• ই-পেপার

চিকিৎসককে ধর্ষণ-হত্যা : ভারতজুড়ে বিক্ষোভে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা

তৃণমূলকে ‘উপড়ে’ ফেলা অপরিচিত দল এনসিপিআই সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
তৃণমূলকে ‘উপড়ে’ ফেলা অপরিচিত দল এনসিপিআই সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে

ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই নামে যে কোনো রাজনৈতিক দল আছে, সেটা গতকাল রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্তও প্রায় কেউ জানতেন না। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা এই এনসিপিআই দলটি তৃণমূলকে ‘উপড়ে’ ফেলেছে। কারণ তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা যোগ দিচ্ছেন এ দলে।

তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানান, তাদের ব্লক এনসিপিআইতে যোগ দেবে, তখনই দলটির নাম প্রথম শোনা যায়।

জনকৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা এনসিপিআই হঠাৎ করেই ফেসবুক পেজ খুলে ফেলে। পেজটিতে সর্বশেষ ফলোয়ারের সংখ্যা ছিল ৮৭০। এই সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে। দলটির ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, এর প্রধান কার্যালয় পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার সাঁকরাইল থানার হাটগাছা গ্রামে। ত্রিপুরায় আত্মপ্রকাশ করা এই রাজনৈতিক দলটির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সংগঠনিক দায়িত্বে আছেন হাটগাছার বাসিন্দা শিউলি কুন্ডু।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, পেশায় আইনজীবী শিউলি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালনা করেন। তার স্বামী উত্তীয় কুন্ডুও এ কাজে সহযোগিতা করেন। এনসিপিআই-এর ফেসবুক পেজে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানিয়ে একাধিক পোস্ট করা হয়েছে।

এর মধ্যে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় দলের নেতা হিসেবে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি পোস্টও করা হয়েছিল। তবে পরে সেটি মুছে ফেলা হয়।

আরেকটি পোস্টে এনসিপিআই দাবি করে, লোকসভায় বিধায়কের সংখ্যার বিচারে তারাই পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় দল। ওই পোস্টে প্রকাশিত একটি গ্রাফিকে দেখানো হয়, রাজ্যে বিজেপির ১২ জন, তৃণমূলের ৮ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন বিধায়ক রয়েছেন। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, এনসিপিআই-এর সাংসদ সংখ্যা ২০। 

পোস্টে লেখা হয়, ‘লোকসভায় ২০টি আসন নিয়ে এনসিপিআই এখন সংসদীয় শক্তির বিচারে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি এবং জাতীয় পর্যায়ে রাজ্যের কণ্ঠস্বর।’

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) ২০২৩ সালে নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল (আরইউপিপি) হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। দলটি ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে দুটি আসনে প্রার্থী দেয়, কৈলাসহর ও চউমানুতে। তাদের নির্বাচনী প্রতীক ছিল কলমের নিব ও সাতটি রশ্মি। তবে কোনো প্রার্থীই জয়ী হতে পারেননি। কৈলাসহর আসনে দলের প্রার্থী জাহাঙ্গির আলি ২৮৬ ভোট পান এবং চউমানু আসনে বড়জেদা ত্রিপুরা পান ৫৩৬ ভোট।

জল্পনা থাকলেও রবিবার লোকসভার বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ নতুন দল এনসিপিআই-এর পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিধানসভায় আগের বিদ্রোহ ও জটিল পরিস্থিতি দেখে লোকসভার বিদ্রোহীরা সতর্ক অবস্থান নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে বিধানসভায় দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী বিধায়কেরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। তিনি পরে বিরোধী দলনেতা হন। তবে এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং বিষয়টি আদালতে পৌঁছায়। 

তৃণমূলের দাবি, বহিষ্কৃত কেউ কিভাবে বিরোধী দলনেতা হতে পারেন, এই প্রশ্ন তুলে মামলা এখনো হাইকোর্টে বিচারাধীন। এই আইনি জটিলতা মাথায় রেখেই লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদেরা ঝুঁকি এড়িয়ে নতুন অবস্থান নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

স্থানীয়দের মতে, ২০২২ সাল থেকে হাটগাছায় এনসিপিআই-এর কার্যালয় রয়েছে। দলটি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তবে পরে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। আলোচনায় আসার পরেই দলটির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বহু মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। তবে সেখানে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এনসিপিআই-এর কার্যালয়ের সামনে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাওড়ার ঝোড়হাট গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি আসনে এনসিপিআই প্রার্থী দেওয়ার পরই তারা প্রথম এই দলের নাম শোনেন। তবে এরপর লোকসভা ও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটিকে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি।

আনন্দবাজারকে এনসিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক জাতীয় সংগঠক সাধারণ সম্পাদক শান্তনু দে বলেন, ‘আমি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আজ যা ঘটেছে, সে সম্পর্কে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আগে জানলে আমি এর বিরোধিতা করতাম। এখনো আমি এর বিরোধিতা করছি।’

