্তের পর পাইলট নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। পরে আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা আরো জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন মেরিন কোরের এক বিবৃতির বরাতে কিরো টিভি জানায়, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এফ/এ-১৮ হরনেট মডেলের। এটি ‘মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ ১১, তৃতীয় মেরিন এয়ারক্রাফট উইং’-এর অধীনে নিয়োজিত ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটনের সিয়াটল শহরের প্রায় ৫৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

নাচেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ও ওকানোগান-ওয়েনাচি ন্যাশনাল ফরেস্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি ফায়ার ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটুকু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া বিমান বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানান তারা।

কোচিং সেন্টার দ্বন্দ্ব

রওশন স্যার কারাবন্দি, ভাইয়ের রহস্যজনক ‘মৃত্যু’

অনলাইন ডেস্ক
রওশন স্যার কারাবন্দি, ভাইয়ের রহস্যজনক ‘মৃত্যু’
সংগৃহীত ছবি

ভারতের বিহারের জনপ্রিয় শিক্ষক রওশন আনন্দ ওরপে ‘রওশন স্যার’ এবং ফয়সাল খান ওরফে ‘খান স্যার’। তাদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এক সঙ্গে পরিচালনা হতো জ্ঞান বিন্দু জিএস একাডেমি এবং খান গ্লোবাল স্টাডিজ নামের দুই কোচিং সেন্টার। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে এই দুই প্রতিষ্ঠান নিয়ে তাদের মধ্যে চরম বিরোধ চলছিল।

চলতি মাসের শুরুতে এই বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এক পর্যায়ে খান স্যারের একাডেমিতে ভাঙচুর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এর পরপরই রওশন স্যারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে নেপালে তার ভাই প্রিন্সের মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে খান স্যার আদালতের কাছ থেকে সাময়িক সুরক্ষা পান, ফলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আর এই ঘটনার দায়ে করা মামলায় একজন অভিযুক্ত ছিলেন প্রিন্স। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি অন্তত ছয় বন্ধুর সঙ্গে নেপালে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলার একটি মামলাতেও অভিযুক্ত ছিলেন প্রিন্স। অভিযোগ ছিল, তিনি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

গত কয়েক বছরে খান স্যার একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে রওশন স্যার তার প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা এবং কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা সংগঠিত করেছেন। অন্যদিকে রওশন স্যারও খান স্যারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। ২০২৩ সালে তার কোচিং সেন্টারে সংঘটিত ভাঙচুরের পেছনে খান স্যারের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন।

এনডিটিভির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ভাঙচুরের ঘটনাটি বিহার পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়। দুই কোচিং প্রতিষ্ঠানই বিপুলসংখ্যক সফল প্রার্থীর কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করে। এ নিয়ে পোস্টার ছেঁড়া, সমর্থকদের মধ্যে মারামারি এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

তবে এই দ্বন্দ্বের শিকড় আরও গভীরে। পাটনার মুসাল্লাহপুর এলাকার কিষাণ কোল্ড স্টোরেজ ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বর্তমানে খান স্যার ও রওশন স্যার—উভয়ের কোচিং সেন্টারই ওই ক্যাম্পাস থেকে পরিচালিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিন্সের মৃত্যুর কারণ জানতে নেপাল ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে রুশ হামলা, নিহত ৪ | কালের কণ্ঠ