তিনি আরো জানান, দলের সভাপতি উত্তীয় কুন্ডু। উত্তীয়র জানান, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের যোগদানের বিষয়ে তিনি আর কিছু বলতে চান না। তবে শান্তনুর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তার দলের যে কার্যকালের মেয়াদ ছিল তা শেষ হয়ে গিয়েছে।’

দলের আরো এক নারী সদস্য শিউলি কুন্ডু বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ছিলাম। পদত্যাগ করেছি, এই মুহূর্তে আমি কিছু বলব না, যা বলার পরে বলব।’ তৃণমূলের এই যোগদানে তিনি খুশি কি না জানতে চাওয়া হলে সংক্ষিপ্ত ভাবে ‘হ্যাঁ’ বলেন এবং তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন বলে জানান। তবে এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি।

 

কেন ঐতিহ্যবাহী রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানাল স্লোভাকিয়া

অনলাইন ডেস্ক
কেন ঐতিহ্যবাহী রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানাল স্লোভাকিয়া
ছবি : এক্স থেকে নেওয়া।

ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্লোভাকিয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে তিনি ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনাও উপভোগ করেন। মোদি এসব রীতির সংস্কৃতি ও ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং একে অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে প্রশংসা করেন। তবে পুরো অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি।

WDFW

প্রাচীন ঐতিহ্য

কালের কণ্ঠ জেনেছে, স্লাভিক সংস্কৃতিতে অতিথিকে রুটি ও লবণ দেওয়া একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সম্মানিত অতিথি এবং নবদম্পতিকে স্বাগত জানাতে এই খাবার পরিবেশন করা হয়। 

এই রীতি আতিথেয়তা, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। পাশাপাশি এটি আয়োজক ও অতিথির মধ্যে বিশ্বাস ও ভালো সম্পর্কের বন্ধন বোঝায়।

এই রীতিতে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় আয়োজকের পক্ষ থেকে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা তরুণীরা একটি বড় গোল রুটি পরিবেশন করেন। রুটিটি রাখা থাকে ‘রুশনিক’ নামে ঐতিহ্যবাহী সূচিকর্মের নকশা করা একটি কাপড়ের ওপর। মূলত সুতি বা লিনেনের কাপড়ের ওপর এই নকশা করা হয়।

রুটির পাশে ছোট একটি পাত্রে লবণ রাখা হয়। আবার কখনো রুটির ওপরেই লবণের ছোট বাটিটি বসানো থাকে। অতিথি রুটি থেকে একটি টুকরো ছিঁড়ে তাতে লবণ লাগিয়ে খান। এটি আয়োজকের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক।

বিয়ের পরও নবদম্পতিকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বর-কনে রুটি ছিঁড়ে লবণ দিয়ে একে অপরকে খাওয়ান। এটি তাদের ভালোবাসা ও নতুন সম্পর্কের প্রতীক। আবার নতুন বাড়িতে ওঠার সময় বা কোনো বিশেষ সম্মানিত অতিথিকে স্বাগত জানাতেও রুটি ও লবণ নিয়ে যাওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে।

রুটির ও লবণের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

স্লাভিক ভাষায় ‘খ্লেবোসোলস্তভো’ (রুটি-লবণ) শব্দটি আজও ব্যবহৃত হয়। এটি অতিথিদের প্রতি আন্তরিক আতিথেয়তা, উদারতা ও সৌহার্দ্য প্রকাশ করতে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় শব্দ এটি। 

স্লাভিক সংস্কৃতিতে রুটিকে পবিত্র খাবার ও জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রুটি পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি এবং কখনো খাবারের অভাব না হওয়ার শুভকামনার প্রতীক।

অন্যদিকে, অতীতে লবণ ছিল খুবই মূল্যবান ও দামি একটি পণ্য। তাই লবণ বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা এবং সম্পর্কের স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, লবণ অশুভ শক্তি, কুদৃষ্টি ও অকল্যাণ দূরে রাখতেও সাহায্য করে।

এদিকে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর এক্সে এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘ব্রাতিস্লাভায় আমাকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। এটি স্লোভাকিয়ার সংস্কৃতি এবং তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের সুন্দর পরিচয়।’

 

এক্সে দেওয়া আরেকটি পোস্টে মোদি স্লোভাকিয়ার মিয়াভা অঞ্চলের লোকনৃত্য দল ‘কোপানিচিয়ারিক’-এর পরিবেশনার কিছু অংশ শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের লোকজ ঐতিহ্য একটি দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।’

 

তিনি আরো বলেন, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়া সফরে এসে সেখানকার ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ। তার মতে, এ ধরনের আন্তরিকতা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে এবং ভারত-স্লোভাকিয়া বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার সন্ধ্যায় তিন দিনের সফরে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছান। রবার্ট ফিকোর আমন্ত্রণে তিনি এই সফর করছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার। ১৯৯৩ সালে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর।

সফরকালে মোদি প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অটোমোবাইল শিল্প, রেলওয়ে উন্নয়নসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পাবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ভারত ও স্লোভাকিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে এবং সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নেবে।

হরমুজে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা চেয়ে শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মোদি

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা চেয়ে শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার অবসান ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ঘোষিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বিশেষ বার্তা দেন। ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এক্স-এর পোস্টে মোদি লেখেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে রাজি হয়েছে ইরান ও আমেরিকা। আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এই যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ভারত আশা করে, এই চুক্তি শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনবে। সমুদ্রপথে চলাচল এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা আসবে। আশা করি যাবতীয় সমস্যা মেটানো হবে আগামী দিনে।’

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের জেরে অন্যান্য দেশের মতো নানাভাবে বিপাকে পড়েছে ভারত। হরমুজে ভারতমুখী জাহাজ চলাচলে সাময়িক অনুমতি মিললেও দেশটিতে দেখা দিয়েছিল জ্বালানি সংকট। সেকারণেই নির্বাচনের পর দফায় দফায় বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম।

সম্প্রতি ভারতীয় নাবিকদের জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এই হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ফলে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতও যথেষ্ট ভুগেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, কবে খুলছে হরমুজ প্রণালি?

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, কবে খুলছে হরমুজ প্রণালি?
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন এক সমঝোতার ফলে দুই দেশের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসানের পথও এই চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হতে পারে।

এক সপ্তাহ ধরে চলা নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সমঝোতা স্মারক সামনে এসেছে। এ সময় বিভিন্ন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ ও পক্ষ দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চালায়। এর আগে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা গেছে।

ধীরে ধীরে খুলবে হরমুজ প্রণালি

চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে আবার চালু করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেন, শুক্রবার চুক্তি সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সেখানে পেতে রাখা মাইন অপসারণ করা হবে। এরপর আবারও এই পথ দিয়ে উভয় দিক থেকে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারবে।

চুক্তির আওতায় ইরান প্রণালি থেকে সব মাইন সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতির অতিরিক্ত ৬০ দিনের সময়সীমায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায় করবে না বলেও জানিয়েছে ইরান। ট্রাম্প আরো বলেন, গত এপ্রিল মাসে ইরানের বন্দরগুলোতে যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল, সেটিও প্রত্যাহার করা হবে। চুক্তিতে উভয় পক্ষের সামরিক হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ হবে। একইভাবে ইরানের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাও বন্ধ থাকবে। ইরান থেকে বের হওয়া জাহাজ আটকানোর কার্যক্রমও স্থগিত করা হবে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজ মালিক ও শিপিং কোম্পানিগুলোকে আবার এই পথে নিয়মিত চলাচলে আস্থা ফিরে পেতে সময় লাগবে। পাশাপাশি জাহাজের বিমা খরচ কমতেও সময় লাগতে পারে।।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন প্রতিশ্রুতি

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান আবারও ঘোষণা দেবে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং ভবিষ্যতেও এমন অস্ত্র সংগ্রহ করবে না। চুক্তি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৯ হাজার কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা চালাবে। এ বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। সূত্রটি আরো জানায়, অন্তত এতটুকু নিশ্চিত করা যায় যে ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইরানের ভেতরেই সম্পন্ন হবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। জানা গেছে, ইরানের মজুতকৃত ইউরেনিয়ামের বেশির ভাগই নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার খুব কাছাকাছি।

অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে ইরান

চুক্তির অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতির বর্ধিত ৬০ দিনের সময়ে ইরানকে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রক্রিয়া একবারে হবে না। ধাপে ধাপে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে। এর মধ্যে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করার বিষয়টিও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা নির্ভর করবে পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয় কি না, তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়াকে 'কাজের ভিত্তিতে অগ্রগতি' ধরনের ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পুরো পরিকল্পনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ধীরে ধীরে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। তিনি বলেন, ইরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারা অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর লক্ষ্য

চুক্তিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নয়, পুরো অঞ্চলে সংঘাত কমিয়ে আনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর চলমান সংঘর্ষও রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই উদ্যোগকে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান- সব পক্ষই সমর্থন করবে বলে তারা আশা করছেন। তার মতে, চুক্তিটি কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, কোনো পক্ষই আত্মরক্ষার অধিকার ছেড়ে দেবে না। যদি ইরান চুক্তির শর্ত মেনে না চলে, তাহলে ইসরায়েল প্রতিক্রিয়া দেখাবে না- এমন আশা করার কোনো কারণ নেই।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অংশ নয় এবং তারা এতে স্বাক্ষরও করছে না। যদিও এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক দফা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের নতুন হামলার ঘটনায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদ্য হওয়া এই সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

   
 

চিকিৎসককে ধর্ষণ-হত্যা : ভারতজুড়ে বিক্ষোভে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা | কালের কণ্ঠ